‘ডিভিশন বেঞ্চ সঠিক নির্দেশ দেয়নি…’, ভরা এজলাসে কেন এমন বললেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়?

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বিচারপতির গঙ্গোপাধ্যায়ের মুখে ডিভিশন বেঞ্চের সমালোচনা। বহু দিন থেকেই চর্চার শিরোনামে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (Justice Abhijit Gangopadhyay)। একদিকে যেমন তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ চাকরিপ্রার্থী থেকে সাধারণ মানুষজন, আবার অন্যদিকে বর্তমান সময়ে তার সমালোচনায়ও সরব হয়েছেন একাংশ। আর এবার ডিভিশন বেঞ্চের এক নির্দেশ সঠিক নয় বলে মন্তব্য করলেন বিচারপতি।

   

ঠিক কি ঘটেছিল? এদিন নিজের এজলাসেই একটি মামলার শুনানি শুনছিলেন বিচারপতি। সেখানেই কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের একটি নির্দেশের তীব্র সমালোচনা করে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “ওই মামলায় ডিভিশন বেঞ্চ সঠিক নির্দেশ দেয়নি।”

সূত্রের খবর, এদিন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসে কিছু পুরনো মামলার শুনানি চলছিল। সেই সময় তার এজলাসে হাতজোড় করে এক যুবককে দাঁড়িয়ে ছিলেন। বিচারপতি তাকে দেখে জিজ্ঞেস করেন, “আপনি হাতজোড় করে দাঁড়িয়ে আছেন কেন?” উত্তরে সেই যুবক জানান, তাকে ঠকানো হয়েছে, পাশাপাশি সুবিচার পাননি বলেও জানান সেই যুবক।

আরও পড়ুন: শুধু বালুই নন, আরও বহু নেতার কালো টাকা সাদা করেছেন শঙ্কর! তালিকায় কারা? ED-র হাতে বিস্ফোরক তথ্য

ওই মুসলিম যুবক বিচারপতিকে বলেন, তিনি ইংরেজি বোঝেন না। বোনের বিয়ের জন্য আড়াই লাখ টাকা জমিয়েছিলেন। একটি মামলার জন্য তিনি কলকাতা হাইকোর্টে আসলে তার আইনজীবী তাকে ভুল বুঝিয়ে মামলার ফাইলিং করার বাবদ এক লাখ টাকা নিয়ে নেয়। শুধু তাই নয়, যুবকের অভিযোগ, আদালতের নির্দেশের কপি নেওয়ার জন্যও বাড়তি এক লাখ টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। বোনের বিয়ের জন্য জমানো টাকার সবটা চলে যাওয়ায় বিপদে পড়ে যান ওই যুবক। তবে এরপরও মামলায় সুবিচার পাননি বলে অভিযোগ ওই যুবকের। ইংরেজি জানে না আইনজীবীর কাছে প্রতারণার শিকার হয়েছেন একথা বুঝতে পেরে আদালতে সবটা জানান ওই যুবক। গোটা ঘটনা শুনে ক্ষুব্ধ হন বিচারপতি।

high court

অন্যদিকে এই ঘটনা শুনে বেজায় চটে যান বিচারপতি। এরপরই ওই মামলার নির্দেশের কপি দেখতে গিয়ে ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশের সমালোচনা করে বিচারপতি বলেন, “সব ক্ষেত্রে ডিভিশন বেঞ্চ সঠিক নির্দেশ দিচ্ছে না।” পাশাপাশি বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘‌গরিব মানুষগুলির ভুলটা কী? ইংরেজি ভাষায় দক্ষ নয় তাদের সাথে এরম হবে? কারও যদি ইংরেজী বলতে অসুবিধা হয় তাহলে আমি বাংলা ভাষাতেই শুনানি শুনব। বাংলা ভাষায় কথা বলাটা অত্যন্ত জরুরি। এখন থেকে আমার এজলাসে বাংলাতেও শুনানি হবে।’‌