টাইমলাইনভারতভাইরাল

আজব কান্ড প্রধান শিক্ষিকার, স্কুল না গিয়েই বেতন তোলেন ৭০,০০০ টাকা

বাংলাহান্ট ডেস্ক : শিক্ষা নিয়ে বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের। বাংলা তোলপাড় শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি নিয়ে। এবার উঠল অন্য বিতর্ক। র্পাঁচ মাস ধরেই স্কুলে আসছেন না প্রধান শিক্ষিকা। অথচ হাজিরা খাতা বলছে তিনি রোজই স্কুলে আসেন এবং ক্লাসও নেন নিয়ম মাফিক! ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরাখণ্ডে। ওই শিক্ষকা দিনের পর দিন, এমনকী মাসের পর মাস বিদ্যালয়ে উপস্থিত না হলেও তাঁর হয়ে প্রক্সি দিয়ে দিতেন এক যুবতী। এই কাজের জন্য যুবতীকে মাসিক বেতনও দিতেন ওই শিক্ষিকা। উত্তরাখণ্ডের একটি স্কুলের এই ঘটনা সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে দেশ জুড়ে। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষিকা ইতিমধ্যেই বরখাস্ত করা হয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তেরও নির্দেশ দিয়েছে ওই রাজ্যের শিক্ষা দপ্তর।

ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরাখণ্ডের পারুই গাড়োয়াল জেলায়। ওই জেলার একেশ্বর ব্লকের বানথোলি গ্রামে রয়েছে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সেখানকার প্রধান শিক্ষিকার নাম দ্রৌপদী মাধায়াল। এই দ্রৌপদীই অদ্ভুত কাণ্ড করে খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন। জানা গিয়েছে, গত পাঁচ মাস ধরে তিনি স্কুলে আসেন না। যদিও ৭০ হাজার টাকা (Indian Rupee) বেতন ঠিক সময় মতোই তুলে নিতেন ব্যাঙ্ক একাউন্ট থেকে। তার থেকে ১০ হাজার টাকা মাইনেতে ভাড়া করেছিলেন নিজের গ্রামেরই এক যুবতীকে। সেই যুবতীই গত কয়েক মাস ধরে স্কুলে যেতেন। এমনকি ছাত্রছাত্রীদের ক্লাসও নিতেন তিনি। এখন প্রশ্ন উঠছে, দিনের পর দিন এমন চালিয়ে গেলেন কী করে ওই শিক্ষিকা? হঠাৎ বিষয়টি জানাই বা গেল কীভাবে?

জানা যাচ্ছে, বেশ কিছু দিন ধরেই অভিযোগ আসছিল। যদিও শুরুতে আমল দেননি স্থানীয় ব্লক শিক্ষা আধিকারিকরা। সম্প্রতি গ্রামবাসীদের থেকে নতুন করে অভিযোগ পেয়েই ওই স্কুলে আচমকা অভিযান চালায় স্কুল শিক্ষা দপ্তর। তাতেই প্রকাশ্যে উঠে আসে এই গভীর জালিয়াতি। এরপরেই অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষিকাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এই বিষয়ে ব্লক শিক্ষা আধিকারিক বুশরা বলেন, ‘আমরা গ্রামবাসীদের কাছে থেকে একাধিকবার অভিযোগ পেয়েছি। প্রধান শিক্ষিকা স্কুলে আসেন না। তিনি পড়ানোর জন্য অন্য এক যুবতীকে ভাড়া করেছেন। গত পাঁচ মাস ধরেই এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। হঠাৎই একদিন স্কুল পরিদর্শনে যাই। তখনই অভিযোগের সত্যতা প্রকাশ্যে আসে।’

জেলার স্কুল শিক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা দ্রৌপদী মাধায়ালের বিরুদ্ধে রাজ্যের শিক্ষা দপ্তরে রিপোর্ট পাঠিয়েছেন। প্রধান শিক্ষিকার পদ থেকে নির্বাসন দেওয়া হয়েছে দ্রৌপদীকে। বর্তমানে তাঁকে একেশ্বর ব্লক শিক্ষা দপ্তরে বদলি করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে বিভাগীয় তদন্তও।

Related Articles

Back to top button