বাংলাহান্ট ডেস্ক : ভারতের (India) সেভেন সিস্টার্স নিয়ে মহম্মদ ইউনূসের সাম্প্রতিক মন্তব্য উদ্বেগ বাড়িয়েছে দিল্লির। ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসের চিন সফরের পর চিকেনস নেক করিডরে নিরাপত্তা আরও জোরদার করার পরিকল্পনা নিচ্ছে ভারত (India)।
ভারতের (India) চিকেনস নেকের (Chickens Neck) গুরুত্ব
ভৌগলিক ও রাজনৈতিক দিক থেকে ভারতের (India) কাছে চিকেনস নেকের (Chickens Neck) গুরুত্ব অপরিসীম। পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চলের একটি সরু ভূখণ্ড ভারতের মূল ভূখণ্ডের সাথে সংযুক্ত করে রেখেছে সেভেন সিস্টার্স বা উত্তর-পূর্ব ভারতকে। পশ্চিমবঙ্গের এই ভূখণ্ড ব্যবহার করেই মূলত যোগাযোগসাধন সম্পন্ন হয় উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলির সাথে।
আরও পড়ুন : সুপ্রিম রায়ে বাতিল ২৬ হাজার চাকরি! তালিকায় জ্বলজ্বল করছে বারাসাত পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলরের নাম
শিলিগুড়ি শহরের পাশ দিয়েই এই পথটি গিয়েছে বলে এটি শিলিগুড়ি করিডর নামে পরিচিত। ভৌগলিক অবস্থানের পাশাপাশি, জাতীয় নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও এই ভূখণ্ড অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কৌশলগত দিক থেকে এই ভূখণ্ডের তাৎপর্যতার কথা মাথায় রেখেই নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা এই অংশটিকে ‘চিকেনস নেক’ নামেও ডেকে থাকেন। ‘চিকেনস নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডর উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলির সাথে ভারতীয় মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রধান মাধ্যম।
আরও পড়ুন : দুঃসময়ের বন্ধু! প্রধানমন্ত্রী মোদীকে সর্বোচ্চ সম্মান প্রদান শ্রীলঙ্কার, অস্বস্তি বাড়ল চিনের
পশ্চিমবঙ্গে (West Bengal) অবস্থিত এই সরু ভূখণ্ডের মাধ্যমেই ভারতীয় (India) মূল ভূখণ্ডের সাথে উত্তর-পূর্বের অরুণাচল প্রদেশ, অসম, মনিপুর, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, সিকিম ও ত্রিপুরার সংযোগ স্থাপন সম্ভব হয়েছে। এই অঞ্চলটির সবথেকে সরু অংশের প্রস্থ মাত্র ২২ কিলোমিটার। এইরকম সরু ভৌগলিক গঠনের কারণেই অঞ্চলটি পরিচিত ‘চিকেনস নেক’ নামে।
হিমালয়ের পাদদেশে বিস্তৃত ৬০ কিলোমিটার লম্বা ও ২১ কিলোমিটার চওড়া এই করিডর বাংলাদেশ ও নেপালের সাথে সীমান্ত ভাগাভাগির ক্ষেত্রে নিয়ে থাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। তারই সাথে ভারতের দুই প্রতিবেশী ভুটান ও চিনের সাথেও ভৌগোলিকগত অবস্থানের দিক থেকে অত্যন্ত কাছে। কোনও কারণে এই ভূখণ্ড অবরুদ্ধ হয়ে পড়লে ভারতীয় মূল ভূখণ্ডের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে উত্তর-পূর্বর।
পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী চিনের তিব্বতের চুম্বি ভ্যালি, সিকিম ও ভুটানের ডোকলাম ট্রাই-জাঙ্কশনের কারণে কৌশলগত দিক থেকেও এই অঞ্চলটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এমনকি পশ্চিমবঙ্গের এই ভূখণ্ডের উপর দিয়ে যাওয়া জাতীয় সড়ক ও রেল ব্যবস্থার মাধ্যমে ভারতীয় মূল ভূখণ্ডের সাথে যোগাযোগ স্থাপন সম্ভব হচ্ছে উত্তর-পূর্বের। পাশাপাশি সেনা সরবরাহ ও মোতায়েনের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে এই করিডর।