ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপের দুনিয়ায় পোস্টকার্ড এখন অতীত! তিন বছরে বাংলায় লেখা হয়নি একটিও চিঠি

বাংলা হান্ট ডেস্ক : সোশ্যাল মিডিয়ার (Social Media) যুগে পোস্ট কার্ড (Post Card) আজ নেই বললেই চলে। যেটির মাধ্যমে এককালে মানুষের আবেগ, প্রেম, ভালোবাসা একে ওপরের কাছে পৌঁছাতো, সেটি আজ প্রায় শেষের মুখে। কারণ এই হোয়াটস অ্যাপ (WhatsApp), ফেসবুকের (Facebook) যুগে কেউ তো আর চিঠি লেখে না। আগের সেই ইনল্যান্ড লেটারে (Inland Letter) লেখা চিঠির আবেগ এখন প্রায় বিলুপ্ত বলা যেতেই পারে।

   

সূত্রের খবর, গত তিন বছরে একটাও পোস্ট কার্ড কোনও পোস্ট অফিস (Post Office) থেকে কারও বাড়ি যায়নি। কারণ কেউ তো চিঠি লেখেনি। গত কিছু বছর আগে পর্যন্তও বাঙালির ঘরে একটা না একটা পোস্ট কার্ড আসতই। ধরুন যেমন ‘পয়লা বৈশাখ’, ‘শুভ বিজয়া’ ইত্যাদি। অমুক-তমুক কারণে বাঙালির ঘরে একটা হলেও পোস্ট কার্ড এসে পৌঁছাতো। কিন্তু ধীরে ধীরে এই রেওয়াজ এখন প্রায় বন্ধের মুখে।

একটা সময় শুধু অধ্যাপক, কবি, মহৎ-ব্যক্তিরাই নন, শিক্ষিত প্রতিটি ব্যক্তিরই অভ্যাস ছিল চিঠি লেখার। আগেকার দিনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (Rabindranath Thakur), কিংবা অলোকরঞ্জন দাশগুপ্তর (Alokranjan Dasgupta) মত মানুষেরা অনেক চিঠি লিখেছেন। কিন্তু এখনকার প্রজন্মের আশেপাশে জড়িয়ে রয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক, টুইটার (Twitter), ইনস্টাগ্রাম (Instagram) প্রভৃতি। তাই আজ আর সেভাবে কারও কাছে নিজে হাতে লেখার সময়টুকু নেই বললেই চলে।

705a4c7adcc85a6c35e3dc7ff71b2067

তাই এই বিষয়ে ওয়েস্ট বেঙ্গলের (West Bengal) পোস্ট মাস্টার জেনারেল নীরজ কুমার (Niraj Kumar) বলেছেন, ‘সভ্যতার এই নতুন বিকাশে চিঠির অবদান অনস্বীকার্য। দেড় পাতার মোটা হলুদ পোস্ট কার্ড অথবা ইনল্যান্ড লেটার আজ আমাদের ভাবাই। ভাবাই যে কতটা লেখা উচিত? লেখার কোন জায়গায় থামতে হবে?’ তিনি এ কথাও বলেছেন, চিঠি লেখার প্রতিযোগিতা শুরু করা হবে রাজ্যে। এই পদক্ষেপ নেওয়ার আসল কারণ হল স্কুলের পড়ুয়ারা যাতে নিজেদের ঐতিহ্যকে না হারায়। কারণ চিঠি লেখার সেই আবেগ এবং অনুভূতি এখনকার হোয়াটস অ্যাপ, ফেসবুকের লেখার মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য।