বাংলা হান্ট ডেস্ক কিছুদিন আগেই বিশ্ব যোগ দিবসে একদিনে সব থেকে বেশি ভ্যাকসিন দেওয়ার রেকর্ড তৈরি করেছিল ভারত। যদিও অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন তার কয়েকদিন আগে ভ্যাকসিন প্রদানের সংখ্যা ছিল যথেষ্ট কম। অর্থাৎ রেকর্ড বানানোর জন্য ভ্যাকসিন বাঁচাচ্ছিল রাজ্যগুলি। এমনকি ২০ জুন মধ্যপ্রদেশে মাত্র ৬৯২ টি ভ্যাকসিন দেওয়ারও রেকর্ড রয়েছে। তবে সার্বিকভাবে ভ্যাকসিন দানের গতি যে অনেকটাই বেড়েছে একথা স্বীকার করতে বাধ্য সকলেই।
গত ১৯ থেকে ২৫ জুনের মধ্যে এক সপ্তাহে প্রায় চার কোটি মানুষকে টিকা দান করেছে ভারত। বিশেষত ভ্যাকসিন নীতির কিছু পরিবর্তন সাধনের পর আরো বেশি ভ্যাকসিন মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। অনেক রাজ্য সরকারই বলছেন, এর আগে ৪৫ ঊর্ধ্বদের জন্য তুলে রাখা ভ্যাকসিন ৪৫ বছরের কম বয়সীদের দেওয়া যেত না। যার জেরে অনেকেই ভ্যাকসিন পাচ্ছিলেন না। কিন্তু এবার সেই নীতিতে বড় পরিবর্তন এনেছে সরকার। আর তাই গতি অনেকটাই বেড়েছে।
জানা গিয়েছে এর আগে পর্যন্ত এক সপ্তাহে সর্বোচ্চ ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছিল ৩-৯ এপ্রিল৷ যার পরিমাণ ছিল ২.৪৭ কোটি। গত সপ্তাহে অর্থাৎ ১২ থেকে ১৮ জুন ভ্যাকসিন পৌঁছে দেওয়া গিয়েছিল মাত্র ২ কোটি ১২ লক্ষ মানুষের কাছে, আর এই সপ্তাহের ভ্যাকসিন পৌঁছেছে প্রায় ৩ কোটি ৯৮ লক্ষ মানুষের কাছে, যা প্রায় দ্বিগুণ। অনেকেই মনে করছেন, এই গতিতে ভ্যাকসিন প্রক্রিয়া চলতে থাকলে আগামী দিনে ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই বিশ্বের ৯৮ কোটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষকে ভ্যাকসিনের ডবল ডোজ পৌঁছে দিতে পারবে কেন্দ্র।
এই গতিতে ভ্যাক্সিনেশন চলতে থাকলে আগামী দিনে তৃতীয় ঢেউকে আটকানো যে অনেকটাই সহজ হবে তা বলাই বাহুল্য। এই সপ্তাহের সেরা পারফরম্যান্স করেছে উত্তর প্রদেশ। শেষ সপ্তাহে তারা ভ্যাকসিন পৌঁছে দিয়েছে প্রায় ৪৫ লক্ষ মানুষের কাছে। উত্তরপ্রদেশ সরকার জানিয়েছে, আগামী দিনে প্রতিদিন ১০ লক্ষ মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়ার টার্গেট রাখছে তারা। অন্যদিকে কো-উইন অ্যাপ অনুসারে গতকাল পশ্চিমবঙ্গের নতুন করে টিকাদান করা হয়েছে, ৩ লক্ষ ২২ হাজারেরও বেশি মানুষকে। গত কয়েকদিন ধরেই এই একই গতি বজায় রেখে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ। গতকাল ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছেন ৬৬ হাজারেরও বেশি মানুষ।