টাইমলাইনভারত

৪ বছর দেশ সেবার পর সরকারি চাকরি, ‘অগ্নিবীর”দের নিশ্চিত কর্মসংস্থানের দায়িত্ব নিচ্ছে ভারতীয় রেল

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ কয়েকদিন পূর্বে কেন্দ্র সরকার দ্বারা ‘অগ্নিপথ’ প্রকল্পের কথা ঘোষণা করা হয়, যেখানে চুক্তিভিত্তিক ভাবে সেনা নিয়োগের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। যদিও এরপরেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভে নামে এক শ্রেণীর মানুষ। এই বিক্ষোভের আঁচ কমাতেই পরবর্তীকালে একাধিক সুযোগ সুবিধার কথা ঘোষণা করা হয় আর এবার আরো এক প্রকল্প আনতে চলেছে তারা। সূত্রের খবর, অবসরপ্রাপ্ত অগ্নিবীরদের জন্য বর্তমানে রেলস্টেশনগুলিতে ক্যাটারিং এবং বহুমুখী স্টলের কথা চিন্তাভাবনা শুরু করেছে কেন্দ্র।

রেলের এক কর্মকর্তার মতে, সরকারের প্রকল্প অনুযায়ী বছরে 40 হাজার অগ্নিবীর নিয়োগ করা হতে চলেছে। যার মধ্যে 10 হাজার সেনাকে পরবর্তীকালে কাজে রাখা হবে এবং বাকি 30 হাজার কর্মী অবসর নেবেন। এই পরিস্থিতিতে রেল এই সকল অগ্নিবীরদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করে দেওয়ার পরিকল্পনা নিচ্ছে।

অপর এক কর্মকর্তার দাবি, “চার বছর পর যেসকল অগ্নিবীররা অবসর নেবেন, তাদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করে দেওয়া আমাদের লক্ষ্য আর এই কারণেই রেলমন্ত্রক দ্বারা তাদের সকলের জন্য প্ল্যাটফর্মগুলিতে স্টল তৈরি করে দেওয়ার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে রেলমন্ত্রী একবার সিলমোহর দিলেই এটি তৈরির কাজ শুরু হবে।”

উল্লেখ্য, অতীতে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব দ্বারা ‘এক স্টেশন এক নীতি’ কার্যকর করা হয়। সেই নীতির অধীনে রেলস্টেশনগুলিতে স্টলও খোলার ব্যাপারে নিশ্চিত করা হয় এবং বর্তমানে অগ্নিবীরদের জন্য সেই সকল স্টল বরাদ্দ করা তাৎপর্যপূর্ণও বটে।

প্রসঙ্গত, কয়েকদিন পূর্বে দেশে সেনা নিয়োগের জন্য ‘অগ্নিপথ’ প্রকল্পটির কথা ঘোষণা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। এই প্রকল্প অনুযায়ী, চার বছরের জন্য চুক্তি ভিত্তিক সেনা নিয়োগ করবে কেন্দ্র। পরবর্তীতে 25% কর্মীকে পুনরায় নিয়োগ করা হবে এবং বাকিদের 11 লক্ষ টাকা পর্যন্ত ভাতা দেবে সরকার। এই ঘোষণাটি করার পরেই দেশের বিভিন্ন রাজ্যে শুরু হয়ে যায় বিক্ষোভ। চুক্তি ভিত্তিক কাজের প্রতি ক্ষোভ উগরে দিয়ে রেল অবরোধ, সড়কে সড়কে বিক্ষোভ ও ইট বৃষ্টির মতো একাধিক ঘটনা সামনে আসে।

যদিও এরপর কেন্দ্র সরকার দ্বারা একাধিক পরিবর্তন নেওয়া হয়। বয়সসীমা যেমন বাড়িয়ে দেওয়া হয়, ঠিক তেমনভাবেই অগ্নিবীরদের জন্য সংরক্ষণের ঘোষণা পর্যন্ত করে সরকার। তবে বর্তমানে কেন্দ্র দ্বারা আনতে চলা একাধিক পরিকল্পনা এই বিক্ষোভকে কতটা সামাল দিতে পারে, সেটাই দেখার।

Related Articles

Back to top button