বাংলা হান্ট ডেস্ক: ভারতীয় রেল (Indian Railways) বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম নেটওয়ার্ক হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ ট্রেনে চেপেই পৌঁছে যা নিজেদের গন্তব্যে। শুধু তাই নয়, সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে রেলের যাত্রীসংখ্যা। ভারতীয় রেলের অধীনে প্রতিদিন প্রায় ১২,৮১৭ টি ট্রেন চলাচল করে। দীপাবলি থেকে শুরু করে ছট পূজা এবং কুম্ভমেলার মতো অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে রেল দ্বারা বিশেষ ট্রেন পরিচালনা করা হয়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় ২.৫ কোটি যাত্রী ট্রেনে যাতায়াত করেন। এমতাবস্থায়, এত বড় নেটওয়ার্ক এবং বিপুল চাহিদার কারণে কিছু ট্রেন প্রতি বছর কয়েকশ কোটি টাকা আয় করে। কিন্তু এরই মধ্যে এমন কিছু ট্রেন রয়েছে যা রেলের ব্যাপক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
এই এক্সপ্রেস ট্রেনের জন্য ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে রেল (Indian Railways):
সর্বোচ্চ আয়যুক্ত ট্রেন: সম্প্রতি রেলের (Indian Railways) প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, বেঙ্গালুরু রাজধানী এক্সপ্রেস সর্বোচ্চ আয়ের রেকর্ড তৈরি করেছে। ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে বেঙ্গালুরু রাজধানী এক্সপ্রেস থেকে ১৭৬ কোটি টাকা আয় করেছে রেল। এদিকে, রাজধানী এক্সপ্রেস ট্রেনগুলিকে তাদের দ্রুত গতি, সুবিধা এবং সময়ানুবর্তিতার কারণে যাত্রীরা বেশি পছন্দ করেন। এই কারণেই এই ট্রেনের আয় ক্রমাগত বাড়ছে।
সবচেয়ে বেশি লোকসান করছে কোন ট্রেন: এদিকে, ভারতীয় রেলের দিল্লি-লখনউ তেজস এক্সপ্রেস এবং আমেদাবাদ-মুম্বাই তেজস এক্সপ্রেস ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এই ট্রেনগুলি গত ৩ বছরে ৬২.৮৮ কোটি টাকা লোকসান করেছে। ভারতীয় রেল (Indian Railways) ২০১৯ সালে এই ট্রেনগুলি পরিচালনার দায়িত্ব IRCTC-কে দিয়েছিল। কিন্তু যাত্রীর অভাবে সেগুলিকে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে।
কেন তেজস এক্সপ্রেসে লোকসান হল: প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, যাত্রী সংখ্যা কম থাকায় দিল্লি থেকে লখনউগামী তেজস এক্সপ্রেসের ক্ষতি হয়েছে ২৭.৫২ কোটি টাকা। এই এক্সপ্রেস ট্রেনে (Indian Railways) প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ টি আসন খালি থাকে। যার সরাসরি প্রভাব পড়ে আয়ের ওপর। আসলে, তেজস এক্সপ্রেসের আগেও রাজধানী এবং শতাব্দী এক্সপ্রেস চলাচল করে। যাদের ভাড়া তেজসের থেকে কম এবং সুবিধাও ভালো। তাই যাত্রীরা প্রথমে রাজধানী বা শতাব্দীতে টিকিট বুক করার চেষ্টা করেন। যখন ওই ট্রেনগুলিতে আসন পাওয়া যায় না তখন তাঁরা তেজসের টিকিট বুক করে থাকেন।
আরও পড়ুন: ভারতের কামাল! এবার এই সেক্টরে “খেল খতম” হবে চিনের, বড় আপডেট সামনে আনলেন বৈষ্ণব
তেজসের চলাচলে পরিবর্তন: এমতাবস্থায়, যাত্রী কম থাকায় ট্রেনের ফ্রিকোয়েন্সিও কমে গেছে। আগে এই ট্রেন সপ্তাহে ৬ দিন চলত, কিন্তু এখন চলে মাত্র ৪ দিন। করোনার মতো ভয়াবহ মহামারী চলাকালীন, বেশ কয়েকবার এই ট্রেন (Indian Railways) পরিচালনায় পরিবর্তন করা হয়েছিল। ২০১৯ এবং ২০২২-এর মধ্যে, তেজস এক্সপ্রেসকে ৫ বার সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়। ২০১৯-২০ সালে, এই ট্রেন ২.৩৩ কোটি টাকা লাভ করেছিল। কিন্তু তারপর থেকে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয় ট্রেনকে। ২০২০-২১ সালে ১৬.৬৯ কোটি টাকা এবং ২০২১-২২ সালে এই ট্রেন ৮.৫০ কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়।
আরও পড়ুন: চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভুগবে ভারত? এই ৩ টি বড় খামতিই ঘুম ওড়াবে রোহিতদের
এই সম্পর্কে বিশদ বিবরণ দিয়ে, IRCTC-র আধিকারিকরা বলেছেন যে, করোনা মহামারী চলাকালীন ট্রেনগুলি দীর্ঘ সময় ধরে চলেনি। কিন্তু রেলের (Indian Railways) তরফ থেকে ক্রমাগত এই অর্থ প্রদান করা হয়েছে। এর প্রভাবে আয় কমে গিয়ে লোকসান বেড়েছে।