বাংলা হান্ট ডেস্ক: এবার NASA এবং ISRO খুব শীঘ্রই আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে একটি বিশেষ উপগ্রহ পাঠাবে। এই স্যাটেলাইটের নাম দেওয়া হয়েছে নিসার (NISAR)। হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করার পর এই ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আমেরিকা সফরকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহাকাশের ক্ষেত্রে আমেরিকার সঙ্গে আমাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা রয়েছে। গণমাধ্যমের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী মোদী জানান যে, ISRO এবং NASA-র সহযোগিতায় নিসার নামে একটি উপগ্রহ প্রস্তুত করা হবে। খুব শীঘ্রই এটি একটি ভারতীয় লঞ্চিং ভেহিক্যালের মাধ্যমে মহাকাশে পাঠানো হবে বলেও জানা গিয়েছে।
একসাথে প্রস্তুতি নিচ্ছে NASA এবং ISRO:
নিসার কি: NASA-র মতে, নিসার হল NASA এবং ISRO-র যৌথ মিশন। এই মিশনটি নির্ভুলতার সাথে পৃথিবীর পৃষ্ঠের পরিবর্তনগুলি ট্র্যাক করবে। স্যাটেলাইট NISAR হল বিশ্বের প্রথম ডুয়াল-ফ্রিকোয়েন্সি রাডার ইমেজিং স্যাটেলাইট। যেটিতে NASA-র L-band (1.25 GHz) এবং ISRO-র S-band (3.2 GHz) রাডার রয়েছে।এই প্রযুক্তি স্যাটেলাইটটিকে ভূমিকম্প থেকে শুরু করে বনভূমির হ্রাস হওয়া, হিমবাহের গতিবিধি এবং এমনকি প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সৃষ্ট পরিকাঠামোগত ক্ষতি নিরীক্ষণ করবে।
মিশনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: ২.৮ টন ওজনের এই স্যাটেলাইটটি প্রতি ১২ দিনে পৃথিবীর প্রায় সমস্ত ভূমি এবং বরফের পৃষ্ঠের উচ্চ-রেজোলিউশন চিত্র সরবরাহ করবে। এর পাশাপাশি এই স্যাটেলাইট সব ঋতুতেই কাজ করবে। এটি জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত পর্যবেক্ষণ থেকে শুরু করে প্রাকৃতিক দুর্যোগ পর্যবেক্ষণ এবং ভূতাত্ত্বিক কার্যকলাপের কারণে সৃষ্ট ক্ষতি স্টাডি করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠবে।
এর আগে ISRO-র চেয়ারম্যান ভি নারায়ণন নিসার মিশনের তথ্য দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, খুব শীঘ্রই এই মিশন চালু হতে পারে। এদিকে, NASA-ISRO সিন্থেটিক অ্যাপারচার রাডার (NISAR) এর আগে ২০২৪ সালে লঞ্চ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু NASA-র বিজ্ঞানীরা দেখেছেন যে সেটির ১২-মিটারের রিফ্লেক্টর অ্যান্টেনার কিছু উন্নতি প্রয়োজন। এর পর অ্যান্টেনা নিয়ে যাওয়া হয় আমেরিকায়। গত বছর ভারতীয় সংসদে এই তথ্য জানিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং।
আরও পড়ুন: বাঁচিয়েছিলেন ঋষভ পন্থের প্রাণ! সেই যুবকই নিলেন চরম সিদ্ধান্ত, মৃত্যুর সাথে লড়ছেন পাঞ্জা
উল্লেখ্য যে, নরেন্দ্র মোদী আমেরিকা সফরের সময়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। দুই দেশ এই বছর একটি বড় বাণিজ্য চুক্তিতে সম্মত হয়েছে।এর ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে ৫০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বার্ষিক বাণিজ্য হবে। এছাড়াও, শুল্ক থেকে শুরু করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং ট্রাম্পের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।