টাইমলাইনপশ্চিমবঙ্গরাজনীতিকলকাতা

বর্ণ বিদ্বেষী টুইট করে বিতর্কে জহর রায়! বিপদ বুঝে পোস্ট মুছলেন TMC সাংসদ

বাংলাহান্ট ডেস্ক : আরও একবার সংবাদের শিরোনামে জহর সরকার। ব্রাহ্মণদের বিরুদ্ধে বেশ সমালোচক টুইট করে বিতর্কে জড়ালেন তৃণমূলের (TMC) রাজ্যসভার সাংসদ জহর সরকার (Jawhar Sircar)। অবস্থা খারাপ বুঝেই সেই টুইট মুছেও দেন তিনি। কিন্তু তাঁর ওই টুইটের জেরে বিতর্ক শুরু হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায় জুড়ে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক আনন্দ রঙ্গনাথন একটি টুইট করেন। সেই পোস্টের জবাবে বেশ কড়া ভাষায় ব্রাহ্মণবিরোধী বক্তব্য রাখেন জহর। তিনি লেখেন, ‘শিক্ষাও রুক্ষ ও জিনগত ভাবেই উদ্ধত ব্রাহ্মণদের সুস্থ করতে পারেনি। এই ১ শতাংশ বর্ণবাদী সুবিধোভোগীদের জন্যই ৯৯ শতাংশ ভারতীয়র মধ্যে ইসলামোফোবিয়া তৈরি হয়েছে। বৌদ্ধ স্থাপত্যগুলি ধ্বংস করেছিল কারা? ব্রাহ্মণ শাসকরা।’

পোস্ট ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই শুরু হয় বিতর্ক। বহু বিশিষ্টরাই এই টুইটের বিরোধিতা করতে থাকেন। শিব সেনা নেত্রী প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী লেখেন, ‘একটা গোটা সম্প্রদায় সম্পর্কে আপনি ঘৃণ্য মন্তব্য করছেন জহর সরকারজি। আপনার কথাগুলির তীব্র বিরোধিতা করেছি। আপনাকে এমন টুইটের জন্য ক্ষমা চাইতে হবে এবং এটা মুছে দিতে হবে।’

একই দাবি আরও অনেকেই করেন। পরে বাধ্য হয়ে জহর সরকার টুইটটি মুছে দেন। কিন্তু রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ সুনন্দা বশিষ্ঠ লেখেন, ‘ওই ঘৃণাভাষণটি উনি মুছে দিয়েছেন? কিন্তু এই রকম ঘৃণাভাষণের মূল্য দেওয়া উচিত। কেবল টুইট মোছাটাই যথেষ্ট নয়।’ ইতিহাসবিদ বিক্রম সম্পত টুইটারে লেখেন, ‘এটা ভাবতেই অবাক লাগছে যে এই বর্ণবাদী একসময় আমাদের সংস্কৃতি মন্ত্রক ও প্রসার ভারতীর হয়ে কাজ করতেন! তাঁর বিষাক্ত দৃষ্টিভঙ্গি থেকে পরিষ্কার কেন আমাদের সিভিল সার্ভিসের প্রয়োজন।’ সেই সঙ্গে তিনি আরও বলেন, জহর এমন মন্তব্য করলেও আদতে তিনি ‘ইতিহাসের ডাস্টবিনে’ই রয়ে গিয়েছেন এখনও।

Related Articles