বাংলা হান্ট ডেস্কঃ পুনর্গণনার দাবি নিয়ে সর্বপ্রথম আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন নন্দীগ্রামের (Nandigram) পরাজিত প্রার্থী তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী (Mamata Banerjee)। নন্দীগ্রামের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে পুনর্গণনার দাবিতে তিনি হাইকোর্টে মামলা করেছিলেন। ওনার মামলার পর তৃণমূলের আরও চার প্রার্থী একই পথে হেঁটে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী দ্বারা করা মামলার শুনানি শেষ হলেও রায় ঘোষণা করা হয়নি। তৃণমূলের তরফ থেকে একের পর এক মামলা করার পর বিজেপিও তোড়জোড় শুরু করে।
বঙ্গ বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ কমবেশি ৫০টি আসনে পুনর্গণনার দাবি তুলে আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। আর এরই মধ্যে পাণ্ডবেশ্বরের বিজেপি প্রার্থী জিতেন্দ্র তিওয়ারি (Jitendra Tiwari) পুনর্গণনার দাবি তুলে হাইকোর্টে মামলা করলেন। নির্বাচনের আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে নাম লেখানো জিতেন্দ্র তিওয়ারি তৃণমূলের অস্বস্তি বাড়াতেই এই মামলা করেছেন বলে দাবি ওয়াকিবহাল মহলের।
উল্লেখ্য, নিজের চিরাচরিত আসনে একুশের নির্বাচনে বিজেপির টিকিটে প্রার্থী হয়েছিলেন জিতেন্দ্রবাবু। কিন্তু গতবারের বিধায়ক তথা আসানসোলের প্রাক্তন মেয়র একুশের নির্বাচনে জয় ছিনিয়ে নিতে পারেন নি। তিনি পাণ্ডবেশ্বর আসনে মোট ৭০ হাজার ১১৯টি ভোট পান। শতাংশের নিরিখে তা ৪২.৬৮%। আরেকদিকে, ওই কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী ৪৪.৯৯% ভোট পেয়েছিলেন। নরেন্দ্রনাথবাবুর মোট প্রাপ্ত ভোট ৭৩ হাজার ৯২২।
পাণ্ডবেশ্বর আসনে ৩ হাজার ৮০৩ ভোটে তৃণমূল প্রার্থী নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর কাছে পরাজিত হন জিতেন্দ্র তিওয়ারি। আর এবার তিনি সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। যদিও, নিয়ম মাফিক ফলপ্রকাশের ৪৫ দিনের মধ্যে আদালতে মামলা করতে হয়। কিন্তু জিতেন্দ্র তিওয়ারি সেক্ষেত্রে অনেক দেরী করে ফেলেছেন। যদিও, বিজেপি দাবি করেছে যে, করোনার কারণে মামলা করতে দেরী হয়েছে আদালত নিশ্চই সেদিকটা ভেবে দেখবে।