বাংলা হান্ট ডেস্কঃ সত্যিই নজিরবিহীন! যারা রাত দিন এক করে দুর্নীতির তদন্ত করে তাদেরকেই এবার ভালো কাজের মাসুল দিতে হল নিজেদের রক্ত দিয়ে। রেশন দুর্নীতি মামলায় (Ration Scam) ইডির (Enforcement Directorates) অভিযান ঘিরে একেবারে তোলপাড় গেল সন্দেশখালিতে। উত্তর ২৪ পরগনার (North 24 parganas) জেলা পরিষদের মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ কর্মাধ্যক্ষের শেখ শাহজাহানের বাড়িতে তল্লাশিতে গিয়ে তৃণমূল নেতার অনুগামীদের হাতে মার খেয়ে এলাকা ছাড়া ইডি আধিকারিক ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। ভাঙচুর করা হল গাড়িও। এও সম্ভব? লজ্জাজনক এই ঘটনায় এবার মুখ খুললেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।
সন্দেশখালির ঘটনায় কড়া মন্তব্য কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের (Justice Abhijit Ganguly)। এদিন নিয়োগ দুর্নীতির শুনানি চলাকালীন এই ঘটনা বিস্ময়প্রকাশ করেন বিচারপতি। তার স্পষ্ট প্রশ্ন, “যদি তদন্তকারীরা মার খান তাহলে তদন্ত কীভাবে হবে?”এখানেই শেষ নয়, বিচারপতি আরও বলেন, ‘রাজ্যপাল কেন ঘোষণা করছেন না যে এ রাজ্যে সাংবিধানিক পরিকাঠামো ভেঙে পড়েছে?’ জাস্টিস গাঙ্গুলি বলেন, “বন্দুক থাকে না ? চালাতে পারো না? ২ জনকে মেরেছে দুশো জনকে পাঠাও।”
সকাল থেকে এই ইস্যু নিয়ে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। ইতিমধ্যেই গোটা এই বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে (Home Minister Amit Shah) ফোনে জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। কড়া টুইট বার্তা দিয়েছেন ভারতীয় জনতা পার্টির আইটি সেলের জাতীয় আহ্বায়ক অমিত মালব্য।
কি ঘটেছিল? শুক্রবার সাতসকালে ইডির অভিযান ঘিরে একেবারে ধুন্ধুমার বেঁধে যায় উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালিতে। এদিন উত্তর ২৪ পরগনায় দুই তৃণমূল নেতার (TMC Leaders) বাড়িতে হানা দিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। আর সেই খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোরগোল।
আরও পড়ুন: তল্লাশিতে গিয়ে তৃণমূল নেতার কর্মীদের হাতে আক্রান্ত ED! শাহকে ফোন করে যা বললেন শুভেন্দু… তোলপাড়
ইডি আধিকারিকদের ওপর হঠাৎ চড়াও তৃণমূল নেতার অনুগামীরা। কেন না জানিয়ে হানা দিয়েছে ইডি? এই প্রশ্ন তুলেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিক্ষোভকারীরা। ক্রমশ্য উত্তপ্ত হতে থাকে পরিস্থিতি। একসময় সবকিছু এতটাই হাতের বাইরে চলে যায় যে এলাকা ছাড়া হতে বাধ্য হন ইডি আধিকারিকরা। ইডিকেই এলাকা ছাড়া করে তৃণমূল নেতার অনুগামীরা (TMC Workers)।
শুক্রবার সকালে ইডির একটি দল উত্তর চব্বিশ পরগনার বনগাঁ পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান শঙ্কর আঢ্যের শ্বশুরবাড়িতে হানা দেয়। ওদিকে অন্য একটি দল পৌঁছে যায় সন্দেশখালির এক তৃণমূল নেতা শাহজাহান শেখের বাড়ি। শাহজাহানের সরবেড়িয়ার বাড়িতে হানা দেন ইডির আধিকারিকরা।
তবে তৃণমূল নেতার বাড়িতে গিয়ে বারংবার ডাকাডাকি সত্ত্বে সাড়া মেলেনি কারও। সূত্রের খবর এরপর ১ ঘণ্টা অপেক্ষার পর কেন্দ্রীয় বাহিনী তল্লাশির জন্য বাড়ির তালা ভাঙার কাজ শুরু করে। আর তাতেই তাদের ওপর চড়াও হয় উত্তপ্ত জনতা। উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ কর্মাধ্যক্ষের শেখ শাহজাহানের অনুগামীরা ভীড় করে ফেলে গোটা এলাকায়।
হাজার হাজার তৃণমূল কর্মী-সমর্থক শাহজাহানের বাড়ির সামনে জড়ো হন। ইডি হানার বিরুদ্ধে শুরু হয় বিক্ষোভ। এখানেই শেষ নয়, ইডির আধিকারিকদের মারধরও করেন তৃণমূল নেতার অনুগামীরা। মেরে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় ইডি আধিকারিকদের। ভাঙচুর চলে ইডির গাড়ি। এরপর একদম ধাওয়া করে ইডি আধিকারিকদের এলাকা ছাড়া করেন কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী। সাথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের ওপরও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। তৃণমূলের কর্মীদের হাতে আক্রান্ত হন সাংবাদিকরাও।