বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ২৬ হাজার চাকরি বাতিল মামলায় শুরু থেকেই জটিলতা ছিল যোগ্য-অযোগ্য প্রার্থী বাছাই করার বিষয়ে। সুপ্রিম কোর্টে দীর্ঘ শুনানি পর্বের পরেও আলাদা করা যায়নি যোগ্য-অযোগ্যদের তালিকা। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির জেরে এইভাবেই অযোগ্যদের সাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছে যোগ্য প্রার্থীদের নাম। যার ফলে একপ্রকার বাধ্য হয়ে ২০১৬ সালের গোটা প্যানেলটাই বাতিল করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। এই সুযোগে শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) মতো বিরোধী নেতারা সমস্ত দায় চাপাচ্ছে বর্তমান রাজ্য সরকারের ওপর।
ইতিমধ্যেই ২৬ হাজার চাকরি বাতিলের ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী-সহ মন্ত্রিসভার ক্যাবিনেটকে গ্রেফতারের দাবিতে সরব হয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এবার এপ্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তাঁর বিরুদ্ধেই গুরুতর অভিযোগ এনেছেন তৃণমূল সাংসদ তথা প্রবীণ আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Bandyopadhyay)।
শুভেন্দুকে (Suvendu Adhikari) নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য কল্যাণের
শুভেন্দুকে আক্রমণ শানিয়ে সংবাদমাধ্যমে কল্যাণ বলেছেন, ‘শুভেন্দু অধিকারী তখন তৃণমূলে ছিলেন, বাঁকুড়ার ছেলেদের বঞ্চিত করে মেদিনীপুরের সাড়ে তিন হাজার ছেলেকে উনি চাকরি দিয়েছিলেন! আগে ওঁকে জেলে ভরা উচিত। তারপর অন্য কথা হবে!’ যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত বিরোধী দলনেতার কোনও প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।
আরও পড়ুন: বাতিল ২৬ হাজার চাকরি! এবার কারা দেখবেন উচ্চ-মাধ্যমিক পরীক্ষার খাতা? জানিয়ে দিল সংসদ
তবে, শুভেন্দুর বিরুদ্ধে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ আনতে গিয়ে কল্যাণ যে মন্তব্য করেছেন তা নিয়ে তৈরী হয়েছে নতুন বিতর্ক। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে এইভাবে তিনিও আসলে দলের বিরুদ্ধে ওঠা নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগকেই মান্যতা দিলেন।
কি বলেছিলেন শুভেন্দু?
বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সামনে আসার পর সমস্ত রাজ্য সরকারের ওপর চাপিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছিলেন শুভেন্দু। একইসাথে যোগ্য-অযোগ্য বাছাই প্রসঙ্গে বিরোধী নেতা বলেছিলেন, ‘অযোগ্যদের চাকরি পাইয়ে দিতে ২০২২ সালের ৫ মে মন্ত্রিসভা অতিরিক্ত শূন্যপদ তৈরি করেছিল। ওই বৈঠকে উপস্থিত মুখ্যমন্ত্রী-সহ সকলকে গ্রেফতার করে জেরা করলেই যোগ্য অযোগ্য বাছাই সম্ভব।’