‘আমার গায়ের রঙ তো কালো… তাহলে কী আমাকে মেয়র করত!’, হঠাৎ কেন এমন বললেন ফিরহাদ?

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ তৃণমূল কাউন্সিলরের এক বক্তব্য থেকে বিতর্কের সূত্রপাত। বর্ণ বৈষম্যের অভিযোগ ওঠে রাজ্যের শাসক দলের বিরুদ্ধে। সোমবার সেই বিতর্কে ইতি টানলেন কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim)। দল বর্ণবৈষম্য, ধর্ম বৈষম্য সমর্থন করেন না, সাফ জানালেন ববি।

   

বিতর্কের সূত্রপাত কয়েকদিন আগে। বাজেট অধিবেশনের সময় ৯২ নম্বর ওয়ার্ডের বাম কাউন্সিলর মধুছন্দা দেব (Madhuchhanda Deb) বলেন, শহরে বড্ড বেশি এলইডি আলো! কিছুটা কমানো হোক। এর প্রেক্ষিতে ১০৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল (TMC) কাউন্সিলর অরিজিৎ দাস ঠাকুর (Arijit Das Thakur) বলেন, ‘আগে কলকাতা শহর অন্ধকার ছিল। বর্তমান পুর বোর্ড শহরকে আলোকজ্জ্বল করে তুলেছে’।

এখানেই না থেমে বাম কাউন্সিলরকে উদ্দেশ্য করে অরিজিৎ বলেন, ‘এখন আপনি যখন রাস্তান বের হন, আপনাকে তো দিব্যি ফর্সা লাগে’। তৃণমূল (Trinamool Congress) কাউন্সিলরের এহেন বক্তব্যে মনঃক্ষুণ্ণ হন মধুছন্দা দেব। বাম কাউন্সিলরের গায়ের রঙ নিয়েই কি তাহলে খোঁচা দিলেন অরিজিৎ? ওঠে এই প্রশ্ন। এই ঘটনার পর মেয়র পারিষদ দেবাশিষ কুমার ক্ষমা চেয়েছিলেন। তবে তাতেও নেভেনি বিতর্কের আগুন।

আরও পড়ুনঃ ‘অস্বস্তিকর’ প্রশ্ন করলেই চুপ! নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় SSC-কে চরম ভর্ৎসনা হাই কোর্টের

সম্প্রতি মেয়রের কাছে ডেপুটেশন জমা দেয় বামেরা। গতকাল অধিবেশন শুরুর আগে ওয়েলে ওঠেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তিনি নিজে বাম কাউন্সিলরের কাছে ক্ষমা চেয়ে বলেন, ‘আমি নিজে মধুছন্দাদির কাছে ক্ষমা চাইছি। ওনারা ডেপুটেশন দিয়েছেন। আমাদের দল তৃণমূল কংগ্রেস বর্ণবৈষম্য, ধর্মবৈষম্যে উৎসাহ দেয় না’।

এখানেই না থেমে মেয়র বলেন, ‘মধুছন্দাদির থেকে আমার গায়ের রঙ কালো। বর্ণবৈষম্য যদি থাকতো তাহলে তৃণমূল কংগ্রেস একজন কালো মানুষকে মেয়র করতো না’। ফিরহাদের এক কথায় বামেদের অভিমান গলে জল! বাম কাউন্সিলর মধুছন্দা দেব বলেন, ‘মেয়র যেভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে আমারই তাতে খারাপ লাগছে’।

kmc mayor firhad hakim

অপরদিকে যার বক্তব্য থেকে বিতর্কের সূত্রপাত, সেই অরিজিৎ বলেন, ‘কোনও খারাপ উদ্দেশ্য নিয়ে মধুছন্দা দেবকে আমি ওই কথা বলিইনি। ওনাকে আমি সম্মান করি’। তৃণমূল কাউন্সিলর একথা বললেও মধুছন্দা কি ক্ষমা করবেন তাঁকে? জবাবে বাম কাউন্সিলর বলেন, পুত্রসম অরিজিৎকে দেখা হলে একটু শাসন করে দেবেন তিনি। ৯২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের কথায়, ‘ও ছোট ছেলে। আমি তো মায়ের মতো। ভুল করেছে। দেখা হলে একটু ওকে শাসন করে দেব’।

Sneha Paul
Sneha Paul

স্নেহা পাল, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তরের পর সাংবাদিকতা শুরু। বিগত প্রায় ২ বছর ধরে বাংলা হান্ট-এর কনটেন্ট রাইটার হিসেবে নিযুক্ত।

সম্পর্কিত খবর