বাংলা হান্ট ডেস্কঃ অপরাধ মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে ওই রাজনীতিকরা যেন আর নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন। এমনকি তাঁরা যেন আর কখনও সাংসদ বা বিধায়ক পদে ফিরতে না পারেন। এই মর্মে আজীবন নিষেধাজ্ঞা চেয়ে মামলা জমা পড়েছিল আদালতে (Supreme Court)। একইসাথে, সমস্ত সাংসদ-বিধায়কদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির আবেদন জানানো হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টে। এবার সেই আবেদনের বিরোধিতা করল কেন্দ্রের মোদী সরকার।
দোষী সাব্যস্ত রাজনীতিকদের সর্বোচ্চ সাজা নিয়ে মামলা সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court)
অপরাধ মামলায় দোষী সাব্যস্ত রাজনীতিকদের উপর নিষেধাজ্ঞা চাপানোর বিরোধিতা করে কেন্দ্রের দাবি রাজনীতিকদের আজীবন নিষিদ্ধ করা কঠোর সাজা হয়ে যাবে। আইনজীবী অশ্বিনী উপাধ্যায়ের দায়ের করা সেই জনস্বার্থ মামলার বিরোধিতা করে আদালতে (Supreme Court) হলফনামা জমা দিয়েছে কেন্দ্র। সেখানে তাঁরা জানিয়েছেন অপরাধ মামলায় দোষী সাব্যস্ত রাজনীতিকদের আজীবন নিষিদ্ধ না করে বরং বর্তমানে ছ’বছর রাজনীতি থেকে বিরত রাখার যে সময়সীমা রয়েছে,সেটাই যথেষ্ট।
কেন্দ্রের যুক্তি এটাই দোষী সাব্যস্তের রাজীনতিতে ফেরার পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরী করে। শুধু তাই নয়, কেন্দ্রের মোদি সরকারের দাবি বিধায়ক বা সাংসদদের সদস্যপদ কতদিনের জন্য বাতিল করা যায়, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা শুধুমাত্র সংসদের আছে। সর্বোচ্চ আদালতে (Supreme Court) জমা দেওয়া হলফনামায় কেন্দ্র জানিয়েছে, ‘আজীবনের জন্য কাওকে নিষিদ্ধ করা হবে, না কি সীমিত সময়ের জন্য, এই নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের এক্তিয়ার একমাত্র সংসদের।’ তাঁদের দাবি সমস্ত কার্যকারণ খতিয়ে দেখে, যুক্তিগ্রাহ্য পদ্ধতিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মামলাকারী আইনজীবী এপ্রসঙ্গে, ১৯৫১ সালের জনপ্রতিনিধি আইনের ৮ এবং ৯ নম্বর অনুচ্ছেদকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন। কারণ আইন অনুযায়ী কোনো জনপ্রতিনিধির জেল হলে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার দিন থেকে ছ’বছরের জন্য ওই রাজনীতিকের সদস্যপদ বাতিল হবে। দুর্নীতি বা অনৈতিক কাজের জন্য সিভিল সার্ভেন্টদের সদস্যপদ বাতিল হলে, সেক্ষেত্রে এই সময়সীমা পাঁচ বছরের জন্য বেঁধে দেওয়া হয়েছে। মামলাকারী আইনজীবী উভয় ক্ষেত্রেই আজীবন সদস্য়তা বাতিল এবং নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পক্ষে সওয়াল করেছিলেন।
আরও পড়ুন: চাকরি বিক্রির টাকা নিয়ে পার্থ-অভিষেক দ্বন্দ্ব! বিস্ফোরণ ঘটাল CBI
কিন্তু কেন্দ্রের যুক্তি, সীমিত সময়ের শাস্তি অসাংবিধানিক নয়, বরং সংসদের হাতেই সেই ক্ষমতা তুলে দিয়েছে সংবিধান। তাই সংবিধানের ১০২ এবং ১৯১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কী কারণে সদস্যতা বাতিল হবে,এবং কত সময়ের জন্য বাতিল হবে সেই ক্ষমতা ন্যস্ত রয়েছে সংসদের হাতেই। প্রসঙ্গত দেশের জনপ্রতিনিধিরা অপরাধ মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে কী করণীয়, তা নিয়ে আগেও মামলা হয়েছে। এপ্রসঙ্গে ২০১৩ সালের এপ্রিল মাসে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) জানিয়েছিল, বিধায়ক-সাংসদরা যদি দোষী সাব্যস্ত হন এবং ন্যূনতম সাজার মেয়াদ দু’বছর হয়, সেক্ষেত্রে তখনই তাঁদের সদস্যতা চলে যাবে। এমনকি আগামী তিন মাসের মধ্যে ওই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার আবেদনও করতে পারবেন না তাঁরা।
আদালতের নির্দেশের বিরুদ্ধে তখনকার UPA সরকার অর্ডিন্যান্স নিয়ে আসে। যার তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন রাহুল গাঁধী। পরে সেই অর্ডিন্যান্স কার্যকর হয়নি। পরবর্তীতে মানহানি মামলায় নিম্ন আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার সাথে সাথে রাহুলের সদস্যতা চলে গিয়েছিল। সেই সময় অনেকেই কটাক্ষ করেছিলেন নিজেদের সরকারের বিরোধিতা না করলে, তাঁর সদস্যতা যেত না। কিন্তু তারপরেও নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন রাহুল।