আরও এগিয়ে এল গরমের ছুটি! চাকরি বাতিলের দিনেই বড় ঘোষণা মমতার

Last Updated:

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ এবছর সময়ের থেকে অনেক আগে শুরু হয়েছে গ্রীষ্মের দাবদাহ। এই পরিস্থিতিতে আগামী দিনগুলিতে পড়ুয়াদের কষ্টের কথা ভেবে আতঙ্ক তৈরী হয়েছিল রাজ্যের শিক্ষক মহলে। জল্পনা  তৈরী হয়েছিল গরমের ছুটি নিয়েও। এবার সেই জল্পনাকে সত্যি করেই এগিয়ে আনা হল গরমের ছুটির দিন। আজ নবান্নের বৈঠক থেকে গরমের ছুটির দিনক্ষণ ঘোষণা করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বান্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। জানা যাচ্ছে, এবছর ৩০ এপ্রিল থেকে গরমের ছুটি পড়ে যাবে। তবে ছুটি কতদিন থাকবে তা এখনও জানা যায়নি।

গরমের ছুটি ঘোষণা করে দিলেন মমতা (Mamata Banerjee)

প্রসঙ্গত আজই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে একধাক্কায় বাতিল হয়েছে ২৬ হাজার চাকরি। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশকে বহাল রেখেই ২০১৬ সালের পুরো প্যানেলটাই বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। সেইসাথে ১২% সুদ সমেত পুরো বেতন ফেরতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ‘সুপ্রিম’ এই নির্দেশ মিলতেই আজ শিক্ষামন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে নবান্নে বৈঠকে বসেছিলেন মমতা (Mamata Banerjee)। সেখান থেকেই তিনি ঘোষণা করে দিলেন এবছরের গরমের ছুটির দিনক্ষণ।

রাজ্যের সমস্ত সরকারি স্কুলগুলির জন্য গরমের ছুটি ঘোষণা করে, নবান্ন থেকে আজ মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) বললেন, ‘গরমটা বেশি। তাই প্রাথমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলিতে গরমের ছুটি পড়ে যাবে। এছাড়া ১০ এপ্রিল মহাবীর জয়ন্তী। ১৪ এবং ১৫ এপ্রিল পয়লা বৈশাখের জন্য ছুটি। এছাড়া বেশ কয়েকটা রবিবার আছে। ৩০ এপ্রিলের মধ্যে বারো-তেরোদিন ছুটির মধ্যে চলে যাবে। আগে মে মাসে ছুটি পড়ত। এখন গরমটা বেশি। তাই এবার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। শিক্ষামন্ত্রীও আমাকে জানিয়েছে ছুটিটা ৩০ এপ্রিল থেকে পড়বে।’

আরও পড়ুন: পুরো প্যানেল বাতিল! সুদ সহ মোট কত টাকা ফেরত দিতে হবে চাকরিহারাদের? জানলে থ হবেন

প্রসঙ্গত মুখ্যমন্ত্রী আজ গরমের ছুটি ঘোষণা করেছেন ঠিকই, তবে এখনও কিন্তু কাঠফাটা গরম পড়েনি। ফাইনাল পরীক্ষার ফলপ্রকাশের পর সবেমাত্র স্কুল খুলতে শুরু করেছিল। তারপেরই আজ ছুটি পড়ে যাওয়ার ঘোষণা করায় ব্যাপক উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা থেকে শুরু করে  অভিভাবকদের একাংশ।

Mamata Banerjee

বিগত কয়েক বছর ধরেই দেখা যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) স্কুলগুলিতে দীর্ঘ দেড় মাস ধরে গরমের ছুটি দেওয়ার প্রবণতা। এরফলে অধিকাংশ পড়ুয়াই আগে কি পড়েছিল তা ভুলে যাচ্ছে। তাই এই পরিস্থিতিতে পঠনপাঠন অব্যাহত রাখতে অধিকাংশ শিক্ষকরাই চাইছিলেন গরমের ছুটি বাড়ানোর পরিবর্তে স্কুলের সময়ে বদল আনা হোক। তাই কেন আচমকা গরমের ছুটি ঘোষণা করে দেওয়া হল তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অনেকেই প্রশ্ন করতে শুরু করেছেন এটা কি তাহলে ২৬ হাজার শিক্ষক বাতিলের ধাক্কা সামলানোর প্রস্তুতি?

Anita Dutta

অনিতা দত্ত, বাংলা হান্টের কনটেন্ট রাইটার। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর। বিগত ৪ বছরের বেশি সময় ধরে সাংবাদিকতা পেশার সাথে যুক্ত।

সম্পর্কিত খবর

X