বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ২০১৬ সালের এসএসসি-র গোটা প্যানেল বাতিল করে দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। যার জেরে একধাক্কায় চাকরি গেল প্রায় ২৬০০০ জনের (SSC Recruitment Scam)। SSC মামলায় ২৬০০০ চাকরি বাতিল করল সুপ্রিম কোর্ট। এদিন প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খন্না এবং বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের ডিভিশন বেঞ্চ রায় ঘোষণা করেন। ২৬ হাজার চাকরি বাতিলের পর রাজ্য সরকারের কী পদক্ষেপ? সেই দিকে নজর সকলের।
SSC মামলায় ঘুরবে মোড়? SSC Recruitment Scam
সূত্রের খবর, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরই তড়িঘড়ি অ্যাকশনে নেমেছে নবান্ন। জরুরি ভিত্তিতে বৈঠকে বসছে রাজ্য শিক্ষা দফতর। এই বিষয়ে TV9 বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শিক্ষাসচিব বিনোদ কুমার জানিয়েছেন, যত দ্রুত সম্ভব পদক্ষেপ করা হবে। তিনি বলেন, “আমরা দ্রুত বসছি সকলে, কোর্টের কী অর্ডার রয়েছে, আগে সেটা ভালো করে দেখা হবে। পরবর্তী কী পদক্ষেপ করা হবে, তার ভিত্তিতে সমস্ত সিদ্ধান্ত হবে।”
“এই রায় পুনরায় বিবেচনা করার মতো সুযোগ আছে। মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে সব দিক থেকে বিচার করে দেখতে হবে। সুপ্রিম কোর্টে আরও বড় বেঞ্চে গেলে হয়তো পুনরায় বিবেচনা হবেন।” বলে জানান বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিকে সুপ্রিম রায়ের পরই বিশেষ বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
সূত্রের খবর, শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু সহ শিক্ষাদফতরের বিশেষ আধিকারিকদের সঙ্গে দুপুর তিনটেয় বৈঠকে বসবেন মমতা। এদিন ২৬০০০ চাকরি বাতিল করে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, হাইকোর্টের রায়ে হস্তক্ষেপ করার কোনও কারণ দেখছি না৷ সর্বোচ্চ আদালত জানিয়েছে, যে সমস্ত চাকুরিজীবীরা নিজেদের পূর্বতন চাকরি ছেড়ে এই চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন তারা নিজেদের পুরনো চাকরিতে ফিরে যাওয়ার আবেদন করতে পারবেন। আগামী তিন মাসের মধ্যে তাদের পূর্বতন কাজে ফেরত পাঠাতে হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দুই বিচারপতির বেঞ্চ।
রায়ে আদালত জানিয়েছে, ফ্রেশ নিয়োগ প্রক্রিয়া করতে হবে। প্রশ্ন ছিল, এতদিনে চাকরিপ্রার্থীদের বয়স পেরিয়েছে, সেক্ষেত্রে কী হবে? সুপ্রিম কোর্ট রায়ে জানিয়েছে, এজ রিল্যাকসেশন দেওয়া হবে যারা ট্রেইনড নয় তাদের জন্য এবং বিশেষভাবে সক্ষমদের জন্য৷ যারা বৈধ, এতদিন চাকরি করেছেন, বেতন পেয়েছেন তাদের বেতন ফেরত দিতে হবে না বলে জানা গিয়েছে।
এ দিন পর্যবেক্ষণে প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন, নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। কোনোভাবেই যোগ্য-অযোগ্যদের বাছাই করা সম্ভব নয়। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, যারা দোষী নন, তারা নতুন করে চাকরির জন্য আবেদন করতে পারবেন। একই সাথে সুপ্রিম কোর্ট সাফ জানিয়েছে, এই মামলার তদন্ত চালিয়ে যাবে সিবিআই। অর্থাৎক্যাবিনেটের বিরুদ্ধে তদন্ত সংক্রান্ত যে নির্দেশ হাইকোর্ট দিয়েছিল সেই নির্দেশও বহাল রাখল সর্বোচ্চ আদালত।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর যে শূন্যপদগুলি তৈরি হল সেগুলিতে আগামী ৩ মাসের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। এই তিন মাসের মধ্যে যারা বৈধ, তারা যে বিভাগে কাজ করতেন, সেখানে তারা চাকরি করে যাবেন। এই তিন মাস ধরে তারা বেতনও পাবেন।
আরও পড়ুন: ‘সম্পূর্ণ দায়ভার মুখ্যমন্ত্রীর’! ২৬,০০০ চাকরি বাতিল হতেই মমতাকে গ্রেফতারির দাবি শুভেন্দুর
যোগ্য-অযোগ্য কারা? কিভাবে হবে বাছাই? আগেই অযোগ্যদের তিনটে ক্যাটাগরি করে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। কারা কারা সাদা খাতা জমা দিয়ে চাকরি পেয়েছেন তাদের নামের তালিকা ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে। তবে হাইকোর্ট জানিয়েছিল, বিভিন্ন পন্থায় দুর্নীতি হয়েছে। তাই আরও অনেকেই অযোগ্য থাকতে পারেন। সেই দিক থেকে এখনও তাদের বাছাই সম্ভব হয়নি। বিস্তারিত নির্দেশনামা সামনে না কারা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন, কাদের টাকা ফেরাতে হবে সেসব স্পষ্ট জানা যাচ্ছে না।