‘মৃত্যুকুম্ভ’ মন্তব্যের পর তীব্র কটাক্ষ! এবার মমতার সন্দেহ ‘১৪৪ বছর’ পর মহাকুম্ভ নিয়ে

Published On:

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ মহাকুম্ভে পুণ্য লাভের আশায় প্রয়াগ যাওয়ার পথে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে বহু পুণ্যার্থীদের। একের পর এক দুর্ঘটনায় পুণ্যার্থীদের প্রাণহানির ঘটনার পর মহাকুম্ভকে, ‘মৃত্যুকুম্ভ’ বলেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তারপর তাঁর সেই মন্তব্য নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। খোদ উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, প্রত্যেকে তীব্র আক্রমণ করেছিলেন মমতাকে। এবার এই বিতর্কিত বিষয়ে মুখ খুললেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। জানালেন পুণ্যার্থীদের তিনি অসম্মান করেননি। তাঁর মন্তব্যকে বিকৃত করা হয়েছে। পাশাপাশি ১৪৪ বছর পর মহাকুম্ভ বলে যে প্রচার চলছে তা নিয়েও এদিন সন্দেহ প্রকাশ করে বিশেষজ্ঞদের মতামত জানতে চেয়েছেন তৃণমূল নেত্রী।

এবার মমতার (Mamata Banerjee) সন্দেহ ‘১৪৪ বছর’ পর মহাকুম্ভ নিয়ে

সামনেই রয়েছে তৃণমূলের মেগা মিটিং। আজ মঙ্গলবার তার আগেই নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করেছিলেন মমতা (Mamata Banerjee)। সেখানে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধনের দিনক্ষণ জানানোর পাশাপাশি মমতা জানান, তাঁর সরকার হিডকোকে এই দায়িত্ব দিয়েছে। জগন্নাথ ধাম দর্শনে আসার জন্য প্রত্যেককে  আহ্বান জানালেও এব্যাপারে ‘হাইপ’ তুলতে চান না মমতা। তাই এদিন তিনি জানিয়েছেন ক্ষমতার বাইরে গিয়ে প্রচার করতে চায় না তাঁর সরকার। এপ্রসঙ্গেই এদিন উঠে আসে উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে আয়োজিত কুম্ভমেলার প্রসঙ্গ।

মহাকুম্ভের উদ্দেশ্যে যাত্রার পথে প্রাণ হারিয়েছেন অনেক পুণ্যার্থী। সেই প্রসঙ্গ টেনে এদিন মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) বললেন, ‘অনেক জায়গায় মানুষ মারা গিয়েছেন। পদপিষ্ট হয়েছন অনেকে’। এরপর ওই বিতর্কিত মন্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যাঁরা স্নান করছেন, তাঁদের নিয়ে কিছু বলিনি আমি। তাঁদের প্রতি পূর্ণ সম্মান আছে। কে কোথায় যাবেন, কী খাবেন, কী করবেন, এটা যাঁর যাঁর নিজস্ব ব্যাপার। কিন্তু বহু মানুষ স্বজন হারিয়েছেন।’

নিজের স্বভাবসিদ্ধভঙ্গীতে এরপর বিয়ে বাড়ির উদাহরণ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) বলেন, ‘বিয়েবাড়ির আয়োজন করলে, বাড়তি খাবারের ব্যবস্থা রাখতে হয়। ৪০০ লোক ডাকলে, ৫০০ লোকের ব্যবস্থা করা হয়। এটাই পরিকল্পনা, ব্যবস্থাপনা। ধর্মের ক্ষেত্রেও কত ক্ষমতা, কত মানুষ আসতে পারেন, কী ভাবে পৌঁছতে পারবেন, সেগুলো নিয়েও পরিকল্পনা করতে হয়।’ একইসাথে ওই মন্তব্য প্রসঙ্গে তাঁর দাবি, ‘আমার কথা বিকৃত করে দেওয়া হয়েছে, কুকথা-অকথা বলা হয়েছে। আপনারা যা বলছেন, তা পুরো মিথ্যা,অসত্য। জীবনে কোনও ধর্মকে আমি অসম্মান করিনি। গঙ্গাসাগরের সময় পাঁচ-ছ’দিন ঘুমাই না আমরা। দুর্গাপুজোর সময় কার্নিভাল পর্যন্ত নজরদারি চলে।’

আরও পড়ুন: কতটা নিচে নামলে CPM হওয়া যায়? DNA-তে হিন্দু বিরোধিতা! বৃন্দা কারাটের বই দেখে আক্রমণ রুদ্রনীলদের

এখানেই শেষ নয়! উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের আক্রমণাত্মক মন্তব্য প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মমতা (Mamata Banerjee) এদিন বললেন, ‘যোগীর কাছে আবেদন, আপনি আমাকে গালাগালি দিলেও আমার গায়ে লাগবে না। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আপনার প্রতি সম্মান জানিয়েই বলছি, যাঁরা মারা গিয়েছেন, তাঁদের ময়নাতদন্তের, মৃত্যুর শংসাপত্র দেননি। বাধ্য হয়ে আমরা নিজেদের মতো করে করিয়ে নিয়েছি। অন্য রাজ্যে কী হয়েছে জানি না।’ অনেক জায়গায় পদপিষ্ট হয়ে, বহু মানুষ মারা গিয়েছেন। এই দুর্ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে সবাইকে ক্ষতিপূরণের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন মমতা। বলেছেন, ‘ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করা হয়েছে যখন, অবিলম্বে টাকা দেওয়া হোক।’

Mamata Banerjee

প্রসঙ্গত চারিদিকে প্রচার চলছে প্রয়াগরাজে আয়োজিত মহাকুম্ভের এই যোগ এসেছে ১৪৪ বছর পর। এপ্রসঙ্গে সন্দেহ প্রকাশ করে বিশেষজ্ঞদের মতামত জানতে চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘আমি যতদূর জানি, মহাকুম্ভ হয় ১২ বছর অন্তর। পুরীর মন্দিরের নিমকাঠের মূর্তিরও ১২ বছর অন্তর পাল্টানো হয়। এক এক জায়গায় এক এক রকম নিয়ম।’ এরপরেই মমতা বলেন, ‘কিন্তু যাঁরা বলছেন ১৪৪ বছর কুম্ভ হচ্ছে এটা ঠিক নয়। প্রচার একতরফা হচ্ছে। যদি ভুল হয় সংশোধন করে দেবেন। কিন্তু আমি যতদূর জানি, গঙ্গাসাগরে প্রতিবছর পুণ্যস্নান হয় সংক্রান্তিতে। ১৪৪ বছর পর কুম্ভ হচ্ছে বা ১৪৪ বছর আগে কুম্ভ হয়েছিল, কিনা এব্যাপারে আমি অজ্ঞ। তাই যাঁরা বিশিষ্ট আছেন, তাঁদের কাছে অনুরোধ করছি আপনারা গবেষণা করে আমাদের সঠিক তথ্যটা জানান।’

Anita Dutta

অনিতা দত্ত, বাংলা হান্টের কনটেন্ট রাইটার। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর। বিগত ৪ বছরের বেশি সময় ধরে সাংবাদিকতা পেশার সাথে যুক্ত।

সম্পর্কিত খবর

X