বাংলা হান্ট ডেস্কঃ আগামী পাঁচই আগস্ট অযোধ্যয় (Ayodhya) রাম মন্দিরের (Ram Mandir) ভূমি পূজন হতে চলেছে। আর এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। যদিও ওনার এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা নিয়ে বিরোধীরা বিরোধিতা করা শুরু করে দিয়েছে। AIMIM প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি বলেছেন, একজন প্রধানমন্ত্রী হয়ে এরকম অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া সংবিধানের শপথ বিরোধী। আমাদের দেশের সংবিধানে সবথেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হল ধর্মনিরপেক্ষতা। তাই প্রধানমন্ত্রীর উচিৎ এরকম অনুষ্ঠানে যোগ না দেওয়া।

আরেকদিকে, ওয়াইসিকে পাল্টা আক্রমণ করে বিজেপির সাংসদ তথা কর্ণাটক বিজেপির যুব মোর্চার সভাপতি তেজস্বী সূর্য বলেছেন, যখন দেশের রাষ্ট্রপতি আর মুখ্যমন্ত্রী ইফতার পার্টির আয়োজন করেন, তখন ধর্মনিরপেক্ষতা কোথায় থাকে? উনি ওয়াইসিকে আক্রমণ করে বলেন, আমরা একজন রাজাকারের কাছ থেকে এই বিষয়ে কোন পরামর্শ নেব না। মন্দির ভেঙে মসজিদ গড়া হয়েছিল, সেই ভুলকে সংশোধন করা হচ্ছে এখন। উনি বলেন, আমরা রাজাকারের (Razakars) থেকে সংবিধানের শিক্ষা নেব না।
আরেকদিকে রাম মন্দিরের ভূমি পূজনের মধ্যেই অযোধ্যায় মসজিদ গড়ার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড অযোধ্যার রৌনাহিতে মসজিদ বানানোর জন্য ট্রাস্টের ঘোষণা করে ট্রাস্টের সদস্যদের নামও জানিয়ে দিয়েছে। সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডের সভাপতি জুফর আহমেদ ফারুকি বলেন, আমাদের দেওয়া পাঁচ একর জমিতে মজসিদ, রিসার্চ সেন্টার, লাইব্রেরী আর হাসপাতাল নির্মাণের জন্য ইন্দো ইসলামিক কালচারাল ফাউন্ডেশন নামের ট্রাস্টের ঘোষণা করা হয়েছে। এই ট্রাস্টে মোট ৯ জন সদস্য থাকবেন। ফারুকি নিজেকে এই ট্রাস্টের চিফ ট্রাস্টি এবং সভাপতি ঘোষণা করেন।
ফারুকি বলেন, বোর্ড নিজেই এই ট্রাস্টের সংস্থাপক ট্রাস্টি হবে আর বোর্ডের প্রধান কার্যনির্বাহী এর গুরু দ্বায়িত্বে থাকবেন। জানিয়ে দিই, সুপ্রিম কোর্ট গত বছরের ৯ নভেম্বর রাম জন্মভূমি বাবরি মসজিদ মামলা ঐতিহাসিক রায় দিয়েছিল। আদালত এই বিতর্কিত জমিকে রামলালা ট্রাস্টের হাতে তুলে দিয়ে সেখানে মন্দির বানানোর অনুমতি দিয়েছিল। এবং উত্তর প্রদেশ সরকারকে মসজিদ গড়ার জন্য পাঁচ একর জমি দেওয়ার আদেশ দিয়েছিল।