‘আর কতদিন খাবেন!’ দলীয় নেতাদের কেচ্ছা ফাঁস করলেন খোদ তৃণমূল বিধায়ক

Published On:

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রাজ্যে আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচন (Panchayat Election)। জয়ের প্রস্তুতিতে আটঘাট বেঁধে ময়দানে নেমে পড়েছে সমস্ত রাজনৈতিক দল। পাখির চোখ ২৩ পঞ্চায়েত ভোট। অন্যদিকে, বিগত কিছুমাস ধরে দলের নেতাদের কীর্তির জন্য বেজায় অস্বস্তিতে তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)। দুর্নীতি মামলায় জেলবন্দি তৃণমূলের নেতা মন্ত্রী থেকে শুরু বিধায়ক। এরই মধ্যে এবার খোদ দলের নেতাদেরই কেচ্ছা ফাঁস করলেন বিধায়ক গিয়াসউদ্দিন মোল্লা (Giasuddin Molla)।

মঙ্গলবার, দক্ষিণ ২৪ পরগনার উত্তর কুসুমগ্রাম পঞ্চায়েতের দিদির দূত কর্মসূচি থেকে দলের নেতা-কর্মীদের চরম হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় মগরাহাট পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক গিয়াসউদ্দিন। প্রকাশ্যে বলেন, সব পঞ্চায়েত প্রধান, পঞ্চায়েত সদস্যদের নিয়ে মিটিং করছি। কী সুবিধে, কীসে অসুবিধে তা জানার চেষ্টা করছি। পঞ্চায়েতে গিয়েছিলাম। সেখানে তালা দেওয়া। তাদের খবর দেওয়া হয়েছিল। পঞ্চায়েত বাপের সম্পত্তি! পঞ্চায়েতে তালা দেওয়া। কেউ আসেনি। আর কত দিন করে খাবেন?”

পাশাপাশি বিধায়কের সংযোজন, “আর তো তিন মাস বাকী। এবার খাওয়া বন্ধ করুন। গিয়াসউদ্দিন কিছু বললেই খারাপ। সামনেই পঞ্চায়েত ভোট। বুথে বুথ শিক্ষিত লোক, ভালো লোক ঠিক করছি।” প্রসঙ্গত, শাসকদলের নেতাদের বিরুদ্ধে কাঠমানি খাওয়ার অভিযোগ নতুন নয়। এই অভিযোগ তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর থেকেই। যা নিয়ে এতদিন সাধারন মানুষ থেকে শুরু করে বিরোধীরা আওয়াজ তুলেছেন সেই অভিযোগে আজ শিলমোহর দিলেন খোদ তৃণমূল বিধায়ক।

tmc mla

তৃণমূল নেতার এই মন্তব্যের পরই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। এই প্রসঙ্গকে হাতিয়ার করে বিজেপির দিলীপ ঘোষ বলেন, “যখন বেলা গড়িয়ে গিয়েছে তখন এদের বোধদয় হচ্ছে। পঞ্চায়েতগুলিকে লুট করে একেবারে শেষ করে দিয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য দিল্লি থেকে টাকা আসছিল তাতে না হয়েছে রাস্তা, না হয়েছে জলের ব্যবস্থা। এখন মানুষের কাছে যেতে হবে তাই টেনশন হচ্ছে। বিধায়ক যা বলেছেন তা ঠিকই বলেছেন। সাধারণ মানুষ তো দেখতে পাচ্ছেন। নেতাদের গাড়ি বাড়ি বোলচাল দেখলেই বোঝা যা কী পরিমাণে লুঠপাট চলেছে রাজ্যজুড়ে।”

তবে এদিনের গিয়াসউদ্দিনের মন্তব্য বিষয়ে তৃণমূলের ডাক্তার সাংসদ শান্তনু সেন বলেন, “যে অভিযোগ হচ্ছে তা সত্যি হলে দল ছেড়ে কথা বলবে না। আমাদের নেত্রী ও সেনাপতি ওই ধরনের দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেন না। বিরোধীদের কথা ছাড়ুন। তৃণমূল কংগ্রেস তবুও তো পদক্ষেপ নিচ্ছে। বিজেপি যারা দুর্নীতি করে বসে রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে তো দল ব্যবস্থাই নিচ্ছে না।”

Sharmi Dhar

শর্মি ধর, বাংলা হান্ট এর রাজনৈতিক কনটেন্ট রাইটার। উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর। বিগত ৩ বছর ধরে সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত ।

সম্পর্কিত খবর

X