নিজের রাজনৈতিক পথে দৃঢ়সংকল্প তিনি, জল্পনা উড়িয়ে স্পষ্ট বার্তা মুকুলের

Published On:

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ গতকয়েকদিন ধরেই রাজ্য বিজেপির অন্দরে গৃহ কোন্দল এবং নানা জল্পনা জুড়ে রীতিমতো উত্তাল বঙ্গ রাজনীতি। এরই মাঝে অন্যতম প্রধান জল্পনা ছিল ভারতীয় জনতা পার্টির অন্যতম বর্ষিয়ান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মুকুল রায়কে কেন্দ্র করে। তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যাওয়ার পর থেকেই বাংলাকে পাখির চোখ করেছিলেন মুকুল রায়। যদিও সেই আশা পূর্ণ হয়নি এবারের বিধানসভা নির্বাচনেও। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ফের একবার রাজ্যে ক্ষমতা দখল করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। যদিও এই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের মাঝেও নিজের কৃষ্ণনগর উত্তরের আসন থেকে জয় লাভ করে বিধানসভায় পৌঁছেছেন মুকুল রায়।

তবে মূল দ্বন্দ্ব শুরু হয় তারপর থেকেই। রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ এবং মুকুল রায়ের সম্পর্ক যে অম্লমধুর তা এমনিতেই সর্বজনবিদিত। শুক্রবার দীর্ঘদিন পর আরও একবার বিধানসভায় পা রাখেন মুকুল। লক্ষণীয় বিষয় হল এদিন তিনি বিধানসভায় প্রবেশ করেন দুই নম্বর গেট দিয়ে অর্থাৎ যে গেট দিয়ে বিধানসভায় আসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অন্যান্য মন্ত্রীরা। এদিন সেই গেট দিয়ে প্রবেশ এর পর তৃণমূলের পরিষদীয় দলের অফিসে বেশকিছু সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন মুকুল। এরপর তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান প্রোটেম স্পিকার সুব্রত মুখোপাধ্যায়। শপথ গ্রহণের পর এদিন তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীর সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করেন বিজেপির এই বর্ষীয়ান নেতা।

স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনাকে ঘিরে জল্পনা শুরু হয় রাজ্য রাজনীতিতে। শুধু তাই নয় এদিন বিজেপির জয়ী বিধায়কদের নিয়ে একটি বৈঠকের আয়োজন করেছিলেন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। বৃহস্পতিবারই সকলকে এই বৈঠকের কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল রাজ্য বিজেপি তরফে। কিন্তু এদিন বিধানসভায় আসা সত্ত্বেও বৈঠকের আগেই বিধানসভা ছেড়ে বেরিয়ে যান মুকুল রায়। তার এই কর্মকাণ্ড স্বাভাবিকভাবেই তৈরি করেছিল অনেক রাজনৈতিক জল্পনা। অনেকেই অনুমান করছিলেন হয়তোবা নিজের পুরনো দল তৃণমূল কংগ্রেসে আবারো ফিরতে পারেন মুকুল। নির্বাচন চলাকালীন তৃণমূল নেত্রী বলেছিলেন শুভেন্দু যতটা খারাপ মুকুল ততটা নয়। স্বাভাবিকভাবেই তার এই কথার সূত্র ধরে অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের চেষ্টা করছিলেন একটি সহজ অংক মিলিয়ে ফেলার।

 

কিন্তু আজ স্বয়ং সমস্ত জল্পনায় জল ঢেলে দিলেন মুকুল রায় তিনি যে দলের সঙ্গেই আছেন তা আজ আরেকবার স্পষ্ট করে দিলেন তিনি। নিজের টুইটার হ্যান্ডেল থেকে আজ তিনি লেখেন
“আমাদের রাজ্যে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বিজেপির সৈনিক হিসাবে আমার লড়াই অব্যাহত থাকবে। আমি সবাইকে অনুরোধ করব যেন সবরকম সমঝোতা এবং জল্পনাকে দূরে সরিয়ে রাখেন।আমি আমার রাজনৈতিক পথে দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ।”

তাকে নিয়ে সমস্ত জল্পনা যে একেবারেই ভিত্তিহীন নিজের টুইটেই আজ সে কথা স্পষ্ট জানিয়ে দেন বিজেপির এই বর্ষীয়ান দলনেতা। তার এই বার্তা আগামী দিনে কোন নতুন সমীকরণ তৈরি করে সেটাই এখন দেখার।

সম্পর্কিত খবর

X