বাংলাহান্ট ডেস্ক : দিনকয়েক আগেই থাইল্যান্ড সফরে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। সেখানে মহম্মদ ইউনূসের সাথে বৈঠক নিয়ে যখন বিশ্বজুড়ে তুমুল চর্চা চলছে, ঠিক তখনই প্রকাশ্যে এল আরও এক বড় খবর। জানা গিয়েছে, থাইল্যান্ডের পর শুক্রবার রাতে নমো সরাসরি উড়ে গেলেন ভারতেরই (India) আরেক প্রতিবেশী রাষ্ট্র শ্রীলঙ্কায়।
প্রধানমন্ত্রীর (Narendra Modi) শ্রীলঙ্কা সফর
নরেন্দ্র মোদির তিনদিনের এই শ্রীলঙ্কা সফর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কেন এতটা গুরুত্বপূর্ণ সেই বিষয়ে ইতিমধ্যেই বিশেষজ্ঞরা নানান মত তুলে ধরেছেন। মনে করা হচ্ছে, নরেন্দ্র মোদির এই শ্রীলঙ্কা সফরে দু দেশের মধ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। শুধু তাই নয়, হাম্বানটোটা বন্দরের উপর চিনের নিয়ন্ত্রণ কমাতে এবং শ্রীলঙ্কাকে অর্থনৈতিক সংকট থেকে উদ্ধার করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে ভারত।
আরও পড়ুন : এপ্রিলেই পোয়া বারো সরকারি কর্মীদের! একসাথে ঢুকবে বর্ধিত ও বকেয়া DA
জানা গিয়েছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে কলম্বোয় স্বাগত জানাতে শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন দপ্তরের মন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকারের শীর্ষ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। বলা বাহুল্য, এই প্রথম শ্রীলঙ্কা কোন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে এইভাবে স্বাগত জানালো। ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি শ্রীলঙ্কা সফরে প্রধানমন্ত্রীর সাথে রয়েছেন।
আন্তর্জাতিক মহলের রাজনীতির কারবারীদের মতে, প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট দিশানায়েক আলোচনা করতে পারেন প্রতিরক্ষা, জ্বালানি নিরাপত্তা, ডিজিটালাইজেশন, বাণিজ্য এবং যোগাযোগের ক্ষেত্রে দু’দেশের ভূমিকা নিয়েও। সূত্রের খবর, এই প্রথমবার ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে একটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। আর এখন সেইদিকেই তাকিয়ে আছে গোটা বিশ্ব। পাশাপাশি, আরও ৯টি ক্ষেত্রে চুক্তি সাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে।
PM Narendra Modi received a special ceremonial welcome at Independence Square, Colombo. This is the first time Sri Lanka has accorded such a welcome to a visiting dignitary. pic.twitter.com/iMKAKxquUM
— ANI (@ANI) April 5, 2025
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, শ্রীলঙ্কার ব্যস্ততম হাম্বানটোটা বন্দর তৈরি হয় চিনের সাহায্যেই। এবার ঋণ শোধ করতে না পারার জন্য ১.৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত হাম্বানটোটা বন্দরটি ৯৯ বছরের লিজে চিনের কাছে হস্তান্তর করে শ্রীলঙ্কা। এরপরেই চিন এই বন্দরকে তার কৌশলগত কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহার করছে। আর সেই কারণেই দূরত্ব বাড়তে থাকে ভারত ও শ্রীলঙ্কার। তবে এবার শ্রীলঙ্কায় চিনের প্রভাব কমানোর জন্য নরেন্দ্র মোদি অঙ্ক কষতে শুরু করে দিয়েছেন।