বাংলা হান্ট ডেস্কঃ আর জি কর কাণ্ডের (RG Kar) প্রতিবাদে গত মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গ ছাত্র সমাজের ডাকা নবান্ন অভিযান ঘিরে রণক্ষেত্রের রূপ দেয় মহানগরী (Kolkata)। পুলিশ-বিক্ষোভকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ বাধে। অভিযোগ ওঠে নবান্ন অভিযানে ‘ছাত্রদের শান্তিপূর্ণ জমায়েতে’ লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। চালানো হয়েছে দমনপীড়ন। এই নিয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কাছে এক সংগঠন অভিযোগ করতেই বড় পদক্ষেপ।
বিনীত গোয়েলকে নোটিস…
নবান্ন অভিযানে দমনপীড়নের অভিযোগে এবার কলকাতা পুলিশের কমিশনার (সিপি) বিনীত গোয়েলকে (Vineet Goyal) নোটিস দিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। নোটিসের প্রেক্ষিতে ঠিক কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে জানানোর জন্য দু’সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে পুলিশের কমিশনারকে। পুলিশের বিরুদ্ধে দমনপীড়ন চালানোর যে অভিযোগ উঠেছে, তা সত্য কী না তা খতিয়ে দেখতে চাইছে মানবাধিকার কমিশন।
নবান্ন অভিযানে ধুন্ধুমার…
প্রসঙ্গত, আর জি কর হাসপাতালে কর্মরত তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুবের ঘটনার প্রতিবাদে নবান্ন অভিযানের ডাক দেয় পশ্চিমবঙ্গ ছাত্র সমাজ। আর সেই আন্দোলন ঘিরে রক্তাক্ত হয় তিলোত্তমা। নবান্ন অভিযানের আহ্বায়ক তিন ছাত্রনেতা দাবি করেছিলেন তারা কোনো সংগঠন নয়, তারা সমাজের প্রতিনিধি। যদিও প্রথম থেকেই এই নিয়ে সুর চড়াতে থাকে তৃণমূল।
শাসকদলের দাবি ছিল, আসলে অরাজনৈতিক বলে চালালেও এই কর্মসূচির পেছনে ছিল বিজেপি এবং আরএসএস। পুলিশ তরফে এই অভিযানকে বেআইনি আখ্যাও দেওয়া হয়। সেই নবান্ন অভিযান ঘিরেই পুলিশ-বিক্ষোভকারীদের খণ্ডযুদ্ধ বাধে। সাঁতরাগাছি, হাওড়ার ময়দান, হেস্টিংস, মহাত্মা গান্ধী রোড সহ একাধিক জায়গায় তুলকালাম। ব্যাপক লাঠি চার্জ করে পুলিশ। ইট নিয়ে হামলা করেন আন্দোলনকারীরা।
আরও পড়ুন: দু’বছর পার, হঠাৎ নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বিরাট মোড়! কী জানাচ্ছে কলকাতা হাইকোর্ট?
একদিকে আহত হন বহু আন্দোলনকারী, ওদিকে বেশ কিছু পুলিশকর্মীও গুরুতর আহত হন। গোটা ঘটনায় অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় মোট ২২০ জনকে। এই ঘটনায় আন্দোলনকারীদের উপর পুলিশ ‘অত্যাচার’ চালিয়েছে বলে বুধবার ১২ ঘণ্টার বনধ ডাকে বিজেপি।