নিযুক্ত হচ্ছে কেন্দ্রীয় বাহিনী? মনোনয়নের সময় কদিন! পঞ্চায়েত মামলায় কি কি জানালো হাইকোর্ট?

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ পঞ্চায়েত ভোট নিয়ে শোরগোল বঙ্গ জুড়ে। গতকাল নির্বাচনের (Panchayat Vote) দিনক্ষণ ঘোষণা করেছেন রাজ্যের নতুন নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহা। আগামী ৮ জুলাই রাজ্যে পঞ্চায়েত ভোট। দায়িত্বে রাজ্য পুলিশ। আগের বারের ন্যায় এবারেও গোটা রাজ্যে এক দফাতেই হতে চলেছে নির্বাচন। অন্যদিকে,কমিশন ঘোষণা করেছে, শুক্রবার থেকে আগামী ১৫ জুন পর্যন্ত মনোনয়ন জমা দেওয়া যাবে। মাঝে ১১ জুন রবিবার বাদ। ফলে মনোনয়ন জমা করার মোট দিনের সংখ্যা দাঁড়ালো ৬।

কমিশনের এই সকল সিদ্ধান্তের বিরোধীতা করেই সরব বিজেপি ও কংগ্রেস। বিরোধী দলনেতার শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, মনোনয়ন পেশের জন্য কমপক্ষে ১২ দিন সময় দেওয়া হোক। পাশাপাশি অনলাইনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও আদালতে আর্জি জানায় বিজেপি। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় বাহিনী চেয়ে হাই কোর্টে মামলা দায়ের করেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী।

আজ শুক্রবার হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে এই জোড়া মামলার শুনানি ছিল। তাতেই বড় পর্যবেক্ষণ দিয়েছে আদালত। গোটা রাজ্যে ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের ৭৫ হাজার আসনে মনোনয়ন জমা করার জন্য সময় যথোপযুক্ত নয়, এমনটাই পর্যবেক্ষণ কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta Highcourt)। ১২ জুনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে আদালতের মন্তব্য, ‘মনোনয়ন পেশের সময় পর্যাপ্ত নয়। কমিশনকে তাদের এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে হবে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গোটা প্রক্রিয়া ভিডিয়োগ্রাফি করতে হবে। রাজ্য প্রয়োজন হলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে একত্রে কাজ করতে পারে।’ সোমবার এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। সেদিন রাজ্য নিজের মতামত জানাবে।

কলকাতা হাইকোর্ট জানিয়েছে, নির্বাচন বন্ধ করার জন্য এই মামলাগুলি দায়ের হয়নি। বরং ভোট পক্রিয়া যাতে শান্তিপূর্ণ হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। কমিশনকে শান্তিপূর্ণ ভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করাতে হবে। অন্যদিকে, আজ আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে সিভিক ভলান্টিয়ারদের ব্যাবহার করা যাবে না।

মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়সীমা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কিছু করা যায় কিনা সেই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে ভেবে দেখার পরামর্শ দিয়েছে আদালত। দ্বিতীয়ত, অনলাইন মনোনয়ন সম্পর্কে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে প্রযুক্তি এত উন্নত হওয়ায় দ্রুত কাজ করা সম্ভব হয়েছে।

প্রাথমিক ভাবে আদালত তরফে বলা হয়েছে অনলাইনের মাধ্যমে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কোনও ব্যবস্থা করা যায় কিনা সেই নিয়েও ভেবে জানাক কমিশন। কারণ আদালতের মতে এই কম সময়ের মধ্যেই ৭৫ হাজার মনোনয়ন পত্র সশরীরে হাজির হয়ে জমা দিতে গেলে সমস্যা হতে পারে।

যদিও কমিশনের বক্তব্য, প্রতিবারই মনোনয়ন পেশের জন্য এইরকমই সময় দেওয়া হয়ে থাকে। পাশাপাশি মামলার শুনানি সোমবার করলে ভালো হয় বলেও জানানো হয়। রাজ্য তরফে বলা হয় বিজ্ঞপ্তি জারি হয়ে গেলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আদালত হস্তক্ষেপ করতে পারে না। এরপরই বিচারপতি জানায়, নির্বাচন যাতে শান্তিপূর্ণভাবে নিরাপত্তার মধ্যে হয় সেটাই কমিশনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।