হঠাৎ গায়েব স্বামী! বছরের পর বছর ধরে খোঁজ স্ত্রীর! হাইকোর্টে মামলা হতেই জানা গেল ‘আসল গল্প’!

Published On:

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ২০১৯ সালে আচমকাই বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যান শ্যামলচন্দ্র পাল নামের এক ব্যক্তি। নিখোঁজ ডায়েরি করা হলেও পুলিশ তাঁকে খুঁজে পায়নি। দেখতে দেখতে কেটে যায় ২ বছর। স্বামীর অপেক্ষায় দিন গুনতে থাকেন শ্যামলচন্দ্রের স্ত্রী। এই সময় হঠাৎ তাঁর কাছে খবর আসে, বহরমপুর সেন্ট্রাল জেলে (Berhampore Central Jail) বন্দি রয়েছে তাঁর স্বামী। সঙ্গে সঙ্গে জেল কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হন তিনি। তখন জানতে পারেন, স্বামী নামটাই পুরো বদলে গিয়েছে! শ্যামলচন্দ্র পাল হয়ে গিয়েছেন হীরালাল চন্দ্র পাল। ঠিকানা- ডেলট, টাঙাইল, বাংলাদেশ। জেল রেকর্ডের এই তথ্য জেনে অবাক হয়ে যান শ্যামলচন্দ্রের স্ত্রী। এরপর জল গড়ায় কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court) অবধি।

হাইকোর্টে (Calcutta High Court) মামলা হতেই জানা গেল ‘আসল গল্প’!

জেল রেকর্ডে স্বামীর বদলে যাওয়া নাম-ঠিকানা দেখে অবাক হয়ে গিয়েছিলেন শ্যামলচন্দ্রের স্ত্রী। তিনি চিহ্নিত করেন, ওই ব্যক্তি আসলে তাঁর স্বামী। নাম, শ্যামলচন্দ্র পাল। বাংলাদেশি বলে তাঁকে জেলবন্দি করে রাখা হয়েছে। এরপর সোজা উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন শ্যামলচন্দ্র নামের ওই ব্যক্তির স্ত্রী।

আদালতের (Calcutta High Court) নির্দেশ মতো পুলিশ সুপারকে তদন্তের নির্দেশ দেন আইজি কারা। তবে সেখানেও দেখা দেয় জটিলতা। ওই ব্যক্তির হয়ে যে আইনজীবীর সওয়াল করার কথা ছিল, তিনি দিনের পর দিন আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। এরপর তাঁর জন্য আদালত বান্ধব আইনজীবীর বন্দোবস্ত করা হয়। চলতে থাকে মামলা।

আরও পড়ুনঃ সওয়া ১ ঘণ্টায় ৭৩ বার অভিষেকের নাম! নিয়োগ দুর্নীতিতে বিরাট খবর! তোলপাড় বাংলা

এই মামলায় সরকারপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অনিরুদ্ধ বিশ্বাস। তিনি জানান, জেল কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ বিষয়টি তদন্ত করে দেখেছে। সেই রিপোর্ট আদালতে পেশ করা হয়েছে। অন্যদিকে আদালত বান্ধব আইনজীবী সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় জানান, শ্যামলচন্দ্র পাল নামের ওই ব্যক্তি মানসিক ভারসাম্যহীন। নিজের নাম, ঠিকানা কোনোটাই ঠিকভাবে দিতে না পারায় এই জটিলতা তৈরি হয়।

Calcutta High Court

বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের (Calcutta High Court) বিচারপতি অজয় মুখোপাধ্যায়ের বেঞ্চে এই মামলা উঠেছিল। সেখানে রিপোর্ট পেশ করে জেল কর্তৃপক্ষ। সেই রিপোর্ট দেখে অবিলম্বে শ্যামলচন্দ্র পাল নামের ওই ব্যক্তিকে জেল থেকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত। এদিকে ইতিমধ্যেই বাংলাদেশি বলে প্রায় ৬ বছর জেলের মধ্যে কাটিয়ে ফেলেছেন ওই ব্যক্তি।

Sneha Paul

স্নেহা পাল, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর পড়াকালীন সাংবাদিকতা শুরু। বিগত ২ বছর ধরে বাংলা হান্ট-এর কনটেন্ট রাইটার হিসেবে নিযুক্ত। রাজনীতি থেকে বিনোদন, ভাইরাল থেকে ভ্রমণ, সব ধরণের লেখাতেই সমান সাবলীল।

সম্পর্কিত খবর

X