বাংলা হান্ট ডেস্কঃ আরজি কর হাসপাতালে চিকিৎসক ধর্ষণ খুনের ঘটনায় ফুঁসছে গোটা রাজ্য। পুজোর আবহেও দিকে দিকে চলছে প্রতিবাদ। এই আবহে এবার পটাশপুরে (Patashpur) গৃহবধূকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ উঠল। অভিযুক্ত যুবককে বাড়ি থেকে বের করে এনে গণধোলাই দেয় উত্তেজিত জনতা। তাতে মৃত্যু হয়েছে তাঁর।
ধর্ষণ খুনে অভিযুক্তকে পিটিয়ে মারল জনতা (Patashpur)!
জানা যাচ্ছে, পটাশপুরের নির্যাতিতার স্বামী কাজের সূত্রে বাইরে থাকেন। সেই সুযোগে ওই মহিলাকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে প্রতিবেশী এক যুবক। এরপর কীটনাশক খাইয়ে তাঁকে হত্যা করা হয়। স্থানীয়রা জানাচ্ছে, কীটনাশক খাওয়া অবস্থায় ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু তাঁকে বাঁচানো যায়নি। এরপরেই পরিস্থিতি উত্তাল হয়ে ওঠে।
অভিযুক্ত যুবককে বাড়ি থেকে টেনে বের করে আনা হয়। এরপর শুরু হয় গণপিটুনি। খবর পেয়ে পুলিশ (Police) যখন ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছয়, তখন ওই যুবককে মারধর করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, ধর্ষণ খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত যুবককে ফেলে বাঁশ, লাঠি দিয়ে পেটাচ্ছেন মহিলারা। স্থানীয়রা দাঁড়িয়ে দেখছিলেন। কেউ কেউ আবার মোবাইল ফোনে সেই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করেন।
আরও পড়ুনঃ প্রচুর সরকারি কর্মী চাই! আবাস যোজনার সমীক্ষায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বিরাট পদক্ষেপ সরকারের
পুলিশ এসে অভিযুক্ত যুবককে উদ্ধার করতে এলে এক দফা বচসা হয় বলে খবর। এরপর কোনও ক্রমে তাঁকে উদ্ধার করে এগরা সুপারস্পেশ্যালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় ওই যুবকের।
জানা যাচ্ছে, ইতিমধ্যেই পটাশপুরের (Patashpur) গ্রামে বিশাল পুলিশ বাহিনী পৌঁছেছে। যেখানে অভিযুক্ত যুবককে ফেলে মারধর করা হচ্ছিল, সেই জায়গা ঘিরে দেওয়া হয়েছে। তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করার কাজ চলছে। গোটা ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পটাশপুরের (Patashpur) এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ‘এই ধরণের যে ঘটনা ঘটেছে, তার কারণ হল সকল দুষ্কৃতী আজ নিয়ন্ত্রণহীন সমাজে থেকে, আইনের শাসন না থাকায় ভয়ডরহীন হয়ে গিয়েছে। ভাবছে, সরকার তাদের, তাই পুলিশ করতে পারবে না। পুলিশও আক্রান্ত হচ্ছে। তাদের এমনই পরিণতি হওয়ার কথা ছিল। উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকরা সরীসৃপ হয়ে যাওয়ার জন্য, আত্মসমর্পণের জন্য, উদাসীনতার জন্য এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এটা আজ একটা সামাজিক ব্যাধিতে তৈরি হয়েছে। কারোর মনে ভয় বলে আর কিছু নেই’।