মেদিনীপুর নয়, এবার ‘দিঘা”র স্বাদ এই জেলাতেও! ভিড় জমাচ্ছেন দূর দূরান্তের পর্যটকরা

বাংলা হান্ট ডেস্ক : বর্ষাকাল (Monsoon) এলেই মনটা কেমন সমুদ্র সমুদ্র করে ওঠে তাই না? তবে ইচ্ছে করলেই তো আর যাওয়া হয়ে ওঠে না। বিশেষ করে যখন ছুটিছাটা নেই তখন তো ঘোরাঘুরির কথা মাথায় আনাও পাপ। তবে মালদহবাসীর ক্ষেত্রে ব্যাপারটা অন্যরকম। গোটা মালদহ (Maldah) জুড়ে এখন সমুদ্রের আমেজ। জলের কলতান থেকে রয়েছে ঢেউ। ভাবছেন কীভাবে? চলুন জানাই সেটা।

আসলে এইমুহুর্তে অবসর সময় কাটানোর জন্য একেবারে আদর্শ হয়ে উঠেছে মালদহের ভাটরা বিল। বিগত কয়েক বছর ধরেই সাধারণ মানুষের মন জয় করে নিয়েছে এই জায়গাটি। এরকম একটা স্নিগ্ধ মনোরম পরিবেশ পেয়ে মালদহবাসীরাও যারপরনাই খুশি। মালদহবাসীর কাছে এই বিল এখন মিনি দিঘা নামেই পরিচিত। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এখন ভিড় জমাচ্ছেন এখানে।

   

উল্লেখ্য, পুরাতন মালদহ ব্লকের সাহাপুর পঞ্চায়েতের দক্ষিণ ভাটরার বিল। বর্ষার জল জমে পুরো ফুলেফেঁপে ওঠে জায়গাটি। এইসময়টা তো মানুষ এই বিলকে মিনি দীঘাও বলে থাকে। আসদে বৃষ্টির জল জমে রীতিমত সৈকতের মত চেহারা নেয় জলাশয়টি। এইসময় ভাটরা বিলে গেলেই দেখতে পাবেন, সমুদ্রের মত পাড়ে এসে ভেঙে পড়ছে ছোট বড় জলের ঢেউ।

যাইহোক, বিল বলে কিন্তু ছোট জলাশয় ভাববেননা এটাকে। এই বিশাল বিলের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত প্রায় দেখা যায়না। বর্ষায় সময় কাটাতে এখন অনেকেই আসছেন এখানে। তাদের মনোরঞ্জনের জন্য নৌকাবিহারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। স্থানীয় মৎসজীবীরা নৌকায় করে বিলের জলে নৌকাবিহার করান। রোজই বিকেল বেলা শয়ে শয়ে মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন এই জায়গায়। বিশেষ করে সপ্তাহান্তের ভিড় তো দেখার মত।

আবার এখন তো শোনা যাচ্ছে মালদহ ছাড়াও আশেপাশের বহু জেলা এমনকি ভিনরাজ্য থেকেও মানুষ আসছে এই জায়গায়। বর্ষার মরশুমে কয়েক মিনি দীঘা দেখতে ভিড় করেন অনেকেই। যদিও চলতি বছরে সেরকম উন্মাদনা নেই। পর্যটকদের অনেকেরই মন খারাপ। কারণ বৃষ্টি কম হওয়ার কারণে সেরকম জল নেই ভাটরা বিলে। যে কারণে সমুদ্রের ঢেউয়ের মত ঢেউয়ের দেখা নেই।

maxresdefault (4)

তবে তাতেও আনন্দের ঘাটতি হয়নি। ঐ জলেই পা ভেজাচ্ছেন পর্যটকরা। স্থানীয় এক দোকানদার রঞ্জন সাহা বলেন, ‘প্রতিবছর বর্ষার মরশুমে দক্ষিণ ভাটরা এই বিল কার্যত জলে ভরে যায়। একে সবাই মিনি দীঘা বলে পরিচিত। কিন্তু কার্যত এবার বর্ষার মরশুমে বৃষ্টি তেমন জেলাতে নেই, যার ফলে পর্যটকদের মন খারাপ তবুও তারা আসছেন অনুভব করছেন।’

Moumita Mondal
Moumita Mondal

মৌমিতা মণ্ডল, গ্র্যাজুয়েশনের পর শুরু নিয়মিত লেখালেখি। বিগত ৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে লেখালেখির সাথে যুক্ত। প্রায় ২ বছর ধরে বাংলা হান্ট-এর কনটেন্ট রাইটার হিসেবে নিযুক্ত।

সম্পর্কিত খবর