টাইমলাইনফুটবলখেলা

গঞ্জালো র‍্যামোসের হ্যাটট্রিকে ভর করে সুইজারল্যান্ডকে কার্যত উড়িয়ে দিলো পর্তুগাল, কোয়ার্টারে প্রতিপক্ষ মরক্কো  

বাংলা হান্ট নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে গ্রূপের শেষ ম্যাচে পর্তুগালকে হারতে দেখে অনেকেই চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন। ঘানা এবং উরুগুয়ের বিরুদ্ধেও পর্তুগাল যে বিশাল দাপোট দেখিয়ে জিতেছিল এমনটা নয়। ফলে শক্তিশালী সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে তারা কেমন পারফরম্যান্স করবে, সেই নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন ছিলই। কারণ এই সুইজারল্যান্ড, ব্রাজিলের মতো দলকেও গ্রূপপর্বে বেশ বেগ দিয়েছিল।

কিন্তু খেলা শুরু হওয়ার ১৭ মিনিটের মধ্যে প্রথম গোল করে পর্তুগাল নিজেদের মনোভাবটা স্পষ্ট করে দেন। মঙ্গলবার রাতে প্রথম একাদশে ছিলেন না মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। তিনি এইমুহূর্তে ৩৭ বছর বয়সী এবং খেলা যদি অতিরিক্ত সময়ে গড়ায় তাহলে হয়তো তিনি ১২০ মিনিট মাঠে থাকতে পারবেন না। আর পেনাল্টি শ্যুট আউটেও তাকে দরকার। সবকিছু চিন্তা করেই তার বদলে আজ বেনফিকার স্ট্রাইকার গঞ্জালো র‍্যামোসকে প্রথম একাদশে সুযোগ দিয়েছিলেন পর্তুগিজ কোচ ফার্নান্দো স্যান্টোস।

সেই সুযোগটি দু-হাতে জড়িয়ে গ্রহণ করে তরুণ পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড। ১৭ মিনিটে ফেলিক্সের পাস তার গোলের পর ৩৩ মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্দেজের কর্ণার থেকে দুরন্ত হেডে ২-০ করেছিলেন পর্তুগালের তারকা ডিফেন্ডার পেপে। গোল করার পাশাপাশি গোটা ম্যাচে দুরন্ত ডিফেন্ডিংও করেছেন পেপে। তবে আসল নাটক হয় ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে।

৫১ এবং ৬৭ মিনিটে গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক সম্পন্ন করেন র‍্যামোস। এর মাঝে অবশ্য তার ভুলে সুইজারল্যান্ডের তরফ থেকে একটি গোল হজম করতে হয় পর্তুগালকে। তবে তাতে কোনও সমস্যা হয়নি। এর মাঝে একটি গোল করেছিলেন লেফট ব্যাক রাফায়েল গুরেইরোও। সেই গোলটি অ্যাসিস্ট করেছিলেন এই র‍্যামোসই। দুর্দান্ত ফুটবল খেলেছিলেন দিয়েগো ডালোট, জোয়াও ফেলিক্স, ব্রুনো ফার্নান্দেজরাও।

এরপর রোনাল্ডোকেও মাঠে আনা হয়। তিনি একবার বল জালে জড়ালেও সেটি অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। বরং রাফায়েল লিয়াও ম্যাচের একদম শেষদিকে একটি দুরন্ত গোল করে স্কোরবোর্ড ৬-১ করে দেন। রোনাল্ডো গোল না পেলেও তাকে নিয়ে মাঠে উপস্থিত দর্শকদের উৎসাহ ছিল দেখার মতো। কোয়ার্টার ফাইনালে এবার মরক্কোর মুখোমুখি পর্তুগাল। আফ্রিকার দেশটি ইতিমধ্যেই স্পেন ও বেলজিয়ামকে বিশ্বকাপের মঞ্চে হারিয়েছে। এখনও অবধি বিপক্ষের কোনও ফুটবলার তাদের জালে বল জড়াতে পারেননি। কাজেই পর্তুগালের পরবর্তী ধাপটা বেশ কঠিন, তা বলাই যায়।

 

Related Articles