বাংলা হান্ট ডেস্কঃ প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় (Primary Recruitment Scam) জড়িয়েছে রাজ্যের একাধিক প্রভাবশালীর নাম। তাঁরা বেশ কিছু চাকরিপ্রার্থীর নাম সুপারিশ করেছিলেন, সেই তালিকা নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের (Partha Chatterjee) বাড়িতে বসেই তৈরি করা হয়েছিল। অনেকে আবার প্রাক্তন মন্ত্রীর অফিসেও যেতেন। নিজের ‘চেম্বারে’ তাঁদের সঙ্গে বৈঠক করতেন পার্থ। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে এমনটাই জানিয়েছেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর তৎকালীন ওএসডি (অফিসার অন স্পেশ্যাল ডিউটি)। সিবিআইয়ের নথি থেকেই এমনটা জানা গিয়েছে। সেই নথি আবার একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের হাতে এসেছে।
পার্থর ‘চেম্বারে’ কোন কোন ‘সুপারিশকারী’ যেতেন (Primary Recruitment Scam)?
সম্প্রতি প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় নাম জড়িয়েছে বিজেপি নেত্রী ভারতী ঘোষ, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ভাই দিব্যেন্দু অধিকারী, রাজ্যসভায় তৃণমূল সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর, ক্যানিং পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লার। তাঁরা একাধিক চাকরিপ্রার্থীর নাম সুপারিশ করেছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। গত বছর বিকাশ ভবনে তল্লাশি চালিয়ে সিবিআই (CBI) যে নথি উদ্ধার করেছিল, সেখানে তাঁদের নাম রয়েছে। একইসঙ্গে তাঁরা যে চাকরিপ্রার্থীদের নাম সুপারিশ করেছিলেন, তাঁদের নাম ও রোল নম্বর রয়েছে।
কেন্দ্রীয় এজেন্সির নথি অনুযায়ী, গত বছর বিকাশ ভবনে তল্লাশি চালিয়ে যে নথি উদ্ধার করা হয়, সেগুলি পার্থর তৎকালীন ওএসডি প্রবীর বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখানো হয়েছিল। ২০২৪ সালেরই ১৭ আগস্ট তাঁকে তলব করা হয়। সেই সময় প্রবীর গোয়েন্দাদের জানিয়েছিলেন, চাকরিপ্রার্থীদের নাম সুপারিশ করার সম্পূর্ণ বিষয়টি তাঁর জানা। বিভিন্ন নেতা-নেত্রীদের সুপারিশ করা প্রার্থীদের নামের লিস্ট প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর বাড়িতে বসেই তৈরি করা হয়েছিল (Primary Recruitment Scam)।
আরও পড়ুনঃ রেশন গ্রাহকদের জন্য বড় খবর! আজ অবধি সময়, ‘এই’ কাজ না করলে আর মিলবে না রেশন!
সিবিআইয়ের নথিতে ভারতী, দিব্যেন্দু থেকে শুরু করে মমতাবালা সহ রাজ্যের একাধিক হেভিওয়েটের নাম রয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছে, বিধায়ক বীণা মণ্ডল, শওকত মোল্লা, নির্মল ঘোষ, প্রাক্তন বিধায়ক শ্যামল সাঁতরা, রমেন্দ্রনাথ বিশ্বাস এবং কোচবিহার জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যান কল্যাণী পোদ্দারের নাম।
পার্থর প্রাক্তন ওএসডি প্রবীর সিবিআইয়ের কাছে দাবি করেন, ওই ‘প্রভাবশালী’ ব্যক্তিরা মাঝেমধ্যেই প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে তাঁর অফিসে হাজির হতেন। পার্থর ‘চেম্বারে’ বসে চলতো বৈঠক। তবে সেই বৈঠকে তিনি নিজে কখনও থাকতেন না বলে দাবি করেছেন প্রবীর। তাই সেখানে কী হতো, সেই বিষয়ে তাঁর কোনও ধারণা নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় (Primary Recruitment Scam) ‘সুপারিশকারী’ হিসেবে একাধিক প্রভাবশালীর নাম জড়াতেই রাজ্যজুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের তরফ থেকে দিব্যেন্দু অধিকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি। অন্যদিকে মমতাবালা ঠাকুর বলেন, ‘এসব কিছুই জানি না। সবটাই চক্রান্ত। অন্যায়ের সঙ্গে যুক্ত নই’।