বাংলা হান্ট ডেস্কঃ লোকসভার পর রাজ্যসভাতেও ধ্বনি ভোটে পাশ হয়ে গেল ওয়াকফ (Waqf Bill) সংশোধনী বিল। বৃহস্পতিবার সংসদের উচ্চ-কক্ষে এই বিল পেশ করার পর দীর্ঘ ১২ ঘন্টার ম্যারাথন ভোটাভুটির পর রাজ্যসভাতেও পাশ হয়ে গেল এই বিল। এদিন বিলের পক্ষে ভোট দিয়েছেন ১২৮ জন সদস্য, আর বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন ৯৫ জন। প্রায় ভোর রাত পর্যন্ত চলতে থাকা এই অধিবেশনে নজিরবিহীনভাবে ভোট দিয়েছেন রাজ্যসভার সমস্ত সদস্যরা। সবশেষে রাত ২’টো ৩৪ মিনিটে ভোটাভুটির ফল ঘোষণা করা হয়।
লোকসভার পর রাজ্যসভাতেও পাশ ওয়াকফ বিল (Waqf Bill)
লোকসভার পর রাজ্যসভাতেও এই বিলটি (Waqf Bill) পাশ হওয়ার পর এখন এই বিলটির আইনে পরিণত হওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা। জানা যাচ্ছে, এবার শুধু রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর মিললেই এই বিলটি আইনে পরিণত হবে। যদিও শুরু থেকেই এই বিলের ব্যাপক বিরোধিতা করেছে বিরোধীরা। তাঁদের দাবি ছিল এই বিল ওয়াকফ বোর্ডের স্বায়ত্তশাসনের ওপর হস্তক্ষেপ করবে এবং মুসলিমদের ধর্মীয় বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে।
আরও পড়ুন: ‘খালি বকর-বকর, চোপ’! সংসদেই জোর ধমক অভিজিৎ গাঙ্গুলির, হঠাৎ কী হল?
গতকাল রাজ্যসভায় বিলটির ব্যাপক বিরোধিতা করে সরব হন খোদ বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। তাঁর অভিযোগ, ‘আসলে এই বিলটি এনে বিজেপি দেশের শান্তিশৃঙ্খলা এবং সম্প্রীতির পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করছে’। একইসাথে তাঁর আরও সংযোজন ‘বিলটির মূল উদ্দেশ্যই হল, মুসলিমদের থেকে তাঁদের সম্পত্তি কেড়ে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যবসায়ী বন্ধুদের হাতে তুলে দেওয়া। তাই এই বিলটিকে অসাংবিধানিক বলেও দাবি করেন বিরোধীরা।
গতকাল রাত ১২টা ৫৫ নাগাদ ওয়াকফ সংশোধনী নিয়ে বিতর্কের উপরে জবাবি ভাষণ দেন সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। তাঁর জবাবি ভাষণ শেষ হতেই উপরাষ্ট্রপতি তথা রাজ্যসভার চেয়ারম্যান ধনখড় বিল পাশের বিষয়টি বিবেচনার জন্য ধ্বনিভোটের মাধ্যমে সম্মতি চান। প্রসঙ্গত এই বিলটি পাশ করানোর জন্য বিজেপির মোট ১১৯টি ভোটের প্রয়োজন ছিল। যদিও তারা তার থেকে বেশ কিছু ভোট বেশিই পায়। শেষপর্যন্ত ১২ ঘণ্টার বেশি বিতর্কের পর মোট ৩৩ ভোটের ব্যবধানে বিলটি পাশ হয়ে যায় সংসদের উচ্চকক্ষে।