বাংলা হান্ট ডেস্ক: প্রয়াত শিল্পপতি রতন টাটা (Ratan Tata) যে কতটা উদার ছিলেন তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এদিকে, তাঁর মৃত্যুর পরও এই বিষয়টি ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে যে, তিনি তাঁর কেয়ারটেকার, গাড়ি পরিষ্কার করার কর্মী, পিয়ন, রাঁধুনি ও অফিস কর্মীদের জন্য প্রায় ৩.৫ কোটি টাকা রেখে গিয়েছেন। শুধু তাই নয়, তিনি তাঁর কর্মচারী এমনকি প্রতিবেশীকে দেওয়া পর্যন্ত ঋণও মুকুব করেছেন। গত বছরের অক্টোবরে রতন টাটা প্রথম। তার আগে রতন তাত তাঁর উইলের এক্সিকিউটারদের নির্দেশ দিয়েছিলেন যে তিনি তাঁর বাড়ির কর্মীদের জন্য তাঁদের কাজের মেয়াদের অনুপাতে ১৫ লক্ষ টাকা বিতরণ করবেন। এছাড়াও, পার্ট টাইম হেল্পার ও কার ক্লিনার্সদের ১ লক্ষ টাকা দিতে বলা হয়েছে। এর পাশাপাশি রতন টাটার সমস্ত পোশাক এনজিওকে দেওয়া হবে। যাতে সংস্থাগুলি ওই পোশাক অভাবীদের মধ্যে বিতরণ করতে পারে। জানিয়ে রাখি যে, রতন টাটা Daks, Polo, Brooks Brothers, Brioni এবং Hermes-এর মতো ব্র্যান্ডের পোশাক পরতেন।
কাদের জন্য কত টাকা রেখেছিলেন রতন টাটা (Ratan Tata):
এদিকে, টাইমস অফ ইন্ডিয়ার এক খবরে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে তাঁর (Ratan Tata) কাছে করা কুক রাজন শ-কে টাটা এক কোটি টাকারও বেশি অর্থ দিয়েছেন। এর মধ্যে ৫১ লক্ষ টাকার ঋণ মুকুবও রয়েছে। টাটা তাঁর কেয়ারটেকার সুব্বাইয়া কোনারকে ৬৬ লক্ষ টাকা দিয়েছেন। যার মধ্যে ৩৬ লক্ষ টাকার ঋণ মুকুব রয়েছে। এছাড়াও, তিনি তাঁর সেক্রেটারি দিলনাজ গিল্ডারকে ১০ লক্ষ টাকা দিয়েছেন। এদিকে, কর্নেল ইউনিভার্সিটিতে এমবিএ পড়ার জন্য টাটা তাঁর এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট শান্তনু নাইডুকে দেওয়া ১ কোটি টাকার ঋণ মুকুব করেছেন। এদিকে, তিনি তাঁর ড্রাইভার রাজু লিওনকে ১.৪ লক্ষ টাকা দিয়েছেন এবং ১৮ লক্ষ টাকার ঋণ মুকুব করেছেন।
জার্মান শেফার্ডের জন্য ১২ লক্ষ টাকা: এছাড়াও, তিনি (Ratan Tata) টাটা ট্রাস্টের পরামর্শক হোশি ডি মালেসারকে ৫ লক্ষ টাকা, তাঁর আলিবাগ বাংলোর কেয়ারটেকার দেবেন্দ্র কাটমোল্লুকে ২ লক্ষ টাকা, ব্যক্তিগত সহকারী দীপ্তি দিবাকরণকে ১.৫ লক্ষ টাকা এবং পিয়ন গোপাল সিং এবং পান্ডুরং গুরাভকে ৫০,০০০ টাকা দিয়েছেন। এদিকে, টাটা তাঁর তার এক সহকারী সরফরাজ দেশমুখকে দেওয়া ২ লক্ষ টাকার ঋণ মুকুব করেছেন। এছাড়াও, তিনি তাঁর জার্মান শেফার্ড টিটোর জন্য ১২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেন। যার মধ্যে ৩০০০০ টাকার ত্রৈমাসিক কিস্তি রয়েছে৷ টিটো এখন রাজন শ-এর তত্ত্বাবধানে রয়েছে।
আরও পড়ুন: এবারের IPL-এ কেন বারবার ব্যর্থ হচ্ছে KKR? নেপথ্যে রয়েছে এই ৩ টি কারণ
ব্রিটেনের ওয়ারউইক বিজনেস স্কুলে এমবিএ করার জন্য রতন টাটা (Ratan Tata) তাঁর প্রতিবেশী জ্যাক মালেতেকে দেওয়া ২৩.৭ লক্ষ টাকার ঋণও মুকুব করেছেন। মালেতে বর্তমানে সুইজারল্যান্ডে থাকেন। টাটার অবশিষ্ট সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ (শেয়ার এবং স্থাবর সম্পত্তি বাদে) তাজের প্রাক্তন কর্মচারী মোহিনী দত্তকে দেওয়া হয়েছে। সেশেলে টাটার ৮৫ লক্ষ টাকা মূল্যের জমি সিঙ্গাপুরে নিবন্ধিত একটি তহবিল আরএনটি অ্যাসোসিয়েটসকে দেওয়া হয়েছে। এর শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে রয়েছে টাটা ট্রাস্টের প্রাক্তন ম্যানেজিং ট্রাস্টি আর ভেঙ্কটরামন এবং টাটা টেকনোলজিসের প্রাক্তন সিইও প্যাট্রিক ম্যাকগোল্ডরিক।
আরও পড়ুন: ২০২৭ সালের বিশ্বকাপ খেলবেন কোহলি? রাখঢাক না রেখে নিজেই দিলেন “বিরাট” প্রতিক্রিয়া, জানালেন…..
কাকে এক্সিকিউটার করা হয়েছে: জানিয়ে রাখি যে, রতন টাটার (Ratan Tata) দুই সৎ বোন, শিরিন জেজেভয় এবং দিনা জেজেভয়, তাঁর বন্ধু মেহলি মিস্ত্রি এবং টাটা ট্রাস্টের ট্রাস্টি দারিয়াস খাম্বাটা এই উইলের এক্সিকিউটার। প্রত্যেক এক্সিকিউটার উইলটি সম্পূর্ণ করার জন্য তাঁদের সময় এবং প্রচেষ্টা ব্যয় করার লক্ষ্যে ৫ লক্ষ টাকা পাবেন। প্রয়াত শিল্পপতি তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া এবং শ্রাদ্ধের ব্যয় তাঁর সম্পদ থেকে মেটানো নিশ্চিত করেছিলেন। এক্সিকিউটারদের মতে, শেষকৃত্যের খরচ ছিল ২,৫০০ টাকা।