বাংলাহান্ট ডেস্ক : সম্প্রতি চার দিনের চিন সফরে গিয়েছিলেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস। চিনা লগ্নি টানতে ভারতের (India) ‘সেভেন সিস্টার’ অঞ্চলে নিজেদের (বাংলাদেশের) একমাত্র সমুদ্রের অভিভাবক হিসাবে দাবি করে বিতর্ক তৈরি করেন প্রধান উপদেষ্টা। ইউনূসের এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে এবার মোক্ষম জবাব দিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।
ভারতের (India) বিদেশমন্ত্রীর কড়া জবাব ইউনূসকে
‘বে অফ বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি সেক্টোরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো অপরেশন’ (BIMSTEC) সম্মেলনে যোগদান করতে ইতিমধ্যেই ব্যাঙ্কক উড়ে গিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বাংলাদেশের (Bangladesh) প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসেরও যোগদান করার কথা রয়েছে এই বৈঠকে। BIMSTEC সম্মেলনের ফাঁকে মোদি ও ইউনূসের বৈঠক নিয়ে আশায় বুক বাঁধছে ঢাকা।
আরও পড়ুন : ‘কয়েকটা বদমায়েশকে মারতে গোটা গ্রাম জ্বালানো হল’! SSC মামলার রায়দানের পর ‘গল্প’ শোনালেন দেবাংশু
এই আবহেই বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের (S Jayshankar) মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। সম্প্রতি চিন সফরে গিয়ে ইউনূস বলেন, ‘ভারতের উত্তর-পূর্বের সাতটি রাজ্য যা কিনা সেভেন সিস্টার নামে খ্যাত সেগুলি স্থলভাগ বেষ্টিত। সমুদ্রে পৌঁছানোর কোনও রাস্তা নেই তাদের। সমগ্র অঞ্চলের (উত্তর-পূর্ব ভারত) সমুদ্রের একমাত্র অভিভাবক আমরা।’
আরও পড়ুন : ‘এটা খুব সিরিয়াস ইস্যু’! মোথাবাড়ি মামলায় কেন্দ্রকে বড় নির্দেশ দিয়ে দিল কলকাতা হাইকোর্ট
পাশাপাশি উত্তর-পূর্ব ভারতকে টার্গেট করে চিনা অর্থনীতি সম্প্রসারণের কথাও এদিন শোনা যায় ইউনূসের গলায়। ইউনূসের এই বক্তব্যের পরই শুরু হয়েছে জলঘোলা। ঢাকার তরফে পরিস্থিতি সামাল দিতে দাবি করা হয়েছে, সম্পূর্ণ সৎ উদ্দেশ্যে এই কথা বলেছেন প্রধান উপদেষ্টা। বাংলাদেশের তরফে ড. খলিলুর রহমান বলেন, কেউ যদি এই বক্তব্যের অন্য ব্যাখ্যা করে তাহলে কিছু করার নেই।
এরপরই ময়দানে নেমে ঢাকাকে পাল্টা জবাব দিলেন ভারতের (India) বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। এস জয়শঙ্করের বার্তা, ‘ বঙ্গোপসাগরে প্রায় ৬৫০০ কিলোমিটারের দীর্ঘতম উপকূল রেখা আমাদের রয়েছে। শুধু পাঁচটি বিমসটেক সদস্যের সাথেই সীমান্ত ভাগ করে না ভারত, বরং তাদের অধিকাংশকে সংযুক্ত করে। ভারতীয় উপমহাদেশ এবং আসিয়ানের মধ্যে সংযোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ প্রদান করে ভারত।’
Delighted to participate in the 20th BIMSTEC Ministerial Meeting in Bangkok this morning.
Expressed India’s solidarity and support for Myanmar & Thailand in face of the massive earthquake.
Highlighted that:
➡️ BIMSTEC represents the trifecta of India’s three crucial… pic.twitter.com/DKMf3STlHM
— Dr. S. Jaishankar (@DrSJaishankar) April 3, 2025
একই সাথে বিদেশমন্ত্রী বলেন, ‘বিমসটেকের জন্য একটি সংযোগ কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে ভারতের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলটি। সড়ক, রেলপথ, জলপথ, গ্রিড এবং পাইপলাইনের অসংখ্য নেটওয়ার্ক রয়েছে সেখানে। এই ভূ-কৌশলগত বিষয়টি মাথায় রেখে, আমরা গত দশকে BIMSTEC-কে শক্তিশালী করার জন্য ক্রমবর্ধমান শক্তি এবং মনোযোগ নিবেদিত করেছি।’