নেই দু’হাত, পা দিয়েই করেন ব্যাট, বল! কাশ্মীরের ক্রিকেটারের প্রতিভায় মুগ্ধ সচিন থেকে ভিকি কৌশল

   

বাংলা হান্ট ডেস্ক : সমস্ত প্রতিবন্ধকতাকে সরিয়ে রেখে কেবল ক্রিকেটকেই ধ্যান জ্ঞান করে নিয়েছেন তিনি। তবে তার দু’টি হাতই নেই। কাশ্মীরের (Kashmir) ওয়াঘামা গ্রামের বাসিন্দা আমির (Aamir Hussain Lone) আট বছর বয়সে তার বাবার মিলে কাজ করার সময়ই হারিয়ে বসেছিলেন নিজের দুটি হাত। তবুও অটুট ছিল ক্রিকেটার (Cricketer) হওয়ার বাসনা। সেই বাসনাকে সামনে রেখেই আজ তিনি একজন ক্রিকেটার! ভাবছেন কী করে? চলুন শুনি আমির হুসেন লোনের গল্প।

আমির লোন একজন ক্রিকেটার। দুর্ঘটনায় দুটি হাতই হারিয়ে বসেন তিনি। যদিও তিনি কিন্তু কারও উপরই নির্ভরশীল নন। নিজের সব কাজ তিনি নিজেই করে নেন। সবচেয়ে অবাক করবে তার ঘাড় ও কাঁধের মধ্যে ব্যাট ধরার ভঙ্গিমা। তার এই অবিশ্বাস্য অধ্যাবসায় দেখে মুগ্ধ সচিন তেন্ডুলকর থেকে আশীষ নেহরার মত তাবড় তাবড় তারকারা।

কী হয়েছিল?

ছোটবেলায় বাবার মিলে কাজ করার সময় এক দুর্ঘটনায় নিজের দুই হাত হারান আমির। তারপরেও হার না মানা জেদ আর অধ্যাবসায়কে সঙ্গী করে এগিয়ে চলেন। ঘাড় ও কাঁধের মাঝখানে ব্যাট ধরার দক্ষতা আয়ত্ত করেন আমির। বোলিং শুরু করেন পা দিয়েই। বছর ৩৪ এর আমিরের কথায়, ‘আমার খেলার জন্য আমি সর্বত্র প্রশংসা পেয়েছি, এবং আমি মনে করি, ঈশ্বর আমার সঙ্গে রয়েছেন। আমি ঈশ্বর ছাড়া কারও উপর নির্ভরশীল নই।’

আরও পড়ুন : খাঁ খাঁ করছে মালদ্বীপ! ভারতে ‘বয়কট’ ট্রেন্ড শুরু হতেই বড় ক্ষতির মুখে দ্বীপরাষ্ট্র, মাথা ঘুরিয়ে দেবে টাকার অঙ্ক

সাল ২০১৩ থেকে প্যারা ক্রিকেট খেলছেন তিনি। এবং আজ তিনি জম্মু ও কাশ্মীর প্যারা দলের অধিনায়কও বটেন। কেরিয়ার সম্পর্কে আমির বলেন, ‘আমি ২০১৩ সালে দিল্লিতে জাতীয় দলের হয়ে খেলেছিলাম এবং ২০১৮ সালে আমি বাংলাদেশের বিপক্ষে একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছিলাম। এর পর নেপাল, শারজা ও দুবাইয়ে ক্রিকেট খেলেছি। আমাকে আমার পা দিয়ে খেলতে (বোলিং) এবং কাঁধ ও ঘাড় দিয়ে ব্যাটিং করতে দেখে সবাই হতবাক। আমাকে ক্রিকেট খেলার শক্তি দেওয়ার জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাই।’

এর আগে সচিন থেকে শুরু করে দেশের বড় বড় ক্রিকেটার আমিরের এই প্রতিভার কাছে নত হয়েছেন। এবং আশিষ নেহরা তো মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ভারত ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচ দেখার জন্য আমিরকে স্পেশাল অমন্ত্রণও পাঠিয়েছিলেন। এছাড়াও বলি তারকা ভিকি কৌশল একদা বলেছিলেন, ‘যদি আমি কখনও একটি বায়োপিক করার সুযোগ পাই, তবে কোন ভারতীয় ক্রিকেটার হবেন তিনি, এই উত্তর আমি পেয়ে গেলাম। সিনেমার মাধ্যমে ওর জীবন তুলে ধরার সুযোগ পেলে ,নিজেকে অনেক ভাগ্যবান মনে করব।’

Moumita Mondal
Moumita Mondal

মৌমিতা মণ্ডল, গ্র্যাজুয়েশনের পর শুরু নিয়মিত লেখালেখি। বিগত ৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে লেখালেখির সাথে যুক্ত। প্রায় ২ বছর ধরে বাংলা হান্ট-এর কনটেন্ট রাইটার হিসেবে নিযুক্ত।

সম্পর্কিত খবর