গরু পাচার মামলায় নয়া মোড়! মামাকে ৬ তলা বিলাসবহুল বাড়ি ‘দান’ সায়গলের, নজর CBI-র

Published On:

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ সম্প্রতি, সিবিআইয়ের (CBI) হাতে গ্রেফতার হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) নেতা অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mondal)। গরু পাচার মামলায় বীরভূম জেলা সভাপতির সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে বলে অনুমান সিবিআইয়ের। এমনকি, সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) পেশ করা চার্জশিটেও সেই বিষয়ে উল্লেখ করেছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। এই মামলায় কয়েক মাস পূর্বেই তদন্তকারী অফিসারদের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন অনুব্রত মণ্ডলের দেহরক্ষী সায়গল হোসেন (Saygal Hossain)। বর্তমানে অনুব্রতর সেই দেহরক্ষীর বিষয় সম্পত্তি প্রসঙ্গে একের পর এক চাঞ্চল্যকর উঠে এসেছে। একজন দেহরক্ষীর কাছে এত বিশাল পরিমাণ অর্থ কি করে মজুত থাকতে পারে, তা ভেবে সন্দিহান সিবিআই অফিসাররাও।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে সায়গল হোসেনের নামে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তির পাশাপাশি একাধিক জমির সন্ধান মিলেছে সিবিআইয়ের হাতে। সম্প্রতি, পেশ করা চার্জশিট অনুযায়ী, সায়গলের মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৪ কোটি ১০ লক্ষ টাকা। তবে শুধু তার কাছেই নয়; সিবিআই সূত্রে খবর, সায়গল তার আত্মীয়-স্বজনের নিকট যে পরিমাণ টাকা মজুত রেখেছে, সবকিছু ধরলে টাকার অংকের পরিমাণ বহু গুণের বৃদ্ধি পাবে। আর সেই প্রসঙ্গেই এবার উঠে এলো সায়গল হোসেনের মামা হাবিবুর রহমানের ‘ছয় তলা বাড়ি’ প্রসঙ্গ।

প্রসঙ্গত, ডোমকল বাজারের নিকট প্রায় পাঁচ শতক জমির উপর হাবিবুর রহমানের ‘ছয় তলা’ একটি বিশাল বাড়ি রয়েছে। সূত্রের দাবি, সেই বাড়িটি তাঁকে সায়গলের মা দান করেছিলেন। উল্লেল্য, সায়গলের মা লতিফা বেওয়ার স্বামী রাজ্য পুলিশের এসআই পদে নিযুক্ত ছিলেন। সেই সময় একপ্রকার অভাব অনটনেই তাদের সংসার চলত। বাবা মারা যাবার পর সায়গল সেই একই পদে চাকরি পান। সূত্রের দাবি, এর পরই অনুব্রতর সঙ্গ পেয়ে ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেতে থাকে তার সম্পত্তির পরিমাণ।

তবে হাবিবুর রহমানের যে ‘ছয় তলা’ বাড়ি নিয়ে বিতর্ক, এদিন যে প্রসঙ্গে তিনি জানান, “দিদি আমাকে কেন এই বাড়িটি দান করেছেন, সেটা তিনি বলবেন। তবে আমি এটাই বলতে পারি যে, ও আমাকে খুব স্নেহ করে।” একই সঙ্গে জলঙ্গি এলাকাতেও হাবিবুরের বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে। সে প্রসঙ্গে তিনি জানান, “আমার বাবার একাধিক জমি থাকার পাশাপাশি ইটভাটার ব্যবসা রয়েছে। সেখান থেকে যে আয় হয়, তাতে বাড়ি তৈরি করাই যায়।” তবে এলাকাবাসীদের আবার অন্য দাবি! তাদের মতে, চাষবাসের পাশাপাশি ইটভাটা চালিয়েও বিলাসপুর বাড়ি তৈরি করা কোনমতেই সম্ভব নয়।

বর্তমানে গরু পাচার মামলায় সায়গল হোসেন এবং তার সম্পত্তি প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বিতর্ক বর্তমান। এ প্রসঙ্গে সিপিএম নেতা জামির মোল্লা বলেন, “দুর্নীতি করে নিজেদের নামে বেশি সম্পত্তি রাখতে চায়নি ওরা। সেই কারণেই আত্মীয়-স্বজনের কাছে এসব সম্পত্তি রেখে দেয়।” অপরদিকে তৃণমূলের দাবি, “তদন্ত তদন্তের পথে চলুক। নিরপেক্ষ বিচার হোক। তবে সায়গল হোসেন আমাদের দলের কোন কর্মী নন। যদি তিনি দোষী হন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”

সম্পর্কিত খবর

X