বাংলাহান্ট ডেস্ক: বলিউডে ভিন্ন ধারার গায়িকাদের মধ্যে অন্যতম সোনা মহাপাত্র (sona mahapatra)। বরাবর নিজের প্রতিভার জোরে জায়গা পাওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি এবং ইন্ডাস্ট্রিতে মহিলাদের সমান অধিকারের জন্য সরব হয়েছেন। এর জেরে বহুবার সমালোচনা, কটাক্ষ সইতে হয়েছে সোনাকে। কিন্তু তিনি অপ্রতিরোধ্য। বরং ট্রোলের তোয়াক্কা না করে ভিন্ন পথে নিজের স্থান প্রতিষ্ঠা করছেন তিনি মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে।
চার বছর আগে ‘শাট আপ সোনা’ তথ্যচিত্রের উপর কাজ শুরু করেন গায়িকা। সংবাদ মাধ্যমে সোনার অভিযোগ, বলিউডে মহিলা শিল্পীদের কাজের পরিসীমা খুবই কম। সেখান থেকেই তথ্যচিত্রটি বানানোর কথা মাথায় আসে তাঁর। অম্বর জরিয়া, নয়নার মতো।সুপারহিট গান উপহার দিয়েছেন সোনা মহাপাত্র। তা সত্ত্বেও তাঁর কাছে প্রস্তাব আসত না। একটা সময় মানসিক অবসাদে চলে গিয়েছিলেন তিনি।
গায়িকা বলেন, শুধুমাত্র নিজের প্রতিভার উপর ভরসা করেই বলিউডে জায়গা করতে এসেছিলেন তিনি। কিন্তু এখানে এসে বোঝেন কাজ পাওয়াটা অনেকটাই লিঙ্গ নির্ভর। সোনার ক্ষোভ, একটা সময় এই ইন্ডাস্ট্রিতে লতা মঙ্গেশকর, আশা ভোঁসলের মতো প্রবাদপ্রতিম গায়িকার রাজত্ব করেছেন। অথচ সেই ইন্ডাস্ট্রিতে মহিলাদের অধিকারের এখন এই হাল!
নিজের সঙ্গে হওয়া অন্যায়ের কথা বলতে গিয়ে সোনা জানান, ‘রইস’ ছবিতে অরিজিৎ সিংয়ের সঙ্গে একটি গান গাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল তাঁকে্য রাজিও হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু পরে জানতে পারেন গানে মহিলা শিল্পীর অংশটি একেবারে শেষে মাত্র কয়েক লাইন। সে গান আর গাননি সোনা। এমনি আরেকবার ‘এয়ার লিফট’ ছবিতে ‘সোচ না সকে’র জন্য সোনাকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন অমল মালিক। কিন্তু নায়ক অক্ষয় কুমার নিজে গানটি গাওয়ার আবদার করে বসেন। ব্যস! সোনার কথায়, ছবির তারকারা এবং প্রযোজকরাই যাবতীয় সিদ্ধান্ত নেন। সঙ্গীত পরিচালকদের হাতে কিছুই থাকে না।
কথায় কথায় ওঠে নারীবাদের প্রসঙ্গ। নারীবাদী বলে বলিউডে সুখ্যাত কুখ্যাতি দুটোই আছে সোনার। ২০১৫ সালে নন্দিতা দাস বলেছিলেন, ‘পুরুষ।মাত্রেই সম্ভাব্য ধর্ষক’। এই বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে সোনার কী মত? গায়িকা বলেন নন্দিতা দাসের সঙ্গে তিনি একমত নন। প্রত্যেক পুরুষকে ধর্ষক বললে বলতে হয় সমস্ত নারীই নির্যাতিত। সোনার কথায়, ভাল মন্দ দুই মেশানো হয়েছে সকলের মধ্যে। তিনি নিজেও সঙ্গীত পরিচালক অনু মালিকের বিরুদ্ধে মিটুর অভিযোগ এনেছিলেন। কিন্তু পরে ইন্ডিয়ান আইডলে বহাল তবিয়তে বিচারকের দায়িত্ব সামলাতে দেখা গিয়েছে অনুকে। বিষয়টা নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন সোনা। তিনি দাবি করেন, তাঁর প্রতিবাদ অভিযোগে কোনো লাভই হয়নি।
বলিউডের পাশাপাশি টলিউডেও কাজ শুরু করেছেন সোনা মহাপাত্র। বিক্রম ঘোষের সুরে পুজোর গান গেয়েছেন তিনি। আশা করেন ভবিষ্যতে আরো বাংলা গান গাইবেন। কিন্তু সোনার স্বীকারোক্তি, তিনি রবীন্দ্রসঙ্গীতের ভক্ত নন। বড্ড একঘেয়ে লাগে। বরং নজরুলগীতি এবং বাউল গান শুনে মুগ্ধ হয়ে গিয়েছেন তিনি।l