বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ঝুলে ছিল ২৬ হাজারের ভাগ্য। বহু টালবাহানার পর এসএসসি ২৬০০০ চাকরি বাতিল মামলার (SSC Recruitment Scam) রায়দান করল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। SSC মামলায় ২৬০০০ চাকরি বাতিল করল সুপ্রিম কোর্ট। গোটা প্যানেলই বাতিল করে দিল সর্বোচ্চ আদালত। কপাল পুড়ল প্রায় ২৬০০০ জনের। এদিন সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খন্না এবং বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের ডিভিশন বেঞ্চ রায় ঘোষণা করেন।
এদিন সুপ্রিম কোর্ট জানায়, হাইকোর্টের রায়ে হস্তক্ষেপ করার কোনও কারণ দেখছি না৷ সর্বোচ্চ আদালত জানিয়েছে, যে সমস্ত চাকুরিজীবীরা নিজেদের পূর্বতন চাকরি ছেড়ে এই চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন তারা নিজেদের পুরনো চাকরিতে ফিরে যাওয়ার আবেদন করতে পারবেন। আগামী তিন মাসের মধ্যে তাদের পূর্বতন কাজে ফেরত পাঠাতে হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দুই বিচারপতির বেঞ্চ।
আরও পড়ুন: মান্যতা পেল না বিরোধীদের আপত্তি! গভীর রাতে লোকসভায় পাশ হল ঐতিহাসিক ওয়াকফ সংশোধনী বিল
রায়ে আদালত জানিয়েছে, ফ্রেশ নিয়োগ প্রক্রিয়া করতে হবে। প্রশ্ন ছিল, এতদিনে চাকরিপ্রার্থীদের বয়স পেরিয়েছে, সেক্ষেত্রে কী হবে? সুপ্রিম কোর্ট রায়ে জানিয়েছে, এজ রিল্যাকসেশন দেওয়া হবে যারা ট্রেইনড নয় তাদের জন্য এবং বিশেষভাবে সক্ষমদের জন্য৷ যে সকল যোগ্যরা এতদিন চাকরি করেছেন, বেতন পেয়েছেন তাদের বেতন ফেরত দিতে হবে না বলে জানা গিয়েছে।
এ দিন পর্যবেক্ষণে প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন, নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। কোনোভাবেই যোগ্য-অযোগ্যদের বাছাই করা সম্ভব নয়। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, যারা দোষী নন, তারা নতুন করে চাকরির জন্য আবেদন করতে পারবেন। একই সাথে সুপ্রিম কোর্ট সাফ জানিয়েছে, এই মামলার তদন্ত চালিয়ে যাবে সিবিআই। অর্থাৎক্যাবিনেটের বিরুদ্ধে তদন্ত সংক্রান্ত যে নির্দেশ হাইকোর্ট দিয়েছিল সেই নির্দেশও বহাল রাখল সর্বোচ্চ আদালত।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর যে শূন্যপদগুলি তৈরি হল সেগুলিতে আগামী ৩ মাসের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ২২ এপ্রিল কলকাতা হাইকোর্ট ২৫,৭৫৩ জন শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিলের যে নির্দেশ দিয়েছিল। এরপর জল গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে। প্রায় এক বছর পর সেই রায়ই বহাল রাখল শীর্ষ আদালত।