জ্যোতিপ্ৰিয় থেকে কালীঘাটের কাকু এবার বিপাকে সবাই! রাজ্যকে বিরাট নির্দেশ প্রধান হাইকোর্টের

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ইডি (Enforcement Directorates) বারংবার অভিযোগ তুলে আসছে দুর্নীতিবাজদের আস্থানা এসএসকেএম (SSKM)। বিভিন্ন দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত প্রভাবশালীদের ‘সেফ প্লেস’ রাজ্যের এই সরকারি হাসপাতাল। তবে শুধু ইডিই নয়, বিরোধীদের, মুখে মুখেও এই একই অভিযোগ। প্রভাবশালীদের জ্বালায় বেড না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন বহু সাধারণ মানুষও। আর এবার এই ইস্যুতেই কড়াকড়ি খোদ কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court)। এসএসকেএম এ কোন কোন বা হাই প্রোফাইল ভর্তি আছেন? রিপোর্ট আকারে তা রাজ্যকে জানানোর নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানমের (Chief Justice Justice T. S. Sivagnanam) ডিভিশন বেঞ্চ।

   

শুধু তাই নয়, বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের সাফ নির্দেশ, বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন প্রভাবশালীদের স্বাস্থ্যের বর্তমান কী অবস্থা এবং তাদের সুস্থ হতে আরও কতদিন সময় দরকার, সেই সমস্তও বিষয়ও হলফনামা আকারে জানাতে হবে। এসএসকেএমের ডিরেক্টরকে নির্দেশ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের৷

প্রসঙ্গত, এসএসকেএম হাসপাতালে বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত ‘প্রভাবশালী’দের দীর্ঘদিন ধরে ভর্তি থাকা নিয়ে জোড়া জনস্বার্থ মামলা হয়েছিল। এর প্রেক্ষিতেই কলকাতা হাইকোর্টের প্রশ্ন, দিনের পর দিন কিভাবে কেউ হাসপাতালে জায়গা দখল করে থাকতে পারেন? কিছুদিন আগেই হাসপাতালে শিশুদের জন্য বরাদ্দ শয্যায় রাখা হয়েছিল কালীঘাটের কাকুকে। সেই নিয়েই এদিন প্রশ্ন তোলে হাইকোর্ট।

আরও পড়ুন: দুর্নীতির তদন্ত করতে যাওয়ায় কাল হল! তৃণমূল নেতার হাজার হাজার অনুগামীরা মেরে ভাগালো ED-কে

high court

কেন শিশুদের বেডে রাখা হয়েছিল অভিযুক্ত সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রকে? এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করতে গিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘এসএসকেএম হাসপাতালে প্রভাবশালীদের রাখার জন্যই আলাদা ওয়ার্ড তৈরি করে দেওয়া হোক৷’ আর কতদিন সময় লাগবে ওই প্রভাবশালী অসুস্থদের সুস্থ হতে? জানতে চাইল আদালত। এর জবাবে সরকারি আইনজীবী বলেন, সেটা চিকিৎসকরাই বলতে পারবেন৷

প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, ‘কাউকে গ্রেফতার করার পরেই তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়, তিনি সুস্থ হলে তাকে জেলে পাঠানো হয়। যদি কেউ অসুস্থ হন তাহলে সংশোধনাগারের নিজেদের একটি হাসপাতাল থাকে। যখন সেই হাসপাতাল চিকিৎসা করতে ব্যর্থ হয় তখনই তাকে সংশোধনাগারের অধীনে কোনও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিন – চারদিন পরেই জেল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসকদের কাছ থেকে রিপোর্ট চেয়ে পাঠায়। সুস্থ হলে ফের জেলে পাঠানো হয় কিন্তু তার মানে এই নয়, সেই ব্যক্তিকে পাঁচ মাস ছয় মাস হাসপাতালে ভর্তি করে রাখা হবে। দিনের পর দিন বেড দখল করা ঠিক নয়।’ প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, ‘এসএসকেএম হাসপাতাল প্রভাবশালী অভিযুক্তদের আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগে সত্য হলে তা গুরুতর৷