বাংলা হান্ট ডেস্কঃ গত বছর আমফানে রাজ্যে লাগামছাড়া দুর্নীতির অভিযোগ করেছিল বিজেপি এবং বাকি বিরোধী দলগুলো। এবার ইয়াস নিয়েও ফের দুর্নীতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে গেরুয়া শিবির। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) নিজের এলাকা নন্দীগ্রামে পর্যবেক্ষণে গিয়ে গুরুতর অভিযোগ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার ইয়াস মোকাবিলায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। ইয়াস মোকাবিলার জন্য কেন্দ্রের তরফ থেকে রাজ্যকে আগাম ৪০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে, সেই টাকা কোথায় কীভাবে খরচ হয়েছে সেটা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক।
https://twitter.com/SuvenduWB/status/1397890445590495234
এদিন নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের রেয়াপাড়ায় একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই বৈঠকে তিনি বলেন, ইয়াস মোকাবিলায় রাজ্য সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। সরকার ইয়াস আসার সাত-আটদিন আগেই এই বিষয়ে অবগত ছিল। কিন্তু এরপরেও উপকূলবর্তী এলাকায় শোচনীয় বাঁধ মেরামত করার কোনও কাজই করেনি। শুভেন্দুবাবু বলেন, এই বিপর্যয়ের সময়েও রাজনীতি করতে ব্যস্ত তৃণমূল। আর সেই কারণে বিজেপির বিধায়কদের কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
নন্দীগ্রামের বাঁশুলিচক ভেকুটিয়া অঞ্চল ১ নং জিপি তে সাইক্লোন ইয়াসের তান্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল পরিদর্শন করে স্থানীয় মানুষের সাথে কথা বলে ক্ষয়ক্ষতির পরিসংখ্যান নিলাম ও দুর্গতদের ত্রিপল ও শুকনো খাবার বিতরণ করলাম। #CycloneYaas pic.twitter.com/moxUgAurao
— Suvendu Adhikari (@SuvenduWB) May 27, 2021
রাজ্যকে ইয়াস মোকাবিলার জন্য অগ্রিম ৪০০ কোটি টাকা দিয়েছিল কেন্দ্র। তবে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টাকা বণ্টনে কেন্দ্রের ভূমিকায় প্রশ্ন তুলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ওড়িশা ৬০০ কোটি টাকা পেল, কিন্তু বাংলাকে দেওয়া হল ৪০০ কোটি টাকা। আগামীকাল রাজ্যে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বিধ্বস্ত এলাকাগুলো ঘুরে দেখবেন। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে একটি বৈঠকও হওয়ার কথা আছে। এখন দেখার বিষয় এটাই যে, ইয়াস মোকাবিলায় রাজ্যের জন্য কত টাকা বরাদ্দ করেন প্রধানমন্ত্রী। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন যে, ইয়াস ঘূর্ণিঝড়ের দাপটে রাজ্যে ১৫ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এদিন সাংবাদিক বৈঠকে কেন্দ্রের দেওয়া টাকা খরচ করা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেছেন, কেন্দ্র যেই ৪০০ কোটি টাকা দিয়েছে সেই টাকা কীভাবে খরচ হয়েছে সেটা জানার দরকার।