বাংলা হান্ট ডেস্কঃ সম্প্রতি দিল্লি হাইকোর্টের (Delhi High Court) বিচারপতি যশবন্ত বর্মার বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে টাকার পাহাড়। সেই ঘটনা শোরগোল ফেলে দিয়েছিল গোটা দেশে। এই আবহে নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিলেন সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) বিচারপতিরা। আইন, দেশবাসী এবং বিবেকের কাছে স্বচ্ছ থাকতে সর্বোচ্চ আদালতের জাস্টিসরা সর্বসম্মতভাবে প্রকাশ্যে নিজেদের সম্পদের পরিমাণ ঘোষণায় রাজি হয়েছেন।
নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) বিচারপতিদের!
গত মার্চ মাসে দোল উৎসবের আবহে বিচারপতি বর্মার (Justice Yashwant Varma) বাড়ি থেকে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা উদ্ধার হয়েছিল। সেই ছবি, ভিডিও ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে। এরপর থেকেই বিচার ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রকদের স্বচ্ছতা নিয়ে নানান মহল থেকে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। সেই সঙ্গেই বিচারপতিদের আয় ও সম্পত্তি সংক্রান্ত নথি প্রকাশের দাবি জানানো হতে থাকে।
এই আবহে গত ১ এপ্রিল সকল বিচারপতিদের নিয়ে একটি ফুল কোর্ট বৈঠক হয়। সেখানেই সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) বিচারপতিরা সর্বসম্মতভাবে প্রকাশ্যে নিজেদের সম্পদের পরিমাণ ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেন বলে খবর।
আরও পড়ুনঃ ‘ব্যবস্থা নিতে বলুন, নাহলে আমি কড়া নির্দেশ দিতে বাধ্য হব’! স্পষ্ট জানাল হাইকোর্ট! কোন মামলায়?
ওই বৈঠকে পাশ হওয়া প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার (CJI Sanjiv Khanna) কাছে শীর্ষ আদালতের সকল বিচারপতি নিজেদের সম্পত্তির পরিমাণ ঘোষণা করবেন। এরপর সেটি সুপ্রিম কোর্টের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে আপলোড করা হবে। যদিও সেটা দেশবাসী দেখতে পাবেন কিনা সেটা এখনও ঠিক করা হয়নি। তবে স্বচ্ছতার প্রতি দায়বদ্ধতার বিষয়টি ওই বৈঠকের প্রস্তাবে গৃহীত হয়েছে বলে খবর।
উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে গেলে ‘অ্যাসেটস অফ জাজেস’ নামের একটি পেজ দেখা যায়। তবে সেখানে ক্লিক করলে দেখা যায়, সেটি জনগণের জন্য নয়। জানা যাচ্ছে, ১৯৯৭ সালে শীর্ষ আদালতের কলেজিয়াম ঠিক করেছিল, প্রত্যেক বিচারপতিকে নিজেদের সম্পত্তির পরিমাণ ঘোষণা করতে হবে। তবে সেটা সামনে আসবে না। প্রধান বিচারপতির কাছে গোপন থাকবে। যদিও সম্পূর্ণ বিষয়টি স্বেচ্ছাকৃত। কেউ যদি নিজের সম্পদের পরিমাণ ঘোষণা না করেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপের কোনও ব্যবস্থা নেই।
এদিকে আজ সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) তরফ থেকে ২০১৬ সালের এসএসসির সম্পূর্ণ প্যানেল বাতিলের রায় দেওয়ার পর বিচারপতি যশবন্ত বর্মার বাড়ি থেকে কাঁড়ি কাঁড়ি নগদ উদ্ধারের প্রসঙ্গ টেনে আনেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, আমি ভুলও হতে পারি। একজন বিচারকের বাড়ি থেকে কোটি কোটি টাকা উদ্ধারের পর তাঁকে যদি শুধু বদলি করা হয়, তাহলে আমাদের শিক্ষকদেরও বদলি করতে পারতো।