বাংলা হান্ট ডেস্কঃ এক, দুই নয়, ৪৫৪ লক্ষ টাকা জরিমানা (Fine)! মঙ্গলবার একটি মামলায় এমনই নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। বিচারপতি অভয় এস ওকা ও বিচারপতি উজ্জ্বল ভুঁইয়ার ডিভিশন বেঞ্চের তরফ থেকে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই এই নিয়ে জোর শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
কোন মামলায় এই নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)?
সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উন্নত হচ্ছে শহর, শহরতলি, গ্রাম। সেই সঙ্গেই বহু জায়গায় উন্নয়নের নামে নির্বিচারে বনাঞ্চল ধ্বংস করা হচ্ছে। প্রকৃতির তোয়াক্কা না করেই কাটা হচ্ছে শয়ে-শয়ে গাছ। এভাবে বনাঞ্চল ধ্বংস আদতে মানবসভ্যতাকেই ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। ফের একবার একথা মনে করিয়ে বড় নির্দেশ দিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট।
আগ্রার তাজমহলের কাছে রয়েছে তাজ ট্র্যাপিজিয়াম জোন। প্রায় সাড়ে ১০,০০০ স্কোয়্যার কিলোমিটার অঞ্চল জুড়ে এই সংরক্ষিত এলাকা রয়েছে। সেখান থেকে ৪৫৪টি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগে একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) মামলা দায়ের হয়। গতকাল সেই মামলার শুনানিতেই বড় নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
আরও পড়ুনঃ ‘অবিলম্বে রাজ্যকে ব্যবস্থা নিতে হবে’! নিয়োগ নিয়ে কড়া নির্দেশ দিয়ে দিল হাইকোর্ট! কোন মামলায়?
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, একের পর এক এভাবে গাছ কেটে ফেলা মানুষ খুনের থেকেও বড় অপরাধ। ওই ৪৫৪টি গাছ থেকে পরিবেশের যে ভালো হতো, সেটা পুনরুদ্ধার করতে আরও এক শতক লেগে যাবে। এছাড়া ওই গাছগুলি (Trees) কাটার ক্ষেত্রে কারোর অনুমতির পরোয়া করেননি অভিযুক্ত ব্যক্তি।
সেই মামলার প্রেক্ষিতে সেন্ট্রাল এমপাওয়ার্ড কমিটির রিপোর্ট গ্রহণ করে সুপ্রিম কোর্ট। সেখানে মথুরা-বৃন্দাবনে ডালমিয়া ফার্মসে ৪৫৪টি গাছ কাটার জন্য জনৈক শিবশঙ্কর আগরওয়ালকে গাছপ্রতি ১ লক্ষ টাকা করে জরিমানা করা হয়। সেটিই নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
জানা যাচ্ছে, অভিযুক্তের আইনজীবী মুকুল রোহতগি এদিন মেনে নেন তাঁর মক্কেল ভুল করেছেন। সেই সঙ্গেই জানান, তাঁর পক্ষে এত টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। জরিমানার টাকা কমানোর আবেদন জানান তিনি। যদিও সেই আর্জি খারিজ করে দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) নির্দেশ অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ওই অঞ্চলে গাছ লাগাতে হবে। সেই সঙ্গেই সব পক্ষের সম্মতিতে তাঁর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আর্জির নিষ্পত্তি করতে হবে। জানা যাচ্ছে, তাজ ট্র্যাপিজিয়াম জোনের মধ্যে যে সকল জায়গা ব্যক্তিগত মালিকানাধীন ও জঙ্গল নয়, সেখান থেকে গাছ কাটতে অনুমতি নিতে হয়। ২০১৯ সালে এমনই নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। তবে এই মামলার অভিযুক্ত ব্যক্তি কারোর অনুমতির পরোয়া না করেই ৪৫৪টি গাছ কেটেছিলেন। সেই কারণে তাঁকে গাছপ্রতি ১ লক্ষ টাকা জরিমানা করার পাশাপাশি ওই অঞ্চলে গাছ লাগানোর নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।