বাংলা হান্ট ডেস্কঃ শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট পেশ করে রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। ওই চার্জশিটে তাঁরা উল্লেখ করেছেন জনৈক ‘অভিষেক ব্যানার্জী’র নাম। তারপরেই বঙ্গ রাজনীতির অলিন্দে তৈরী হয়েছে বিস্তর জল্পনা। সিবিআই-এর চার্জশিট নজরে পড়তেই এপ্রসঙ্গে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhisek Banerjee) আইনজীবী সঞ্জয় বসু।
চার্জশিটে জনৈক অভিষেকের নাম নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) প্রতিক্রিয়া
আইনজীবি সঞ্জয়ের অভিযোগ শিক্ষক নিয়োগের দুর্নীতি মামলায় ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ ভাবে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদককে ‘টার্গেট’ করছে সিবিআই। তারপরেই এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানালেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এবার তিনি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বললেন, ‘সঞ্জয় বোসকে দিয়ে চিঠি না দিয়ে ক্ষমতা থাকলে অভিষেক নিজেই সিবিআইয়ের বিরুদ্ধে চিঠি লিখুন।’
প্রসঙ্গত এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত অভিষেকের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। একইসাথে এদিন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকেও আক্রমণ শানিয়েছেন শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)। তাঁর কথায়, ‘সিবিআইয়েরও কাজ নেই। ওটা তো স্পেশিফিক কেস! সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র তো লিপস অ্যান্ড বাউন্সের সিও, তার চেক পাওয়ার রয়েছে অভিষেকের নামে। এটা সবাই জানে।’ তারপরেই এদিন শুভেন্দু চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, ক্ষমতা থাকলে আইনজীবীকে দিয়ে চিঠি না দিয়ে অভিষেক যেন সরাসরি সিবিআইকে চিঠি দেয়।
আরও পড়ুন: চাকরি বিক্রির টাকা নিয়ে পার্থ-অভিষেক দ্বন্দ্ব! বিস্ফোরণ ঘটাল CBI
গতকাল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই যে চার্জশিট জমা দিয়েছে সেখানে উঠে এসেছে জনৈক ‘অভিষেক ব্যানার্জী’র নাম। একটি অডিও ক্লিপ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী সিবিআইয়ের অভিযোগ, এই চক্রের মাধ্যমে টাকা নিয়ে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার জন্য ১৫ কোটি টাকা ঘুষ চাওয়া হয়েছিল। তবে সিবিআইয়ের তরফে স্পষ্ট করে জানানো হয়নি জনৈক এই ‘অভিষেক ব্যানার্জী’ আসলে কে? কিংবা কী তাঁর পরিচয়?
সিবিআই-এর চার্জশিট প্রকাশ্যে আসতেই বুধবার সংবাদমাধ্যমে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনীদীব সঞ্জয় বসু। এপ্রসঙ্গে তাঁর দাবি ছিল, ‘এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তদন্তে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণ নেই, তাই ইডি কোনও চার্জশিট দেয়নি। অথচ সিবিআই তাঁকে রাজনৈতিকভাবে টার্গেট করছে।’ তাঁর আরও অভিযোগ ছিল, একটি বিশেষ রাজনৈতিক শক্তি নাকি সিবিআইয়ের মাধ্যমে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বদনাম করার চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি ছিল এইভাবে জনগণের মনে বিভ্রান্তি তৈরি করতে, তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই ওই চার্জশিট পেশ করা হয়েছে।