‘বাবা-মায়েরা নিজের সন্তানের সঙ্গে তাঁদের বিয়ে করানোর ঝুঁকি নেন না” কাদের নিয়ে এমন বললেন শুভেন্দু

বাংলাহান্ট ডেস্ক : চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগ নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এদিন তিনি বলেন, ‘রাজ্য সরকার গত সাড়ে ১১ বছর ধরে এমন এমন চুক্তিভিত্তিক বা অস্থায়ী সরকারি কর্মী নিয়োগ করেছে, তাঁদের এতটাই কম বেতন যে কোনও বাড়ির বাবা- মায়েরা নিজেদের সন্তানদের তাঁদের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করার ঝুঁকি নেন না।’

   

চাঞ্চল্যকর অভিযোগে রাজ্য সরকারকে কার্যত আক্রমণ করলেন নন্দিগ্রামের সাংসদ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ওই সমস্ত সরকারি কর্মীদের মাসিক বেতন কারও দেড় হাজার টাকা, কারও ৪ হাজার টাকা, কারও ৬ আবার কারও বা ৮ হাজার টাকা। এই বেতন দিয়ে কি সংসার চালানো যায়?’

প্রশ্ন তুলে বিরোধী দলনেতা  শুভেন্দু এও বলেন, ‘একটা বাচ্চাকে মোটামুটি ভাল স্কুলে  ভর্তি করলেই তার পঠন-পাঠনের জন্যেই চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা খরচ হয়। সেখানে যদি ওই সমস্ত চুক্তিভিত্তিক সরকারি কর্মীদের বেতন কাঠামোর হাল এই হয়, তাহলে বুঝে নিন বাংলার মেধাযুক্ত মানুষদের সরকারি চাকরির কি হাল।’ শুভেন্দু অধিকারীর দাবি , ‘এই একই পদে যারা স্থায়ী হিসেবে নিযুক্ত রয়েছেন সেই সমস্ত সরকারি কর্মীদের বেতন মাসে ৩০ হাজার টাকা। অথচ সস্তার রাজনীতি করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের বিপথে ঠেলে দিচ্ছেন। বাংলার শিক্ষিত বেকার যুবক যুবতীদের সঙ্গে ছিনিমিনি খেলছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতিদিনই শুনছি সরকারি কর্মী নিয়োগ হচ্ছে। আর প্রতিদিনই মুখ্যমন্ত্রী নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে মিথ্যে কথা বলে যাচ্ছেন৷’

তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে প্রায় রোজই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সরব হচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী। কখনও তিনি আক্রমণ শানাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কখনও বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আবার কখনও বা তাঁর নিশানায় শাসকদলের অন্য কোনও নেতা মন্ত্রীরা। এবার চুক্তিভিত্তিক সরকারি কর্মীদের বেতন পরিকাঠামো নিয়ে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই তোপ দাগলেন শুভেন্দু।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু এদিন তৃণমূলের একাধিক দুর্নীতির বিষয়েও সরব হন। তিনি বললেন, ‘বাংলার জনতা দুর্নীতিগ্রস্ত এই সরকার থেকে মুক্তি চাইছে। এ রাজ্যে বিজেপিই একমাত্র বিকল্প। বাংলার মসনদে বিজেপি এলে অন্যান্য বিজেপি শাসিত রাজ্যের মতো পশ্চিমবঙ্গও ডবল ইঞ্জিন সরকারের সুফল পাবে।’