‘মানুষ ভিখিরি নয়’, ভোটের আগে ‘জানোয়ার’ বলে আক্রমণ! লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে বোমা ফাটালেন অভিজিৎ!

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ আদালতের কক্ষ থেকে জনতার দরবারে এসেছেন কলকাতা হাই কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (Abhijit Ganguly)। একসময় ‘গরিবের ভগবান’ আখ্যা পেয়েছিলেন তিনি। সেই অভিজিৎকেই খাস তমলুক থেকে দাঁড় করিয়েছে বিজেপি (BJP) শিবির। এবার ভোট প্রচারে বেরিয়ে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করলেন তিনি।

সোমবার ভোট প্রচারে বেরিয়েছিলেন তমলুকের (Tamluk) বিজেপি প্রার্থী। এদিন অভিজিৎ বলেন, ‘গ্রামের ভেতর দিয়ে যাওয়ার সময় আমি দেখছিলাম ছোট ছোট কয়েকটা বাড়ি হয়েছে। হয়তো ইটের গাঁথনি হয়েছে, প্লাস্টার এখনও হয়নি। সেটা কবে হবে কেউ জানে না। কষ্টার্জিত টাকায় ছোট্ট বাড়ি বানানো, একটা সংসার তৈরি করার মূল্য কখনও ওই চোর ছ্যাঁচোড়েরা বুঝবে না’।

এরপরেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার (Lakshmir Bhandar) নিয়ে সুর চড়ান কলকাতা হাই কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি। অভিজিৎ বলেন, ‘আপনাদের শুধু বলবে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে হাজার টাকা দিয়ে দিচ্ছি। এই জানোয়াররা এটা জানে না যে মানুষ ভিখিরি নয়। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের নামে তোমরা পৈতৃক সম্পত্তির টাকা দিচ্ছ না। এগুলো সরকারের উপার্জন করা করের টাকা যা কিনা গোটা দেশ থেকে এসেছে। এটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের টাকা নয়। এটার জন্য কোনও কৃতিত্ব তোমরা দাবি করতে পারো না’।

আরও পড়ুনঃ তীব্র গরমে নাজেহাল অবস্থা! এবার গরমের ছুটি বাড়াল মধ্যশিক্ষা পর্ষদ, দেখুন দিনক্ষণ

উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসার পর থেকে একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্প চালু করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তৃণমূল (TMC) সরকার এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চালু করা এমনই একটি প্রকল্প হল লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। এবার এই প্রকল্প নিয়েই সুর চড়ালেন বিজেপি প্রার্থী অভিজিৎ। তাঁর শব্দচয়ন নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন অনেকে। সেই থেকে মাথাচাড়া দিয়েছে নতুন বিতর্ক।

abhijit ganguly on cpm

এদিকে অতীতে নাম না করে অভিজিৎকে নিশানা করেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতাও। তিনি বলেছিলেন, ‘চেয়ারে যখন বসেছিলেন সেই সময় ছিলেন কেউটে, এখন বাইরে বেরিয়ে গোখরো হয়ে গিয়েছে’। অভিজিতের নাম না নিলেও কারোর বুঝতে অসুবিধা হয়নি তিনি কাকে নিশানা করছেন। সম্প্রতি আবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তমলুকের পদ্ম প্রার্থী বলেন, ‘আমি খুব বিষাক্ত। চন্দ্রবোড়াও হয়ে যেতে পারি’।

Sneha Paul
Sneha Paul

স্নেহা পাল, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তরের পর সাংবাদিকতা শুরু। বিগত প্রায় ২ বছর ধরে বাংলা হান্ট-এর কনটেন্ট রাইটার হিসেবে নিযুক্ত।

সম্পর্কিত খবর