৬০ বছরের মধ্যে এই প্রথম করেছিলেন স্নান! তারপরেই মৃত্যু হল বিশ্বের সবচেয়ে নোংরা মানুষের

Published On:

বাংলা হান্ট ডেস্ক: অনেকেই নিজেদের মধ্যে থাকা বিশেষ গুণাবলীর মাধ্যমে বিভিন্নরকম রেকর্ড তৈরি করেন। ঠিক সেইরকমই এক রেকর্ডের অধিকারী ছিলেন তিনি। যদিও, আর পাঁচজনের তুলনায় সেই রেকর্ড ছিল এক্কেবারে আলাদা। মূলত, দীর্ঘ ৬০ বছর ধরে স্নান না করে “বিশ্বের সবচেয়ে অপরিষ্কার মানুষ” (World’s Dirtiest Man)-এর তকমা ছিল তাঁর কাছে। এমনকি, স্নান না করেই বহাল তবিয়তে ছিলেন তিনি। যদিও, নিয়মভঙ্গ হতেই ঘটল বিপদ। গত রবিবার ৯৪ বছর বয়সে মারা গেলেন বিশ্বের সবচেয়ে অপরিষ্কার মানুষ হিসেবে পরিচিত ইরানের বাসিন্দা আমাউ হাজী (Amou Haji)।

এই প্রসঙ্গে দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী জানা গিয়েছে যে, গত রবিবার ইরানের দেজগাহ গ্রামে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন হাজী। প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, হাজী একা একাই থাকতেন। এমনকি, অসুস্থ হওয়ার ভয়ে তিনি দীর্ঘ ৬০ বছর যাবৎ স্নানও করেন নি। যদিও, কয়েক মাস আগে তাঁর গ্রামের বাসিন্দারা জোর করে তাঁকে স্নান করিয়ে দেন। পাশাপাশি, সেই সংক্রান্ত একাধিক ছবি ভাইরালও হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়।

রাস্তার ধারে পড়ে থাকা মৃত পশুর মাংস খেতেন তিনি: ইটের তৈরি একটি খোলা কুঁড়েঘরে থাকতেন হাজী। জানা যায় যে, যুবক অবস্থায় তিনি বেশ কিছু খারাপ সময় অতিবাহিত করেন। যার ফলে তাঁর মস্তিষ্কও প্রভাবিত হয়। এমতাবস্থায়, তিনি অসুস্থ হয়ে যাওয়ার ভয়ে স্নান না করার সিদ্ধান্ত নেন এবং একটানা ৬০ বছর যাবৎ তাঁর সেই জেদও বজায় থাকে। এমনকি, তেহরান টাইমস-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, পশুর মলে ভরা পাইপ থেকে ধূমপানও করতেন হাজী। পাশাপাশি, সিগারেটের মাধ্যমেও তিনি ধূমপান করতেন।

মূলত, তিনি বিশ্বাস করতেন যে পরিচ্ছন্ন থাকলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়বেন। ইতিমধ্যেই তাঁর অদ্ভুত জীবনযাপনের ছবিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। এমতাবস্থায়, তাঁকে নিয়ে “দ্য স্ট্রেঞ্জ লাইফ অফ আমাউ হাজী” নামের একটি ছোট তথ্যচিত্রও ২০১৩ সালে তৈরি করা হয়।

অপরিষ্কারভাবে থাকলেও তিনি ছিলেন পুরোপুরি সুস্থ: জানা গিয়েছে, আমাউ জীবিত থাকাকালীন, তাঁর শরীরে কোনো পরজীবী আছে কি না তা জানতে একাধিক বিশেষজ্ঞ তাঁকে পরীক্ষা করেন। কিন্তু, অবাক করার মত বিষয় হল, তাঁর শরীরে কোনো রোগকেই খুঁজে পাওয়া যায়নি। এদিকে, অপরিষ্কারভাবে থাকা সত্বেও তাঁর এই সুস্থতার বিষয়টি অবাক করে দেয় গবেষকদের। পাশাপাশি, দেজগাহতে বসবাসকারী স্থানীয় গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন যে, হাজীর জীবনযাত্রা তাঁদেরকেও স্তম্ভিত করেছিল।

Sayak Panda

সায়ক পন্ডা, মেদিনীপুর কলেজ (অটোনমাস) থেকে মাস কমিউনিকেশন এবং সাংবাদিকতার পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কোর্স করার পর শুরু নিয়মিত লেখালেখি। ২ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলা হান্ট-এর কনটেন্ট রাইটার হিসেবে নিযুক্ত।

সম্পর্কিত খবর

X