বাংলা হান্ট ডেস্কঃ না আছে পানীয় জল, না স্বাস্থ্য পরিষেবা। নেই যাতায়াতের জন্য সামান্য রাস্তাটুকুও। দেশ স্বাধীন হওয়ার ৭৮ বছর পরেও পুরুলিয়ার এই দু’টি গ্রামে সময় যেন একেবারে থমকে গিয়েছে। শুধু ভোটের সময় রাজ্যের নেতা মন্ত্রীদের ঢালাও প্রতিশ্রুতিই সার। আজ পর্যন্ত কোনও নলকূপ বসেনি পুরুলিয়ার (Purulia) আড়ষা ব্লকের হেটগুগুই পঞ্চায়েতের দুই প্রত্যন্ত গ্রাম চুলাবানি ও হেটবেড়া’তে। এভাবেই বছরের পর একের পর এক সমস্যায় জর্জরিত এই গ্রাম।
পুরুলিয়ার (Purulia) এই গ্রামে পানীয় জল-রাস্তা কিছুই নেই
আজকের দিনেও পুরুলিয়ার (Purulia) এই গ্রামে পানীয় জলের এতটাই অভাব যে তেষ্টা মেটাতে স্থানীয়দের একমাত্র ভরসা পাহাড়ের গা থেকে চুঁয়ে পড়া জল। শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও এটাই সত্যি। জানা যাচ্ছে,পুরুলিয়ার এই গ্রামে মোট পঁচিশ থেকে ত্রিশটি পরিবারের বাস। শীত হোক বা গ্রীষ্ম প্রায় সারা বছরই জলের কষ্টে ভুগতে হয় এই গ্রামের বাসিন্দাদের। নলকূপ তো নেই-ই, আজ পর্যন্ত বসানো হয়নি পানীয় জলের সোলার পাম্প-ও।
পাহাড়ের গা থেকে চুঁয়ে পড়া জল থালায় করে তুলে হাঁড়ি, কলসি ভর্তি করে মাথায় নিয়ে বাড়ি ফিরতে হয় গ্রামবাসীদের। তাও আবার প্রায় ১ কিলোমিটার পথ হেঁটে বাড়ি ফিরতে হয় তাঁদের। পুরুলিয়ার (Purulia) এই দুই প্রত্যন্ত গ্রামে নেই কোনো স্বাস্থ্য পরিকাঠামো-ও। তাই মাঝরাতে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে অনেকটা পথ হেঁটে তাঁকে খাটিয়ায় করে কাঁধে বয়ে নিয়ে যেতে হয় হাসপাতালে।
আরও পড়ুন: ১ এপ্রিল থেকেই আসছে নতুন স্কিম! DA বৃদ্ধির আগেই ৫০% বাড়বে পেনশন
আসলে গ্রামে যাতায়াতের জন্য সামান্য রাস্তাটুকুও না থাকায় গ্রামের মধ্যে কোনো অ্যাম্বুলেন্স ঢোকে না। এরফলে চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিয়েই দিন কাটছে গ্ৰামের বাসিন্দাদের। একাধিক সরকারি সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত পুরুলিয়ার এই দুই গ্ৰাম। অথচ ভোটের সময় নেতামন্ত্রীরা এই গ্রামে এসেই প্রতিশ্রুতির বন্যা বইয়ে দেয়। অথচ পাল্টায় না এই গ্রামের চিরাচরিত ছবি।
এককথায় এই গ্রামের বাসিন্দারা প্রশাসনের কাছে শুধু ভোটার হিসেবেই থেকে গিয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে তাঁদের গ্ৰামে ঢোকার রাস্তা নির্মাণ করুক প্রশাসন। জলের জন্য স্থায়ী সমাধান ব্যবস্থা করা হোক। খনন করার হোক নলকূপ। কবে তাঁদের এই দাবি পূরণ হবে, আপাতত সেই দিকে তাকিয়ে গ্রামের সাধারণ মানুষ।