বাংলা হান্ট ডেস্ক: কয়েক বছর আগে পর্যন্ত অ্যাপলের যেসব যন্ত্রাংশ যেখানে চিন থেকে আসত, এখন সেই বিষয়টি সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হয়েছে। সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এখন ওইসব যন্ত্র ভারত (India) থেকে চিনে যাচ্ছে। যেটি প্রধানমন্ত্রী মোদীর “মেক ইন ইন্ডিয়া” ইনিশিয়েটিভের অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভারতে উৎপাদন বাড়ানোর জেরে অ্যাপল এখন আইফোন থেকে শুরু করে ম্যাকবুক, এয়ারপডস, ঘড়ি এবং অন্যান্য প্রোডাক্টের কম্পোনেন্টস চিন এবং ভিয়েতনামে রফতানি শুরু করেছে। এটি কেবল ভারতের জন্য একটি অর্থনৈতিক জয় নয়, বরং এটি গ্লোবাল ম্যানুফ্যাকচারিং পাওয়ার হাউস হওয়ার ক্ষেত্রেও ভারতের একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নয়া নজির গড়বে ভারত (India):
জানিয়ে রাখি যে, ভারত এখন অ্যাপলের ইলেকট্রনিক কম্পোনেন্টস রফতানি শুরু করেছে যা সরাসরি চিন এবং ভিয়েতনামে পাঠানো হচ্ছে। এটি একটি বড় অর্জন। কারণ এখনও পর্যন্ত ভারত (India) এই ধরণের বেশিরভাগ কম্পোনেন্টস আমদানি করত। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলে যাচ্ছে এবং মেক ইন ইন্ডিয়ার অসাধারণ সাফল্যের কারণে এটি সম্ভব হয়েছে। এদিকে, আইফোন ছাড়াও, অ্যাপল ভারতে ম্যাকবুক, এয়ারপডস, ঘড়ি, পেন্সিল সহ অনেক পণ্যের জন্য মেকানিক্স এবং এনক্লোজার তৈরির কাজ শুরু করেছে। Tata Electronics, Motherson Group, Jabil এবং Aequs-এর মতো কোম্পানি অ্যাপলের জন্য এই যন্ত্রাংশগুলি তৈরি করছে এবং চিন এবং ভিয়েতনামে পাঠানো হচ্ছে। যেখানে সেগুলিকে অ্যাসেম্বল করে ফাইনাল প্রোডাক্ট তৈরি করা হচ্ছে।
ভারত Apple-এর নতুন ম্যানুফ্যাকচারিং সেন্টারে পরিণত হয়েছে: ET-র রিপোর্ট অনুসারে, অ্যাপল এখন আইফোন ছাড়াও অন্যান্য পণ্যের জন্য ভারতে (India) একটি স্থানীয় সাপ্লাই চেইন তৈরি করছে। অ্যাপল ভারতে মেকানিক্যাল কম্পোনেন্টস এবং এনক্লোজার তৈরি করতে বেশ কয়েকটি ভারতীয় এবং বিদেশি সংস্থার সাথে যুক্ত হয়েছে। Jabil (পুণে, এয়ারপডের জন্য), Aequs (হুবলি, কর্ণাটক; ম্যাকবুকের জন্য) এবং Motherson Group (আইফোন এনক্লোজারের জন্য) এর মতো সংস্থাগুলি অ্যাপলের এই মিশনের অংশ হয়ে উঠেছে।
“মেক ইন ইন্ডিয়া”-র কারণে পরিস্থিতি বদলেছে: উল্লেখ্য যে, আগে ভারত (India) শুধু মোবাইল ফোন অ্যাসেম্বল করত। কিন্তু এখন এখান থেকে কম্পোনেন্টসও রফতানি হচ্ছে। এর মানে হল ভারত ধীরে ধীরে ইলেকট্রনিক্স ম্যানুফ্যাকচারিং হাব হয়ে উঠছে। অ্যাপলের এই উদ্যোগটি সমগ্র শিল্পের জন্য একটি গেম-চেঞ্জার হিসাবে প্রমাণিত হতে পারে। কারণ এটি ভারতে কম্পোনেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের একটি শক্তিশালী ইকোসিস্টেম তৈরি করবে।
আরও পড়ুন: ক্রিকেট অনুরাগীদের জন্য সুখবর! ফের হতে চলেছে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ, সামনে এল দিনক্ষণ
২০৩০ সালের মধ্যে রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ৩৫-৪০ বিলিয়ন ডলার: অ্যাপলের এই পদক্ষেপে, ভারতের (India) ইলেকট্রনিক্স কম্পোনেন্টস এক্সপোর্ট ২০৩০ সালের মধ্যে ৩৫ থেকে ৪০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে। ভারত সরকার এই সেক্টরকে উন্নীত করার জন্য ৩ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি একটি প্রোডাকশন লিঙ্কড ইনসেনটিভ (PLI) স্কিম চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
অ্যাপলের জন্য ভারত কেন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে: কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের ভাইস প্রেসিডেন্ট নীল শাহ এই প্রসঙ্গে ইকনোমিক টাইমস কে জানিয়েছেন, “অ্যাপল আর ভারতে (India) শুধু আইফোন বা ফাইনাল প্রোডাক্ট তৈরি করতে আসছে না, বরং ভারত থেকে কম্পোনেন্টসও রফতানি করছে। ভারত এখন চিন এবং ভিয়েতনামের সাথে একটি প্রধান ম্যানুফ্যাকচারিং বিকল্প হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে।” এমতাবস্থায় অ্যাপলের এই কৌশল চিনের ওপর নির্ভরতা কমাতে এবং সাপ্লাই চেইনে বৈচিত্র্য আনতে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আরও পড়ুন: সব দাদাগিরি শেষ! ভারতের অ্যাকশনেই সুর নরম চিনের, করে দিল বড় ঘোষণা
টাটা ইলেকট্রনিক্স সহ একাধিক ভারতীয় কোম্পানি বড় সুযোগ পেয়েছে: অ্যাপল ভারতে (India) তার ম্যানুফ্যাকচারিং নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের জন্য টাটা ইলেকট্রনিক্সকে যুক্ত করেছে। যার সাহায্যে আইফোন এনক্লোজার তৈরি করছে করা হচ্ছে। এছাড়াও, Jabil এবং Aequs-এর মতো কোম্পানিও এই মিশনের অংশ হয়ে উঠেছে।এদিকে, অ্যাপলের এই পদক্ষেপ “মেক ইন ইন্ডিয়া”-র দুর্দান্ত সাফল্য প্রমাণ করেছে। আগামী বছরগুলিতে ভারতের ইলেকট্রনিক্স ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টর আরও দ্রুত বৃদ্ধি পাবে। যা দেশের অর্থনীতিকে প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত করবে।
মেক ইন ইন্ডিয়া ১০ বছর পূর্ণ করেছে: জানিয়ে রাখি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২০১৪ সালের ১৫ অগাস্ট লালকেল্লা থেকে “মেক ইন ইন্ডিয়া”-এর রূপ রেখা সামনে আনেন এটি আনুষ্ঠানিকভাবে কয়েক সপ্তাহ পরে, অর্থাৎ ২০১৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বরে চালু হয়। এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য ছিল ভারতকে একটি গ্লোবাল ডিজাইন এবং ম্যানুফ্যাকচারিং হাবে তৈরি করা। গত এক দশকে এই মিশনের অধীনে ভারতের (India) ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টরে বড় ধরণের পরিবর্তন দেখা গেছে। তাই আজ, অ্যাপলের মতো বড় ব্র্যান্ডগুলি কেবল ভারতে তাদের প্রোডাক্ট তৈরি করছে না, বরং, এখান থেকে কম্পোনেন্টসও রফতানি করা হচ্ছে।