বাংলা হান্ট ডেস্ক: বর্তমান সময়ে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ক্রমশ শক্তিশালী হওয়ার চেষ্টা করেছে ভারত (India)। আর সেই লক্ষ্যেই একাধিক বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। এমতাবস্থায়, কেন্দ্রীয় সরকার চলতি মাসে ২৬টি রাফালে-মেরিটাইম স্ট্রাইক ফাইটার কেনার জন্য সবুজ সংকেত দিতে প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। আসলে সরকার প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ক্রয়ের ধারা বজায় রাখছে। ২০২৪-২৫ সালে, এনডিএ সরকার প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার জন্য ২ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি ব্যয় করেছে। জানিয়ে রাখি যে, রাফালে সামুদ্রিক বিমান এতটাই বিপজ্জনক এবং সক্ষমতা দিয়ে সজ্জিত যে এটি চিনের F-16 এবং J-20-র চেয়েও ভালো। এমন পরিস্থিতিতে, ভারতীয় নৌবাহিনীর এহেন শক্তি বৃদ্ধি নিঃসন্দেহে শত্রুদের ঘুম উড়িয়ে দেবে।
শত্রুদের ঘুম উড়িয়ে দেবে ভারত (India):
হিন্দুস্তান টাইমসের রিপোর্ট অনুযায়ী, ৭.৬ বিলিয়ন ডলারের ফাইটার প্লেন চুক্তিটি এই মাসের শেষের দিকে ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটি (CCS)-র সামনে রাখা হবে। যেখানে সংশ্লিষ্ট সকলের সর্বসম্মতিক্রমে ৩ টি অতিরিক্ত ডিজেল বৈদ্যুতিক সাবমেরিনের জন্য সরকারি অনুমোদন দেওয়া হবে বলেও জানা গিয়েছে।
নৌবাহিনীকে করা হবে শক্তিশালী: আসলে, সাগরে ভারতীয় নৌবাহিনীকে আরও বেশি শক্তিশালী করার জন্য ভারতের ২ টি বিমানবাহী রণতরীতে রাফালে-এম ফাইটার প্লেন ব্যবহার করা হবে। এর পাশাপাশি, অতিরিক্ত সাবমেরিনগুলি ভারত (India) মহাসাগর অঞ্চলে (IOR) প্রচলিত প্রতিরোধকে শক্তিশালী করবে। রাফালে মেরিনের ওজন প্রায় ১০,৩০০ কেজি। এটি ১ মিনিটে ১৮,০০০ মিটার উচ্চতায় পৌঁছতে পারে।
প্রচলিত রাফালে থেকে অনেকটাই আলাদা, মেরিন রাফাল তারা ডানা ভাঁজ করতে পারে। শুধু তাই নয়, সাবমেরিন শনাক্ত ও ধ্বংস করতে রাফালে মেরিনে উন্নত রাডার স্থাপন করা হয়েছে। এতে অ্যান্টি-শিপ মিসাইলও বসানো হবে। এছাড়াও এই বিমানগুলিতে মিটিওর, স্ক্যাল্প এবং হ্যামারের মতো ক্ষেপণাস্ত্রও থাকবে। এই বিমানটি Mach 2 গতিতে শত্রুকে আক্রমণ করতে সক্ষম। এটি স্টিলথ দিয়ে সজ্জিত। তাই এটি সহজেই শত্রুকে ফাঁকি দিতে পারে।
আরও পড়ুন: IPL-এ এবার পাণ্ডিয়া ঝড়! অধিনায়ক হিসেবে গড়লেন বিরাট ইতিহাস, ভাঙলেন ১৬ বছরের রেকর্ড
এক দশকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জামে ব্যয়: এই প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখি যে, ভারতের (India) প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ২০২৪-২৫ সালে ২,০৯,০৫৯.৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৯৩ টি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। যেখানে ২০২৩-২৪ সালে, ১,০৪,৮৫৫.৯২ কোটি টাকার ১৯২ টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক প্রায় ১০ লক্ষ কোটি টাকার ১,০৯৬ টি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।
আরও পড়ুন: আর নয় অপেক্ষা! ফের দাপট দেখাতে প্রস্তুত ভারতের “গোল্ডেন বয়”, মিলল বড় আপডেট
এদিকে, ভারতের প্রতিবেশী, বিশেষ করে চিন দ্বারা ৩,৪৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (LAC) বরাবর সীমান্ত পরিকাঠামোর অগ্রগতির পরিপ্রেক্ষিতে এবং ভারতীয় (India) উপমহাদেশের দেশগুলির দ্বারা গুরুতর রাজনৈতিক ও আর্থিক উত্তেজনার ইঙ্গিতের পরিপ্রেক্ষিতে, মোদী সরকার “আত্মনির্ভর ভারত”-এর ওপর দৃষ্টিনিক্ষেপ করেছে। এর আওতায় সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।