টাইমলাইনভারত

পুজোর আগে তিনটি বড় সিদ্ধান্ত নিল ভারত সরকার, কমতে চলেছে বহু জিনিসের দাম

বাংলা হান্ট ডেস্ক: আত্মনির্ভর ভারতের (Aatmanirbhar Bharat) প্রচারের লক্ষ্যে ৩টি বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। সোলার পিভি-র জন্য পিএলআই প্রকল্পের সম্প্রসারণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এছাড়াও সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের উপর আরও জোর দিয়ে সেটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার পাশাপাশি একটি জাতীয় লজিস্টিক নীতিও অনুমোদন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত সরকার।

এই সিদ্ধান্তগুলির জন্য দু’টি বড়সড় সুবিধা পাবে দেশ। প্রথমত, অন্যান্য দেশ থেকে আমদানি কমবে। ভারত রফতানির উপর বেশি জোর দিতে পারবে। পাশাপাশি, সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে ব্যবহৃত সেমিকন্ডাক্টর জাতীয় পণ্যের দাম কমবে। এ বিষয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর জানান, সোলার পিভি মডিউলগুলির দ্বিতীয় পিএলআই প্রকল্প অনুমোদন করেছে সরকার। এর জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ১৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। 

সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশে সৌর প্যানেল তৈরির কাজ বাড়বে। এছাড়াও অনেকটাই কমে যাবে আমদানির উপর নির্ভরতা। শুধু তাই নয়, ভারত এই জিনিস দেশে তৈরি করে বিদেশে রফতানি করার মতো জায়গায় থাকবে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে সেমিকন্ডাক্টর ও ডিসপ্লে ম্যানুফ্যাকচারিং ইকোসিস্টেমের উন্নয়নের জন্য সংশোধনীর অনুমোদন করেছে।  প্রযুক্তি নোড ও কমপাউন্ড সেমিকন্ডাক্টর এবং প্যাকেজিং ও অন্যান্য সেমিকন্ডাক্টরের সুবিধার জন্য ৫০ শতাংশ উদ্দীপক দেওয়া হবে। এর ফলে অন্তত ২ লক্ষ মানুষের সরাসরি কর্মসংস্থান হবে। একইসঙ্গে প্রায় ৮ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান হবে পরোক্ষ ভাবে।

প্রসঙ্গত, চিনের ‘জিরো করোনা’ নীতির জন্য গোটা বিশ্বে সেমিকন্ডাক্টরের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ক্রমশ ঊর্ধমুখী হয়েছে বেশ কিছু পণ্যের দাম। বিশেষত গাড়িশিল্প ও ইলেকট্রনিক্সে ব্যবহৃত বেশ কিছু জিনিসের দাম বেড়েছে অনেকটাই। ভারত যদি সেমিকন্ডাক্টর তৈরি করার একটি কেন্দ্র হতে পারে, তাহলে এই ঘাটতি অনেকটাই মিটিয়ে ফেলা সম্ভব।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় লজিস্টিক্স নীতিও অনুমোদিত হয়ে গিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গত ১৭ সেপ্টেম্বর জাতীয় লজিস্টিক্স নীতির উন্মোচন করেন। সেই সময় তিনি জানান, এই নীতির লক্ষ্য হল লজিস্টিক খরচকে অনেকটাই কমিয়ে আনা। এই মুহূর্তে জিডিপি-র ১৩ থেকে ১৪ শতাংশে রয়েছে এটি। এই নীতির মাধ্যমে সরকার লজিস্টিক্স পারফরম্যান্স ইন্ডেক্স র‍্যাঙ্কিং-এ ভারতের অবস্থানের উন্নতি করতে চায়। আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে শীর্ষ ২৫ দেশের মধ্যে শামিল হতে চায় ভারত। 

Related Articles