ফের শিল্পহারা বাংলা? তৃণমূলের বারংবার আদানিকে আক্রমণের জের, অনিশ্চিত তাজপুর বন্দরের ভবিষ্যৎ

Published On:

বাংলা হান্ট ডেস্ক : এই মুহুর্তে জাতীয় রাজনীতি তোলপাড় আদানি (Adani Group) কাণ্ডে। এই অবস্থায় মঙ্গলবার আবারও গৌতম আদানির (Goutam Adani) শিল্প গোষ্ঠীর সঙ্গে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এর পরই প্রশাসনিক মহলে জল্পনা শুরু হয় তাজপুরে (Tajpur Project) প্রস্তাবিত গভীর সমুদ্র বন্দরের ভবিষ্যৎ নিয়ে। সেই প্রকল্প নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছে আদানিরাই।

গত বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠানে রাজ্যের পক্ষ থেকে বেশ ঘটা করে তাজপুর প্রকল্পের সম্মতিপত্র আদানি গোষ্ঠীর কর্ণধার গৌতম আদানির পুত্র কর্ণের হাতে তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু হিন্ডেনবার্গের রিপোর্ট প্রকাশের পর আদানি গোষ্ঠীর সংস্থাগুলির শেয়ারে ধস নামে। মুছে যায় লগ্নিকারীদের বিপুল পুঁজিও। সেই সময় প্রশ্ন উঠে যায়, কী হবে তাজপুর বন্দরের ভবিষ্যৎ? জানা যাচ্ছে, আপাতত নতুন লগ্নি ও অধিগ্রহণ পরিকল্পনাগুলি আপাতত স্থগিত রাখছে আদানিরা।

এ দিন ওড়িশা রওনা হওয়ার আগে এক প্রশ্নের উত্তরে মমতা বলেন, ‘দেশ কয়েক জন চালাচ্ছে। ব্যাঙ্কগুলিতে টাকা থাকছে না। একশো দিনের কাজের টাকা দিচ্ছে না। অথচ কিছু মানুষ প্রচুর টাকা সংগ্রহ করছেন। এলআইসি, স্টেট ব্যাঙ্ক জ়িরো হয়ে গিয়েছে। আদানি থেকে মেহুল, তাদের প্রিয় বন্ধু। বিজেপি সরকার শুধুমাত্র তাদের জন্য কাজ করছে। এটা তাদের (কেন্দ্রের) জন্য মাইনাস টিআরপি এবং তারা এটার জন্য তারা ভুগবেই।’

তাজপুরে বন্দর পরিকাঠামো তৈরির কাজ একটুও এগোয়নি। হয়নি জমি অধিগ্রহণও। এই পরিস্থিতিতে আদানি গোষ্ঠীকে নিয়ে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরূপ মন্তব্যে আরও হতাশ তাজপুরের বাসিন্দারা। স্থানীয় যুবক কৌশিক মহাকুড় বলেন, ‘ঘটা করে বাণিজ্য সম্মেলনের মঞ্চ থেকে তাজপুরে বন্দর তৈরির দায়িত্ব আদানি গোষ্ঠীর হাতে তুলে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। আদানিদের হাল এমনিতেই খারাপ বলে শুনেছি। তারপর এখন মুখ্যমন্ত্রীই তাদের খারাপ বলছেন। এর পর তারা আর বন্দর তৈরি করবে তো!’

চন্দন বাড়ুই নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‘বন্দর হলে এলাকায় কর্মসংস্থান হবে। তবে কয়েক মাসেই আদানিদের প্রতি রাজ্য সরকারের মোহভঙ্গ হলে তা বেশ চিন্তার।’ রাজ্য সরকারের দাবি, সম্মতিপত্রর কারণে প্রকল্পের ভার এখন আদানিদের উপরে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তারা কাজ শুরু না করলে রাজ্য পদক্ষেপ করতে পারে। তার আগে রাজ্য নিজের অবস্থান থেকে সরলে সমস্যা বাড়বে।

সম্পর্কিত খবর

X