বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বছর ঘুরলে বাংলায় (West Bengal) বিধানসভা নির্বাচন। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী বছর এই একই সময় ভোট হতে চলেছে। পায়ের তলার মাটি শক্ত করতে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলি। তবে এরই মধ্যে এসএসসি ২৬০০০ চাকরি বাতিল (SSC Recruitment Scam)। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের রায়ে এক ধাক্কায় বাতিল হয়ে গেল SSC ২০১৬ সালের গোটা প্যানেল। যার জেরে চাকরি হারালেন প্রায় ২৬০০০ জন। এত গুলো মানুষ, পরিবারের ভবিষ্যত অনিশ্চিত, দায় কে নেবে? রাজ্য সরকারের দিকেই আঙ্গুল তুলছেন চাকরিহারাদের অধিকাংশ।
চাকরি বাতিলের প্রভাব পড়বে বাংলার ভোটে? West Bengal
এভাবে একধাক্কায় প্রায় ২৬০০০ চাকরি বাতিলের রায় সত্যিই ঐতিহাসিক। তবে এর আগেও অন্য রাজ্যের শিক্ষক নিয়োগ মামলায় গোটা প্যানেল বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। ঘটনাস্থল ত্রিপুরা। বাংলার পড়শী রাজ্যে তখন সিপিএম জমান। মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন মানিক সরকার। এই একই রকম ঘটনার শিকার হতে হয়েছিল কয়েক হাজার মানুষকে।
ত্রিপুরায় ২০১০ এবং ২০১৩ সালে দু’দফায় স্কুলশিক্ষার বিভিন্ন স্তরে ১০,৩২৩ জন শিক্ষক নিয়োগ করেছিল তৎকালীন বাম সরকার। তাতে অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। প্রথমে ত্রিপুরার আগরতলা হাই কোর্টে মামলা উঠলে গোটা প্যানেল বাতিল করে দেয় আদালত। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল তৎকালীন সরকার। তবে শেষরক্ষা হয়নি।
২০১৭ সালেই সুপ্রিম কোর্টে মামলা উঠলে গোটা প্যানেল বাতিল করে দেয় সর্বোচ্চ আদালত। বহাল থাকে হাইকোর্টের রায়ই। ঘটনাচক্রে, সে রাজ্যেও তার পরের বছরই ছিল বিধানসভা ভোট। শিক্ষাব্যবস্থায় এই ধাক্কার পর বিধানসভা ভোটে পরাজিত হয়েছিল বামফ্রন্ট। পড়ে গিয়েছিল মানিক-সরকার। তাহলে কী এই ২৬০০০ চাকরির প্রভাব পড়তে চলেছে এ রাজ্যের ভোটেও?
আগামী বছর বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন। ত্রিপুরার ঘটনার নিরিখে কী এই ‘ঐতিহাসিক’ রায় চাপ বাড়াবে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলের? কোনোভাবে কী মমতা সরকারের কাছেও এই ঘটনা উদ্বেগের? অনেকে বলছেন উদ্বেগ রয়েছে বলেই তো শিক্ষামন্ত্রী সহ অন্যদের ডেকে তড়িঘড়ি নবান্নে বৈঠক করলেন মমতা।
তবে ত্রিপুরার অনেক নেতার মতে, শুধু যে ১০০০০ চাকরি বাতিলের জন্য বাম সরকারের পতন ঘটেছিল তেমনটা নয়, আরও অনেক ফ্যাক্টর ছিল। তবে অবশ্যই এই চাকরি যাওয়ার প্রভাব পড়েছিল ২০১৮ সালের নির্বাচনে। আবার বিরোধীদের মতে ত্রিপুরায় যা হয়েছিল, এবার বাংলাতেও সেই একই ঘটনা ঘটতে চলেছে। পতন হবে মমতা সরকারের!
এখানে উল্লেখ্য, ত্রিপুরার মোট জনসংখ্যা কম-বেশি ৪০ লক্ষ। তার নিরিখে দশ হাজার চাকরি যাওয়ার বিষয়টি গোটা রাজ্যে অনেক বেশি প্রভাব ফেলেছিল। সেখানে দাঁড়িয়ে এ রাজ্যের জনসংখ্যা ১০ কোটিরও বেশি। তার মধ্যে এই ২৬০০০ চাকরি কী আদৌ কোনও প্রভাব ফেলতে পারবে? সেই নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
আরও পড়ুন: ‘কয়েকটা বদমায়েশকে মারতে গোটা গ্রাম জ্বালানো হল’! SSC মামলার রায়দানের পর ‘গল্প’ শোনালেন দেবাংশু
এই বিষয়ে আনন্দবাজার ডট কম কে ত্রিপুরার বাম সরকারের প্রাক্তন মন্ত্রী ভানুলাল সাহা বলেন, ‘‘ত্রিপুরা আর বাংলার এই চাকরি বাতিলের বিষয়ের মধ্যে ফারাক রয়েছে। আমাদের রাজ্যে প্রক্রিয়াগত ত্রুটি হয়েছিল। কিন্তু বাংলার ক্ষেত্রে টাকা-পয়সার বিনিময়ে নিয়োগ হয়েছে।’’ সবমিলিয়ে এই ২৬০০০ কাণ্ডের প্রভাব কী আদৌ শাসকদলের ভোটের ক্ষেত্রে পড়বে? পড়লে কিরূপ প্রভাব পড়বে? সবটাই বোঝা যাবে সময় এলেই।