বাংলা হান্ট ডেস্ক: বর্তমান সময়ে রীতিমতো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ওয়াকফ সংশোধনী আইন। শুধু তাই নয়, এই আইন তীব্র বিতর্কের মধ্যেই সংসদে পেশ হয়েছে। এমতাবস্থায়, সবকিছু ঠিক থাকলে এই বিলটি (Waqf Bill) পাস হতেও হয়তো আর বেগ পেতে হবে না কেন্দ্রকে। তবে চলুন, তার আগে জেনে নেওয়া যাক ওয়াকফ কী সেই সম্পর্কে!
ওয়াকফ বিল (Waqf Bill) সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
ওয়াকফ: সোজা কথায় বলতে গেলে, ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা ধর্মপ্রচার এবং সমাজের উন্নতির লক্ষ্যে যে সম্পত্তি দান করেন সেটাই ওয়াকফ হিসেবে বিবেচিত হয়। এই সম্পত্তি বিক্রি করা যায় না অথবা ব্যবসায়িক স্বার্থেও ব্যবহার করা যায় না। এর কারণ হল, ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন যে, ওয়াকফ মূলত ঈশ্বরেরই সম্পত্তি। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, বর্তমান সময়ে ওয়াকফ বোর্ডের কাছে সমগ্র দেশ জুড়ে ৮.৭ লক্ষেরও বেশি সম্পত্তি রয়েছে। যা বিস্তৃত রয়েছে ৯.৪ লক্ষ একর জুড়ে। এমতাবস্থায়, সামগ্রিক বিষয়টিতে অব্যবস্থাপনা, তদারকির অভাব এবং আইনি ফাঁকফোকর সামনে আসার কারণে সংশোধনীর প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
এদিকে, এই সংশোধনের (Waqf Bill) মাধ্যমে সেন্ট্রালাইজড ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সহ শক্তিশালী সরকারি তত্ত্বাবধান, কঠোর আইনি সুরক্ষা ও বিশ্বব্যাপী ভারতের তুলনার বিষয়টিকে স্পষ্ট করা যাবে। কারণ, অনেক মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে ওয়াকফ আইনের অভাব রয়েছে। শুধু তাই নয়, সেই দেশগুলির জনগণ বিক্ষিপ্ত নিয়মকানুনগুলির ওপর নির্ভর করেন। এমতাবস্থায়, ভারতের নতুন কাঠামো আধুনিক শাসনের জন্য একটি বিশ্বব্যাপী মানদণ্ড স্থাপন করতে সক্ষম হবে।
সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, সৌদি আরব, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের মতো দেশগুলির পথে না হেঁটে ভারত ওয়াকফের ক্ষেত্রে মহিলাদের প্রতিনিধিত্বকে সুনিশ্চিত করবে। এছাড়াও, বৈচিত্র্যের জন্য শিয়া, সুন্নি, বোহরা, আঘাখানি এবং অন্যান্য সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্তিও ঘটানো হবে। এই বিলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, নারীদের জন্য শক্তিশালী উত্তরাধিকার অধিকার, বৈষম্যের বিরুদ্ধে আইনি সুরক্ষা, ওয়াকফ সম্পত্তিতে ন্যায্য প্রবেশাধিকার ও ওয়াকফের ডিজিটাল রূপান্তর।
আরও পড়ুন: আর ভরসা নেই চিনে! ভারতকেই নিজেদের “সেন্টার” করতে চাইছে বিশ্বের জনপ্রিয় এই সংস্থা
এছাড়াও, প্রথমবারের মতো, ভারত এক্ষেত্রে একাধিক বিষয়ের প্রবর্তন করছে। যার মধ্যে রয়েছে, সেন্ট্রালাইজড ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন, রিয়েল টাইম সরকারি পর্যবেক্ষণ ও দখল এবং জালিয়াতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা। মূলত, কয়েক দশক ধরে ওয়াকফ সম্পদে চরম দুর্নীতি এবং অব্যবস্থাপনা সামনে আসায় এই বিল তৈরি করা হয়েছে। যার মুখ্য উদ্দেশ্য হল, ধর্মীয় সম্পদের অপব্যবহার বন্ধ করা, আধুনিক সর্বোত্তম বিষয়ের সাথে ওয়াকফ শাসনকে সামঞ্জস্য করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য স্থায়িত্বকে নিশ্চিত করা।
আরও পড়ুন: যে দল পরিচিতি দিল, সেই দলই এবার ছাড়তে চাইছেন জয়সওয়াল! সামনে এল কারণ
কেন সংশোধনী করা হচ্ছে: ইতিমধ্যেই এই প্রসঙ্গে সরকার জানিয়েছে যে বর্তমানে যে আইন কার্যকর রয়েছে সেক্ষেত্রে ওয়াকফের দখল করা জমি বা সম্পত্তিতে কিছুতেই পর্যালোচনা করার সুযোগ মিলছে না। এমতাবস্থায়, কারোর আপত্তি থাকা সত্ত্বেও ওয়াকফ বোর্ড জমি বা সম্পত্তি দখল করে রাখছে। তাই, বিজেপির তরফে স্পষ্ট দাবি করা হয়েছে যে ওয়াকফ সম্পত্তির সুবিধা একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী ভোগ করছে। যার ফলে প্রত্যক্ষভাবে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মুসলিমরা। তাই এই নতুন আইন (Waqf Bill) কার্যকর হলে তাঁরা উপকৃত হবেন।